প্রাকৃতিক সুগন্ধি


naturalairfreshenersসুগন্ধি প্রাকৃতিক উপাদানের নির্যাস থেকে আহরণ করা হয়ে থাকে। নানা ধরনের প্রাকৃতিক নির্যাস থেকে পাওয়া এসব সুগন্ধিরও আছে নানা প্রকারভেদ। সুগন্ধির উপাদান সজীব, ফুলেল, ওরিয়েন্টাল ও বিভিন্ন সুগন্ধযুক্ত কাঠ। তার মাঝে সজীব এবং ফুলেল সৌরভ দিনের বেলা এবং গ্রীষ্ম ও বর্ষাস্নাত সময়ের জন্য একদম সঠিক। কাঠ এবং ওরিয়েন্টাল সুগন্ধিগুলো রাতের বেলার জন্য এবং শীতের সময়ে ব্যবহার করা উচিত। এসব সুগন্ধি সাধারণত সজীব এবং ফুলেল সুগন্ধযুক্ত সুগন্ধির থেকে কিছুটা কড়া হয়ে থাকে। সুগন্ধি বা পারফিউমের ব্যবহারের চল পৃথিবীতে একদিনে তৈরি হয়নি। বহুকাল ধরে সুগন্ধির ব্যবহার চলে আসছে। সেই সুগন্ধির ধারা পরিবর্তিত হয়ে এখন চলছে বোতলজাত আধুনিক সুগন্ধিগুলো। পৃথিবীতে প্রায় কয়েক হাজার বছর আগে প্রথম সুগন্ধির ব্যাবহার শুরু হয়। এই বিপুল সময় আগে থেকেই মানুষ সুগন্ধি ব্যবহার করে আসছে।
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া একটি বিব্রতকর সমস্যা। ঘেমে পোশাকের হলদে দাগ পড়ে যায়। এছাড়া ঘামের দুর্গন্ধের কারণেও অনেক সময় বেড়ে যায় বিড়ম্বনা। অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে প্রাকৃতিকভাবে সুরভিত থাকতে ব্যবহার করতে পারেন হাতের কাছেই থাকা কিছু উপাদান।
লেবু : লেবু চাকা করে কেটে বগলে ঘষে নিন। এটি ঘাম নিয়ন্ত্রণ করবে ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে। পাশাপাশি আপনাকে রাখবে সুরভিত। তবে ওয়াক্স করার সঙ্গে সঙ্গে এটি লাগাবেন না। জ্বলুনি হতে পারে।
বেকিং সোডা : ১/৮ চা চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি রোল-অন হিসেবে ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
গোলাপজল : গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে নিন। এটি আপনাকে দিনভর রাখবে ঝরঝরে ও সুরভিত।
চন্দন : চন্দনে রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও আন্টিসেপটিক উপাদান যা প্রাকৃতিকভাবে আপনাকে রাখবে ঘামমুক্ত। শরীরের যেসব স্থানে ঘাম বেশি হয় সেসব স্থানে চন্দনের পেস্ট লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কমে যাবে অতিরিক্ত ঘাম।
শসা : শসার রস একটি পাত্রে ঢেকে ফ্রিজে রেখে দিন। তুলার বল ঠাণ্ডা শসার রসে ডুবিয়ে বগলসহ যেখানে ঘাম বেশি হয় সেখানে চেপে লাগান। কমে যাবে ঘাম।
আবার ঘরকে সুবাসিত রাখতে আজকাল অনেক কিছুই আমরা ব্যবহার করে থাকি। ঘরদোর পরিষ্কারের জন্য এয়ার ফ্রেশনার, সুগন্ধি মোমসহ নানা উপাদান ব্যবহার করা হলেও শরীরের জন্য এসব বেশ ক্ষতিকর বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা।
পাঁচদিন একটি ঘরে এসব সুগন্ধি ব্যবহারের ফলে কী পরিমাণ ক্ষতিকর কেমিক্যাল ঘরের মধ্যে থাকে, তা গবেষকরা দেখতে চেয়েছেন।  প্রতিটি ঘরেই লেবুর সুগন্ধিযুক্ত কেমিক্যালের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। এ কেমিক্যালের মাত্রা অন্যান্য ঘর থেকে এতটাই বেশি যে, বাতাসের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে মিশে ফরমালডিহাইড তৈরি করে। যেটি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে বলে তাদের ধারণা। তাই ঘরকে সুগন্ধময় রাখতে, টবে লাগান নানা ধরনের সুগন্ধি গাছ। ফুলের চাষ করা যেতে পারে ঘরের ভেতরেই। জানালাগুলো খুলে দিলে সে বাতাস যেমন ঘরে প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করবে, পাশাপাশি কৃত্রিমতা থেকে বের হয়ে শরীর থাকবে সতেজ। কাজেই যতই সুগন্ধির কথা বলুক না কেন সুগন্ধি বিক্রেতারা, তা যে আসলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর, সে বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখা দরকার।
