wiliamsবিশ্বজোড়া টেনিস সমর্থকদের জন্য অন্যরকম এক রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে। সাত বছর পর আবার গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন ভেনাস ও সেরেনা উইলিয়ামস। দুই বোনের লড়াইটি রিচার্ড উইলিয়ামস আর ওরাসিন প্রাইসের জন্য বেশ আবেগের। এদিন কোন মেয়েকে সমর্থন করবেন তাঁরা? এটাই প্রথম নয়, এর আগে বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন উইলিয়ামস বোনেরা। গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালেই তাঁরা মুখোমুখি হয়েছেন এর আগে নয়বার। এমন রোমাঞ্চ আর আবেগ জাগানিয়া ‘ঘরের যুদ্ধ’ খেলার জগতে আরও অনেক আছে।

টেনিসে ‘গৃহযুদ্ধ’
ভেনাসের চেয়ে দুই বছরের বড় সেরেনা। বড় বোনের এক বছর পর পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু তাঁর। গ্র্যান্ড স্লামেও আগমন এক বছর পর। তবে ১৯৯৯ ইউএস ওপেন জিতে উইলিয়ামস পরিবারকে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি উপহার দেন সেরেনাই। ভেনাস প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জেতেন ২০০০ সালের উইম্বলডনে। সাফল্য আর অর্জনে বড় বোনের চেয়ে এগিয়ে সেরেনা। ভেনাস গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন সাতটি, সেরেনা ১৩টি। তবে মেয়েদের এককে মোট শিরোপার দিক থেকে আবার ভেনাসই এগিয়ে। জিতেছেন ৪৩টি শিরোপা। সেরেনার শিরোপা ৩৭টি।
টেনিস বিশ্বে ‘ঘরের যুদ্ধ’ আরও আছে। এগুলোর একটি প্যাট্রিক ও জন ম্যাকেনরোর লড়াই। ছোট ভাই প্যাট্রিক এমনিতে ভালোই খেলতেন। ক্যারিয়ারে ১৬টি দ্বৈতের শিরোপা জিতেছেন। আছে একটি একক শিরোপাও। কিন্তু সাত বছরের বড় জনের সামনে পড়লে কোনোভাবেই যেন পেরে উঠতেন না। একক, দ্বৈত, মিশ্র দ্বৈত মিলিয়ে জন ম্যাকেনরোর গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ১৭টি। ক্যারিয়ারে একক ও দ্বৈতের শিরোপা জিতেছেন ৭৭টি করে।
টেনিসের দ্বৈত প্রতিযোগিতায় বব ও মাইকের জুটি কিংবদন্তিতুল্য। যমজ ভাইয়েরা এক সঙ্গে জুটি গড়ে জিতেছেন ১১টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা বর্তমানে দ্বৈতের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছেন দুই ভাই। জুনিয়র টেনিসে কোনো টুর্নামেন্টে দুই ভাইকে একে অপরের বিপক্ষে খেলতে দিতেন না তাঁদের বাবা-মা। এক বছরের ছোট বড় অ্যান্ডি মারে আর জেমি মারে টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে বেড়ে উঠেছেন এক সঙ্গে। অনুশীলনও এক সঙ্গেই করতেন তাঁরা। তবে ব্রিটিশ তারকা মারে বড় ভাই জেমির বিপক্ষে পেশাদার টেনিসে প্রথম খেলেন ২০১৫ সালে, কানাডায় মন্ট্রিয়ল কাপে।

ফুটবলে ভাই বনাম ভাই
গত বছরের ইউরো জাকা পরিবারকে অন্য রকম এক অস্বস্তিতেই ফেলেছিল। গ্রানিত ও তওলান্ত জাকা দুই ভাইয়েরই জন্ম বাসেলে। কিন্তু গ্রানিত খেলেছেন জন্মভূমি সুইজারল্যান্ডের হয়ে। তাঁর এক বছরের বড়, ভাই তওলান্ত মাঠে নেমেছেন আলবেনিয়ার জার্সি গায়ে। গ্রুপ পর্বেই মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই ভাই। ইউরোপ সেরার লড়াই এই প্রথম দুই ভাইয়ের দ্বৈরথ দেখেছিল। সেই লড়াইয়ে অবশ্য জয় হয়েছে ছোট ভাই গ্রানিত জাকার। আলবেনিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন তাঁদের মা। একপাশে সুইজারল্যান্ডের পতাকা, অন্য পাশে আলবেনিয়ার—এমন একটি পোশাক পরেছিলেন তিনি। গত বছর চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বেও দুবার মুখোমুখি হয়েছিলেন আর্সেনাল ও এফসি বাসেলে খেলা দুই ভাই। দুটি ম্যাচই জিতেছে গ্রানিত জাকার আর্সেনাল। প্রমটি ২-০ গোলে, দ্বিতীয়টি ৪-১-এ।
বিশ্বকাপে দুই ভাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা প্রথম দেখেছে ২০১০ সালে। জার্মানির হয়ে খেলেছেন ডিফেন্ডার জেরোম বোয়াটেং। আর বড় ভাই কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং খেলেছেন ঘানার হয়ে। দুই ভাইয়েরই জন্মই অবশ্য জার্মানির বার্লিনে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচটি জিতেছিলেন ছোট ভাই জেরোম। ব্রাজিলের দুই ভাই থিয়াগো আলকানতারা আর রাফিনহা দুই দেশের হয়ে খেলছেন। তবে রাফিনহার ব্রাজিল আর আলকানতারার স্পেন এখনো মুখোমুখি হয়নি।
গত দুই দশকের মধ্যে ফুটবলে দুই ভাইয়ের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ সম্ভবত গ্যারি আর ফিল নেভিলের। দুজনই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব প্রকল্পে বেড়ে উঠেছেন। তবে ২০০৫ সালে ইউনাইটেড ছেড়ে এভারটনে নাম লেখান ফিল। যার মানে দাঁড়ায় তাঁকে মুখোমুখি হতে হবে বড় ভাই নেভিলের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পাঁচবার দেখা হয় দুই ভাইয়ের। এর মধ্যে দুজনেই দুটি করে ম্যাচে যাঁর যাঁর দলের অধিনায়কত্ব করেন। এই দুই ভাইয়ের লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। দুজনেরই দুটি করে জয়, বাকি ম্যাচটি হয়েছে ড্র।
বক্সিংয়ে ভ্লাদিমির ও ভিতালি ক্লিচকো আর ফর্মুলা ওয়ানে মাইকেল ও রালফ শুমাখারের দ্বৈরথও উল্লেখ করার মতো। ক্লিচকো ভাইয়েদের দুজনই সমানে সমান লড়াই করলেও কখনোই শুমাখারের ধারেকাছে আসতে পারেননি রালফ।

Advertisements