স্মার্টফোন আমাদের বোকা বানাচ্ছে!


smartphoneদৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ স্মার্টফোন। ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি অফিসের প্রয়োজনেও এখন এ ডিভাইস এড়িয়ে চলার উপায় নেই। কিন্তু এর ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নেতিবাচক দিক।
স্মার্টফোন ব্যবহার করে অভ্যস্ত যাঁরা, তাঁদের চিন্তাভাবনায় একধরনের আলসেমি তৈরি হয়। বিশ্লেষণমূলক চিন্তার সামর্থ্য ধীরে ধীরে কমে যায়। কারণ, আঙুলের স্পর্শেই অনেক জটিল কাজকর্ম সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় নিজে নিজে চিন্তা করার ব্যাপারটা অজান্তেই এড়িয়ে যান তাঁরা। আর এভাবেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা নিজের মস্তিষ্কের চেয়ে যন্ত্রের ওপরই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
জন্মদিন ভুলে যাওয়া নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে লড়াই এখন কম হয়। সে জন্য ফেসবুক তো আছেই। যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ করতেও এখন পকেট থেকে ফোন বের করে ক্যালকুলেটর অ্যাপে হিসাব কষতে হয়। এমন অনেক কিছুই এখন আর কেউ নিজের মস্তিষ্কে সংরক্ষণ করতে রাখতে চায় না। কারণ ওই একটাই। সকল কাজের কাজি স্মার্টফোন তো আছেই। চৌকস এই ফোন দিন দিন আরও চৌকস হয়ে উঠলেও তা যে আমাদের একই সঙ্গে বোকা বানাচ্ছে, তা নিয়েই এখন মাথা চুলকে মরছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটা গাড়িতে চড়ার মতো। বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য হাঁটার চেয়ে গাড়ির ব্যবহার নিঃসন্দেহে সহজ ও দ্রুততর উপায়। তবে তা যে ধীরে ধীরে নিজের দুই পায়ের ওপর থেকে আস্থা কমিয়ে দেয়, তা আমাদের মাথায় থাকে না। ঠিক একইভাবে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমালে এর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে চালকেরা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমসের (জিপিএস) দিকনির্দেশকের ওপর নির্ভর করে গাড়ি চালান, তাঁদের তুলনায় যাঁরা নিজের মস্তিষ্কের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে গাড়ি চালান তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি হয়। বিশ্লেষকেরা আরও বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তথ্য যেমন ভাই বা বোনের ফোন নম্বর বা স্থানীয় থানার ফোন নম্বর আমরা মনে রাখার চেয়ে আমাদের স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটে রেখে দিই কিংবা ইন্টারনেট থেকে সহজে কীভাবে পাওয়া যাবে তা রপ্ত করে ফেলি। বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা অনেকটা নিজের ব্যায়াম অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেওয়ার মতো।
প্রযুক্তিবিষয়ক লেখক নিকোলাস কার বলেন, ‘গুগলের সাহায্য নিয়ে আমরা যদি প্রতিনিয়ত সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুরু করি, তাতে হয়তো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে। কিন্তু তাতে আমরা সূক্ষ্ম ও গভীর চিন্তা করতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারব না।’ আরেকটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সর্বদা ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তারা বেশি মানুষের সঙ্গে থাকতে বিরক্ত অনুভব করে। তারা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়ার ফলে অন্য সবকিছুই তাদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দিন দিন স্মার্টফোন আমাদের মস্তিষ্কের দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্ষমতা কমিয়েও দিচ্ছে। পার্কে গিয়ে মুক্ত বাতাস আর পরিবেশ উপভোগ করার চেয়ে এখন ঘরের কোণে বসে ইউটিউবে মজার ভিডিও দেখাটাই আমাদের বিনোদন। আর এমন ডিজিটাল বিনোদনগুলোই আমাদের মস্তিষ্কের তথ্য ও অনুভূতি প্রক্রিয়াজাত করার অংশটুকু ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। এতে একসময় আমাদের মস্তিষ্ক গভীর চিন্তাশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হারাতে বসে।
সূত্র: টাইম

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s