সাত বছর পর ডাম্বুলায় নামছে বাংলাদেশ


CRICKET-SRI-BANপ্রায় সাত বছর পর শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নামার অপেক্ষায় টাইগাররা। শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট সিরিজে দারুণ সময় কাটিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচটি হেরে গেলেও সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পেয়েছে ৪ উইকেটের দারুণ জয়। স্মরণীয় করে রেখেছে শততম টেস্ট। এবার ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন মাশরাফি-মুশফিকরা। কলম্বোতে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন আছেন ডাম্বুলায়। এখানেই ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। প্রথম দুই ওয়ানডে (২৫ ও ২৮ মার্চ) গড়াবে এই ভেন্যুতে। দু’টি ম্যাচই শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়।
টানা পাঁচটি টেস্ট (নিউজিল্যান্ড, ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফরে) খেলার পর মুশফিকদের সামনে একদিনের ক্রিকেট মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। টেস্ট সিরিজের মতো ওয়ানডে সিরিজেও লড়াইটা জমজমাট হবে বলেই আশা ক্রিকেটপ্রেমীদের। প্রস্তুতি ম্যাচেও মিলেছে তেমন আভাস। ৩৫৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের বন্দরে প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিলেন মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহরা। কলম্বোয় গত বুধবারের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে লঙ্কানদের ৩৫৫ রান তাড়া করতে নেমে ৩৫২ করে মাশরাফির দল।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দু’টি ওয়ানডে যেহেতু ডাম্বুলায় সেক্ষেত্রে ভেন্যুটির পরিসংখ্যান তুলে ধরা যাক। যা একেবারেই বাংলাদেশের বিপক্ষে! তাতে কী! কলম্বোর পি সারা ওভালে আগের তিন ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হারের দুঃস্মৃতি এখন তো কেবলই অতীত। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে শততম টেস্ট জিতে কলম্বো টেস্ট স্মরণীয় করে রেখেছে টিম বাংলাদেশ। ডাম্বুলায় এর আগে কখনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচ খেলা হয়নি টাইগারদের। সবশেষ ২০১০ সালের জুনে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের তিন ম্যাচেই ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষ হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন সাকিব-মুশফিক-মাশরাফিরা।
সেটা অনেক আগের কথা। সময়ের পরিক্রমায় ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পরিণত শক্তি টাইগাররা। টেস্ট সিরিজে সাফল্যের পর ওডিআইতেও জয়োল্লাস দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগণিত ভক্ত-সমর্থকরা। এ সিরিজ দিয়ে মাশরাফিদের সামনে লঙ্কানদের টপকে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ। জিততে হবে তিন ম্যাচেই। ২-১ সিরিজ জিতলেও আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। বাংলাদেশের ২ রেটিং পয়েন্ট বাড়ার বিপরীতে ১ রেটিং পয়েন্ট হারাবে শ্রীলঙ্কা। ব্যবধান কমে দাঁড়াবে চারে। বর্তমানে দু’দলের রেটিং পয়েন্ট যথাক্রমে ৯৮, ৯১।
মুখোমুখি লড়াইয়ে যোজন যোজন এগিয়ে লঙ্কানরা। ৩৮ ম্যাচের মধ্যে ৩৩টিতেই জয় পায় তারা। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। তবে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসে বাড়তি পারদ যোগাচ্ছে শ্রীলঙ্কার মাটিতে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজের ফলাফল। চার বছর আগে পাল্লেকেলের তৃতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়েছিল মুশফিকের নেতৃত্বে খেলা বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় ১-১ (দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত) সমতায়।

হঠাৎই ওয়ানডে দলে মিরাজ
Mehedi-Hasan-Mirazশ্রীলঙ্কায় টেস্ট খেলে মাত্র দুদিন হলো দেশে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ২৭ মার্চ থেকে কক্সবাজারে শুরু হতে যাওয়া ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের জন্য। কিন্তু মিরাজের খেলা হচ্ছে না এই টুর্নামেন্ট। তাঁকে হঠাৎই ডেকে পাঠানো হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। ওয়ানডে সিরিজে খেলার জন্য।
আজই শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর কথা মিরাজের। তবে তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে কেউ বাদ পড়ছেন না। মিরাজকে নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলটা দাঁড়াল ১৭ সদস্যের। ইমার্জিং কাপে বাংলাদেশ দলে মিরাজের জায়গায় সুযোগ পাচ্ছেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান।
মিরাজের আকস্মিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে দলে পাঁচজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আছে। একজন বিশেষজ্ঞ অফ স্পিনারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাদের চাহিদা অনুযায়ী মিরাজকে দলে নেওয়া।’
ওয়ানডে দলে মিরাজ যোগ হওয়ায় কিছুটা দুর্বল হয়েছে ইমার্জিং কাপের বাংলাদেশ দল। তবে মিনহাজুল জাতীয় দলের প্রয়োজনীয়তাকেই বড় করে দেখছেন, ‘একটু দুর্বল তো হয়েছেই। তবে জাতীয় দলের প্রয়োজনীয়তা আমাদের আগে দেখতে হবে।’
মিরাজের পাদপ্রদীপে আসা গত বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ দিয়ে। ৫০ ওভার ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টে তাঁকে দেখা গেছে দুর্দান্ত এক অলরাউন্ডার হিসেবে। যদিও মিরাজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে টেস্ট দিয়ে। ৭ টেস্টে ৩৫ উইকেট নিয়ে এরই মধ্যে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন দুর্দান্ত এক অফ স্পিনার হিসেবে। এবার মিরাজের ওয়ানডে রাঙানোর পালা।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে স্কোয়াড
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রথমে ১৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরপর অবশ্য শ্রীলঙ্কায় উড়িয়ে নেওয়া হয় মেহেদী হাসান মিরাজকেও। এখন বাংলাদেশ দল হয়েছে ১৭ সদস্যের।
১৭ সদস্যের বাংলাদেশের স্কোয়াড :
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাশীষ রায়, সানজামুল ইসলাম, শুভাগত হোম, নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
শ্রীলঙ্কার ১৫ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াড :
নিরোশান ডিকভেলা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, কুশল মেন্ডিস, আসেলা গুনারতেœ, দিনেশ চান্দিমাল, কুশল পেরেরা (প্রথম দুই ওয়ানডে থেকে ছিটকে গেছেন) দানুস্কা গুনাথিলাকা, সুরাঙ্গা লাকমাল, লাহিরু কুমারা, ভিকুম সঞ্জয় বান্দারা, থিসারা পেরেরা, সচিথ পাথিরানা, সেকুজে প্রসন্ন ও লাকসান সান্দাকান।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s