The use of salt1কেবল রান্না নয়, গৃহস্থালির পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা বজায় রাখতেও লবণ আবশ্যক। এছাড়া রূপচর্চার পাশাপাশি লবণের আরও বিভিন্ন ব্যবহার দৈনন্দিন নানা সমস্যার সমাধান করতে পারে দ্রুত। আসুন আজ অর্থসূচক পরিবার থেকে জেনে নেই লবণের কিছু ব্যবহার ও গুণের কথা –
পা ব্যথায়: অতিরিক্ত হাঁটলে বা ক্লান্তির কারণে পা ব্যথা হলে বালতিতে কুসুম কুসুম গরম পানি নিন। তাতে সামান্য পরিমান লবণ মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন দশ মিনিট। এতে ধীরে ধীরে ব্যথা কমে যাবে।
শাক-সবজি পরিষ্কার করতে: লবণে মাইক্রোবিয়াল বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে,যা আপনার সবজি পরিষ্কার করার জন্য একটি সস্তা উপায়।
টক কমাতে: টক ফল যেমন আম, জলপাই, করমচা, আমলকীর আচার আমরা তৈরি করে থাকি। এসব ফলের টক কমানোর জন্যও লবণ ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে সেদ্ধ করার সময় লবণ পানিতে মিশিয়ে নিলেই ফলের টক অনেক কমে যায়।
মাছ পরিষ্কার : মাছ পরিষ্কার করতে লবণ অত্যন্ত কার্যকরী। কিছু মাছ যেমন বোয়াল, পাঙ্গাশ, বাইম বেশ পিচ্ছিল থাকে। এ কারণে এগুলো কাটতে এবং পরিষ্কার করতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। তখন মাছে সামান্য পানি দিয়ে তাতে কিছুটা লবণ ছিটিয়ে দিন। এরপর নাড়াচাড়া করে পানিতে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন পিচ্ছিলভাব অনেকটাই কমে গেছে এবং কাটতে সুবিধা হচ্ছে।
কৃত্রিম ফুল ও পাতার পরিষ্কারের জন্য: একটি ব্যাগের ভেতর কৃত্তিম ফুল ও পাতা নিয়ে সেখানে এক কাপ লবণ দিয়ে রাখুন এবং এগুলোকে একসাথে ঝাঁকি দিতে থাকেন। এতে ফুল ও পাতার ময়লা এবং ধুলো অধিকাংশ মুছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
চামড়া থেকে দাগ অপসারণ করতে: ফল এবং উদ্ভিজ্জ দাগ সরানোর জন্য লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। অল্প পরিমাণে লবণ ও পানি আপনার হাতে নিন এবং তারপর স্টেইনলেস স্টীল উপর ঘষা শুরু করুন। দেখবেন দাগ ধীরে ধীরে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
লোহা পরিষ্কারের জন্য: আপনি লবণ এবং পোড়া কাঠকয়লার একটি মিশ্রণ তৈরি করে তাদের ঘর্ষণ দ্বারা তামা, পিতল ও সিলভারের মত ধাতু পরিষ্কার করে চকচকে করতে পারেন।
কাঠ পরিষ্কারের জন্য: কুসুম গরম পানির সাথে লবণ মিশ্রিত করুন এবং এই মিশ্রণ দিয়ে আপনার আসবাবপত্র পরিষ্কার করুন এবং তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
বোতল পরিষ্কারের জন্য : বাড়িতে সাধারণত প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হয় পানি সংরক্ষণের জন্য। কিন্তু প্লাস্টিকের বোতল চাইলেই গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যায় না। তাই প্লাস্টিকের বোতল পরিষ্কার করতে চাইলে বোতলে দুই-তিন টেবিল চামচ পরিমাণ পানি নিয়ে এতে এক টেবিল চামচ লবণ দিয়ে জোরে জোরে ঝাঁকাতে থাকুন। পাঁচ-ছয় মিনিট ঝাঁকানোর পর পরিষ্কার পানি দিয়ে বোতল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন পরিষ্কার হয়ে গেছে।
পিঁপড়ে দূর করতে: আপনার রান্নাঘর ও আশেপাশের সকল স্থানে লবণ ছিটিয়ে রাখতে পারেন। লবণ ছিটিয়ে রাখলে সেখানে পিঁপড়ে আসে না।
আগাছা মারার জন্য: আপনি যদি আগাছা বধ করতে চান তাহলে লবণ আপনার বাগানের উপকারে আসতে পারে। শুধুমাত্র আগাছার পাশে লবণ ছিটিয়ে দিন এবং তারপর তাদের টেনে তুলুন। এরা আবার জন্ম নিবে না।
দুধ তাজা রাখুন: অবিশ্বাস্য শোনা গেলেও, আপনি দুধে একটি চিম্টি লবণ যোগ করলে দেখবেন যে, তা সহজে নষ্ট হবে না।
নোংরা গন্ধ দূর করতে: আপনি পুরানো ও বাসি গন্ধ দূর করার জন্য লবণের ব্যবহার করতে পারেন। যে সকল স্থানে দুর্গন্ধ হয়, সেখানে প্যাকেটে করে লবণ রাখুন। দেখবেন সে সকল স্থানে কোন গন্ধ থাকবে না।
মাছ বা পেঁয়াজ-রসুন কাটার পর হাতে গন্ধ হয় অনেক। এসব গন্ধ সাবান দিয়ে ধুলেও যায় না। কিন্তু এ গন্ধ দূর করতে আপনি হাতে লবণ মেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর হাত ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন গন্ধ চলে গেছে।
শক্তিশালী দাঁতের জন্য: আপনার টুথপেষ্ট এর সাথে নিয়মিত লবণ ও সরিষার তেল মিশিয়ে দাঁত মাজুন। এতে আপনার দাঁত ও মাড়ির সকল প্রকার রোগ দূর হবে।
ডিম সেদ্ধ করার পানিতে ১ চা চামচ লবণ দিন। ডিমের খোসা ছাড়াতে পারবেন দ্রুত।
অলিভ অয়েলের সঙ্গে বলন মিশিয়ে তৈরি করুন স্ক্রাব। এটি ত্বকের মরা চামড়া দূর করবে।
কাপ থেকে চা অথবা কফির দাগ উঠতে না চাইলে ১ চা চামচ লবণ ও ১ চা চামচ ভিনেগার দিন। কয়েক ঘণ্টা রেখে তারপর কাপ পরিষ্কার করুন। দূর হবে দাগ।
কাপ থেকে চা অথবা কফির দাগ উঠতে না চাইলে লবণ ব্যবহার করুন
কুসুম গরম পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে চুলে স্প্রে করুন। উজ্জ্বল হবে চুল। এছাড়া মাথার ত্বকে লবণ ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেললে দূর হবে খুশকি।
মাছের আঁশ ছাড়ানোর আগে ৫ মিনিট লবণ পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। সহজ হবে আঁশ ছাড়ানো।
জিন্স ধোয়ার সময় পানিতে এক কাপ লবণ মিশিয়ে নিন। জিন্সের রং ফ্যাকাসে হবে না।
বরফ দ্রুত গলানোর প্রয়োজন হলে লবণ-পানি দিন।
বাগানের আগাছা দূর করতে ৩ ভাগ গরম পানির সঙ্গে ১ ভাগ লবণ মেশান। মিশ্রণটি যেখানে আগাছা অথবা অপ্রয়োজনীয় ঘাস জন্মে, সেখানে ঢালুন।
কার্পেট পরিষ্কার করার জন্য রাতে লবণ ছিটিয়ে দিন। পরদিন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

Advertisements