তাই হাতের কাছের পাওয়া যায় এমন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরে সুরভিত আমেজ আনার উপায় জানিয়েছে ঘৃহসজ্জাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট।
স্প্রে: ভিনিগার প্রাকৃতিকভাবে বাতাসের দুর্গন্ধ দূর করে এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। ঘরে সতেজ অনুভূতি আনতে একটি খালি স্প্রের বোতলে একভাগ সাদা ভিনিগার ও চার ভাগ পানি মিশিয়ে ঘরে স্প্রে করুন। রান্না ঘরে খাবারের গন্ধ দূর করতে একটি বাটিতে খানিকটা ভিনিগার নিয়ে এক কোণে রেখে দিন। কেউ চাইলে লেবু অথবা কমলার খোসা এতে যোগ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে যে দিন শেষে এই খোসা সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলে পঁচে বাজে গন্ধ বের হতে পারে।
বেইকিং সোডা ছিটানো: যে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ দূর করতে বেইকিং সোডা বেশ কার্যকর। সব ধরনের দূর্গন্ধ দূর করলেও এটি অ্যাসিডিক উপাদানযুক্ত গন্ধ যেমন- ইউরিন বা ঘামের গন্ধ দূর করতে বিশেষ উপযোগী। এটি কাপড়, কার্পেট অথবা ঘর সাজানোর সামগ্রীর স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। এসব জিনিসের উপর খানিকটা বেইকিং সোডা ছিটিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে ভালোভাবে তা পরিষ্কার করে ফেলুন। জুতা, মোজা অথবা ব্যায়ামের পোশাকের দুর্গন্ধ দূর করতেও বেইকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন।
লেবু সেঁকা: রান্না ঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে সেঁকা লেবু সবচেয়ে ভালো কাজ করে। একটি লেবু দুই টুকরা করে তা ওভেনে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে বেইক করতে হবে। গন্ধ ছড়ানোর জন্য ওভেন বন্ধ করে তার দরজাটা খুলে রাখুন। এই উষ্ণ সুগন্ধ কেবল রান্না ঘরে নয় বরং সারা ঘরের বাতাসেই ছড়িয়ে যাবে।
ফুটিয়ে সুগন্ধি: রান্নাঘরের কিছু সামগ্রীর সাহায্যে নিজেই তৈরি করে নিতেন পারেন এয়ার ফ্রেশনার। মৌরি, জায়ফল, দারুচিনি, লবঙ্গ ইত্যাদির সঙ্গে কমলা ও লেবুর খোসা নিয়ে একটি পাত্রে পানি দিয়ে এক ঘণ্টা ফুটান। পানি বাষ্প হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সুগন্ধ রান্না ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। তরলটি ঠাণ্ডা হয়ে আসলে তা কোনো স্প্রের বোতলে ভরে প্রয়োজন মতো যে কোনো সময়ে ব্যবহার করতে পারেন।
পটপৌরি তৈরি করা: পটপৌরি কেবল দেখার সৌন্দর্য্যের জন্য নয় এটি এয়ার ফ্রেশনার হিসেবেও কাজ করে। সারা ঘরে আনন্দদায়ক ও মসলাযুক্ত গন্ধ ছড়িয়ে দেয়। রান্নাঘরের কড়া গন্ধও দূর হয়ে যায়। নিজের মতো এটি সাজিয়ে নিতে পারেন। কেউ চাইলে এতে শুকনা ফল, ভেষজ উপাদান, মসলা এবং যে কোনো এসেনিশিয়া তেল ব্যবহার করতে পারেন। ঘরে ফল ও মসলার পটপৌরি তৈরি করতে চাইলে কমলা অথবা আপেল পাতলা করে কেটে এক ঘণ্টা ধরে বেইক করতে হবে। তারপর আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে শুকিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে আসলে এর সঙ্গে দারুচিনি ও লবঙ্গ যোগ করে একটি বায়ুরোধী পাত্রে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর এটি ব্যবহার করা যাবে।
কফি ব্যবহার
– কিছু কফির দানা গুঁড়া বা বেইক করে নিন। এর সুগন্ধ ঘরের তীব্র দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।
– আপত্তিকর দুর্গন্ধ দূর করতে একটি বাটিতে সদ্য গুঁড়া করা কফি নিয়ে ঘরের এক কোণে রেখে দিন।
– দুর্গন্ধ দূর করতে ময়লার ব্যাগের নিচে কফির গুঁড়া রেখে দিতে পারেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s