snek-cutএকবার, দুবার নয়। ১৮ বছরের জীবনে ৩২ বার সাপে কেটেছে তরুণীকে। কিন্তু তারপরও দিব্যি সুস্থ আছেন তিনি। আর তাতেই ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী আখ্যা দিয়ে ওই তরুণীকে এখন ‘সর্পদেবী’ মনে করতে শুরু করেছে গ্রামের মানুষ। ওই তরুণীর নাম মনীষা ভার্মা। বাড়ি ভারতের হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের সিরামাউরে।
তরুণী মনীষা জানান, ছোটবেলায় গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি নদীর পাড়ে প্রথমবার সাপে তাকে ছোবল দেয়। সেই সাপটির রং ছিল সাদা। প্রথমে ভয় পেলেও সাপের ছোবলে তাঁর মৃত্যু হতে পারে এমনটা ভাবেননি। সাপকে ছোট থেকেই ভালোবাসেন ওই তরুণী। প্রথমবার সাপে কাটার পর দুই বছর আর কোনো সাপে ছোবল দেয়নি তাঁকে। এরপর স্কুলে পড়ার সময় একাধিকবার সাপে কেটেছে তাঁকে। এমনকি দিনে দুই থেকে তিনবারও সাপে ছোবল মেরেছে ওই তরুণীকে। এ পর্যন্ত তাঁকে ৩২ বার সাপে কেটেছে বলে দাবি করেন ওই তরুণী। কিন্তু তারপরও দিব্যি সুস্থ রয়েছেন মনীষা। তাই এখন সাপ দেখলে আর মোটেই ভয় পান না তিনি। বরং সাপ দেখলেই হাতে তুলে নিয়ে আদর করেন।
এদিকে, গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, মনীষা ঐশ্বরিক কোনো শক্তির অধিকারী। তা না হলে এতবার সাপের ছোবল খাওয়ার পর কেউ বেঁচে থাকতে পারে না।
জানা যায়, তিনদিন আগে ফের সাপে ছোবল দিয়েছে মনীষাকে। স্থানীয় একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মনীষা।
এদিকে, বারবার সাপের ছোবল খাওয়ার এবং মনীষার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা একরকম স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছে তাঁর পরিবার।
মনীষার বাবা সুমের ভার্মা জানান, বারবার সাপের ছোবল খাওয়া মনীষার জীবনে রুটিন হয়ে গেছে। মনীষার মধ্যে ঐশ্বরিক কোনো শক্তি থাকার কারণেই বারবার তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে তাঁর বাবার বিশ্বাস।
তবে চিকিৎসকরা মনীষার ঐশ্বরিক শক্তির বিষয় মানতে মোটেও রাজি নন। তাঁদের দাবি, ওই এলাকার যেসব সাপ রয়েছে তার ৮০ ভাগই নির্বিষ। এর আগে মনীষাকে যেসব সাপে কেটেছে, তার বেশির ভাগই নির্বিষ বা কম বিষাক্ত প্রজাতির।
স্থানীয় অনেকের ধারণা, বারবার সাপের ছোবল খাওয়ার ফলে মনীষার দেহে বিষ নিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এ কারণেই সাপের ছোবলে তাঁর ক্ষতি হচ্ছে না

Advertisements