pm-hasina-boi-melaভাষার মাসের প্রথম দিন প্রতি বছরের মতো এবারো পর্দা উঠল ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭’। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতি বছর এই মেলা আয়োজন করছে বাংলা একাডেমি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনী স্মারকে স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনেরও উদ্বোধন করেন তিনি। মেলা উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বইমেলায় আসতে পারি না। এটা আমার অনেক বড় দুঃখ। সবাই যখন বইমেলায় আসে, আমি তখন আসতে পারি না। আমার ভীষণ ইচ্ছে করে বইমেলায়।’
সবাইকে বই পড়ার আহ্বানে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তো ডিজিটাল সময়। একসময় ছেলে যখন ছুটিতে বাড়ি আসতো তখন স্যুটকেসের কাপড়ের পাশে বেশিরভাগ অংশ জুড়ে থাকতো বই। ছুটি কাটিয়ে যাওয়ার সময় বইগুলো রেখে যেতো। সেগুলো অন্যদের পড়ার জন্য দেওয়া হতো। এখন সবাই আসে হাতে ডিজটাল যন্ত্র নিয়ে। এখন এই যন্ত্রটার মধ্যেই পুরো একটা লাইব্রেরি। ছাপানো বই পড়ার মাঝে আনন্দ আছে, সেটা ডিজটাল যন্ত্রের মধ্যে নেই। তাই আমি চাই, নতুন নতুন বই ছাপা হোক।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। বক্তব্য রাখেন- চীনের প্রখ্যাত গবেষক ও রবীন্দ্র-অনুবাদক ডং ইউ চেন, অস্ট্রিয়ার মেনফ্রেড কোবো, পুয়ের্তোরিকোর লুস মারিয়া লোপেজ, ভারতের চিন্ময় গুহ। প্রকাশকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মফিদুল হক, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত এবং অমর একুশের ঐতিহাসিক সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় ভাষা-আন্দোলনের অমর শহীদদের।
গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- কবিতায় আবু হাসান শাহরিয়ার, কথাসাহিত্যে- শাহাদুজ্জামান, প্রবন্ধ ও গবেষণায়- মোরশেদ শফিউল হাসান, অনুবাদ সাহিত্যে- ড. নিয়াজ জামান, মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্যে- এমএ হাসান, আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনীতে- নূরজাহান বোস এবং শিশুসাহিত্যে- রাশেদ রউফ। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার এবং বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন।
বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। তবে ছুটির দিন বেলা ১১টায় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকাল ৮টায় মেলা শুরু হবে।

Advertisements