‘শর্ত প্রযোজ্য’ শর্ত নিয়ে ধন্দে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা


mobile_operators_bangladeshমোবাইল সিম, ভয়েস কলের বিভিন্ন অফার, ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন শর্তের মুখোমুখি হতে হয়। বুঝে হোক বা না বুঝে হোক, এসব শর্ত মেনেও নেয় গ্রাহক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে না পড়েই তা মেনে নিয়ে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের পরে ব্যবহারের সময় নানা সমস্যায় পড়ে ‘সমস্যার বেড়াজাল’ সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি হয়। তখন সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে প্রতিকার চাইতে গেলে সমাধানের পরিবর্তে মনে করিয়ে দেওয়া হয় শর্তের কথা!
এছাড়া গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর লোভনীয় বিজ্ঞাপনের নিচে বিভিন্ন অফারের বেলায় ছোট আকারে লেখা থাকে ‘শর্ত প্রযোজ্য’। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লেখাটি এতো ক্ষুদ্র থাকে যে গ্রাহকের চোখ এড়িয়ে যায়। অনেক সময় বিজ্ঞাপনে শর্ত উল্লেখ থাকলেও ছোট আকার, দুর্বোধ্যতা এবং অনেক সময় ইংরেজিতে থাকায় তা বোধগম্য না হওয়ায় গ্রাহককে পড়তে হয় ধন্দে।
এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শর্ত থাকতেই হবে। তবে তা অবশ্যই বোধগম্য হতে হবে।’ তিনি জানালেন, পৃথিবীর সব দেশেই টেলিযোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে এ ধরনের শর্তের কথা উল্লেখ থাকে। ফলে বাংলাদেশেও থাকতে হবে। তবে শর্ত আরও বড় হরফে, পরিষ্কারভাবে এবং বাংলা ভাষায় হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এগুলো মেনে চললে গ্রাহক উপকৃত হবেন বলে আশা তার। মোবাইল ফোন অপারেটরদের ‘শর্ত প্রযোজ্য’ লেখার সময় আরও যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন অপারেটরদের শতাধিক প্যাকেজ রয়েছে। ফলে শর্ত প্রযোজ্য অপশন থাকতেই হবে।’
সম্প্রতি বিটিআরসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমিশনের মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রি. জেনারেল এমদাদ উল বারী বলেন, ‘শর্ত প্রযোজ্য ব্যাপারটা জিএসএম থেকে পরিষ্কারভাবে বলা আছে এবং ভোক্তা অধিকার আইনেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, প্রযোজ্য হওয়া শর্তগুলো স্পষ্ট অক্ষরে লিখতে হবে এবং স্পষ্টভাবেই ‘কমিউনিকেট’ করতে হবে। তবে ‘প্র্যাক্টিক্যালি’ আমরা মাঝে মধ্যে দেখি শর্তগুলোর ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটে। ‘ক্রিটিক্যাল’ শর্তগুলো অনেক সময় ছোট আকারে দেওয়া হয়। এটা আমরা নিজেরা মনিটর করে থাকি। বিশেষ করে গ্রাহকদের ওপরও নির্ভর করি। আমাদের যে শর্টকোড (২৮৭২) আছে সেখানেও আমরা অভিযোগ নিই এবং সে অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’
অনেক সময় হঠাৎ মোবাইল ফোন অপারেটর থেকে কল করে (মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে) বা এসএমএস পাঠিয়ে বিভিন্ন তারকার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া, দেখা করিয়ে দেওয়া বা ডিনারে আমন্ত্রণের অফারের প্যাকেজের কথা জানোনো হয় গ্রাহককে। সেখানেও থাকে শর্ত। অনেক সময় গ্রাহক অফারের ভেতর সুবিধাজনক কিছু না পেয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরের দেওয়া নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে বা কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ জানাতে গেলে মনে করিয়ে দেওয়া হয় ‘শর্ত প্রযোজ্য’র কথা।
অফার কিনে ঠিকমতো সেবা না পেলে গ্রাহকরা নিজেকে প্রতারিত হয়েছেন ভেবে থাকেন। এছাড়া বন্ধ সিম চালু করা বা সিম চালু করে ফিরে এলে-সহ নানান অফারের শেষেও লেখা থাকে ‘শর্ত প্রযোজ্য’। ফিরে এলে হয়তো একটা বড় ধরনের সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে, কিন্তু আরও কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে, ক’দিন পাওয়া যাবে, ক’দিনের মধ্যে সেই অফারের মেয়াদ বা ব্যবহারযোগ্যতা শেষ হবে; সেসব উল্লেখ না থাকায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাহকদের এই ‘শর্ত প্রযোজ্য’ শব্দদ্বয় নিয়ে হয়রানি বা প্রতারণার কথা লিখতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, অপারেটররা যদি এই বিষয়ে আরও যত্নবান হন বা শর্তগুলো ভালো করে বুঝিয়ে লিখে দেন তাহলে গ্রাহকের কোনও ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. গোলাম কুদ্দুসের দাবি, তার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বিজ্ঞাপনে ‘শর্ত প্রযোজ্য’ শব্দ দুটি বড় আকারে লেখা থাকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজ্ঞাপনে শর্ত প্রযোজ্য কথাটি বড় করে লেখা থাকে এবং শর্তগুলো বাংলায় থাকে। ফলে গ্রাহকের সঙ্গে ‘কমিউনিকেট’ করা সহজ হয়।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s