hyderabad-testপঞ্চম দিনে কতটা সংগ্রাম করতে হবে তার একটা নমুনা চতুর্থ দিন শেষ বেলায় দেখেছে টাইগাররা। এক সেশনেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়েছে সফরকারীরা।ঐতিহাসিক হায়দ্রাবাদ টেস্টে ভারতের ছুড়ে দেওয়া ৪৫৯ রানের জবাবে চতুর্থ দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ১০৩ রান। ক্রিজে এখনও আছেন সাকিব (২১) ও মাহমুদউল্লাহ (৯)। বাংলাদেশ এখনও লক্ষ্য থেকে দূরে ৩৫৬ রানে।
ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে না পারায় খানিকটা চাপে আছেন মাহমুদউল্লাহ। নিজের খেলার ধরনের সঙ্গে আপস না করা সাকিব আল হাসান একবার বেঁচেছেন রিভিউ নিয়ে। ক্রিজে এখনও আছেন সাকিব (২১) ও মাহমুদউল্লাহ (৯)।ম্যাচের ফলাফল কোন দিকে যাচ্ছে তা বলা যাবে শেষ দিনেই।
দিনের শুরু ছিল স্বপ্ন নিয়ে। কিন্ত প্রথম ওভারেই এসেছে ধাক্কা। এরপর মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ সেঞ্চুরিতেও ভারতের বড় লিড। ফলো অন না করানো। এক সেশনেই দেড়শ রান তুলে ছেড়ে দেওয়া। তামিমের আরেকটি ব্যর্থতা। আবারও থিতু হয়ে সৌম্য ও মুমিনুলের বিদায়। বল ঘোরা শুরু। অশ্বিনের ছন্দ পাওয়া। স্বপ্ন দিয়ে শুরু দিনের শেষটা তাই শঙ্কায়।
প্রথম ইনিংসে নিজের ছায়া হয়ে থাকা অশ্বিনকে এবার নতুন বল দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বোলার দেখা গেল শুরু থেকেই ছন্দে। প্রথম আঘাতটাও তার। নিউ জিল্যান্ডের পর তামিমের ভারত সফরও শেষ হলো হতাশায়।
সৌম্য ও মুমিনুল চেষ্টা করেছেন লড়াইয়ের। বেশ কবারই বেঁচে গেছেন অল্পতে। এর ফাঁকে খেলেছেন দারুণ সব শটও। জুটি জমে যাওয়ার পরই ছন্দপতন। সৌম্যকে ডিফেন্সে সামনে টেনে আনলেন জাদেজা। ব্যাটের মুখ খোলা রেখে ডিফেন্স করে বাঁহাতি ওপেনার ক্যাচ দিলেন স্লিপে। ৪২ রানের ইনিংসটি হতে পারত আরও অনেক বড়!
যেমন বড় হতে পারত মুমিনুলের ২৭ রানে ইনিংস। শুরুর সমটা কাটিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অ্যাঙ্গেল বদলে অশ্বিন ওভার দা উইকেট আসতেই কাটা পড়লেন খুব বেশি সামনে না গিয়ে। বলটিও ছিল দারুণ।
সাকিব অবশ্য কথা রেখেছেন। খেলার ধরন বদলানোর বিন্দুমাত্র ছাপ ছিল না ব্যাটিংয়ে। যতক্ষণ ছিলেন, চালিয়ে খেলেছেন। শেষ দিনেও ভিন্ন কিছুর আশা করা বৃথা।
মাহমুদউল্লাহ টিকে গেছেন। এই ইনিংস শুধু ম্যাচ বাঁচানোর নয়, হতে পারে তার দলে জায়গা টিকিয়ে রাখার লড়াইও। একটি বড় ইনিংস না এলে নামতে পারে খড়গ।
শঙ্কার পিঠেই থকে সম্ভাবনা। সাকিব বিপজ্জনক পথেই হাঁটবেন। বাংলাদেশ কেবল প্রার্থনা করতে পারে, দিনটি হোক সাকিবের। জায়গা হারানোর দ্বারপ্রান্তে থাকা মাহমুদউল্লাহ হয়ে উঠুন ম্যাচ বাঁচানোর নায়ক!
শেষ দিনের বাস্তবতায় এসব আশার বিপরীতে আশাই কেবল ভরসা!
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৫৯ রান তুলেই চা বিরতিতে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। প্রথম ইনিংসে আগেই এগিয়ে থাকায় তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ রান। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুতগতিতে পুঁজি বাড়ানোর দিকেই মনোযোগী ছিল স্বাগতিকরা। যদিও খেলার ধারায় ৪ উইকেট তুলে নেয় সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সেই তাসকিনের আঘাতেই উইকেট হারায় ভারত। চতুর্থ ওভারে তাসকিনের বাইরের বল খেলতে গিয়ে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুরালি বিজয়। এই ওপেনার ফেরেন ৭ রানে। একওভার পর ফের আঘাত হানেন এই পেসার। এবার ফেরেন আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুল। খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার (১০)। দ্রুত গতিতে দুটি উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও আগ্রাসী মনোভাব থামায়নি ভারত। তৃতীয় উইকেটে সেই লক্ষ্যেই ৬৭ রানের জুটি গড়েন কোহলি-পূজারা। যদিও সেই জুটিতে আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। অবশ্য এর এক বল আগেই সুইপ করতে গিয়ে পরাস্ত হয়েছিলেন কোহলি। লেগ বিফোরের হাল্কা আবেদনও করেছিলেন সাকিব। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার।
কোহলি বিদায় নিলে তৃতীয় উইকেটে ৩৮ রান করেন পূজারা ও রাহানে। ধীরে ধীরে হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই জুটিকেও ভেঙে দেন সাকিব। তার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ২৮ রানে ব্যাট করতে থাকা রাহানে। হাফসেঞ্চুরি তুলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন চেতেশ্বর পূজারা। এছাড়া রবিন্দ্র জাদেজা ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ৬৮৭/৬ (ইনিংস ঘোষণা)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৮৮
ভারত ২য় ইনিংস: ২৯ ওভারে ১৫৯/৪ (ইনিংস ঘোষণা)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ৩৫ ওভারে ১০৩/৩ (লক্ষ্য ৪৫৯) (তামিম ৩, সৌম্য ৪২, মুমিনুল ২৭, মাহমুদউল্লাহ ৯*, সাকিব ২১*; ভুবনেশ্বর ০/১৪, অশ্বিন ২/৩৪, ইশান্ত ০/১৯, উমেশ ০/৯, জাদেজা ১/২৭)।

Advertisements