CRICKET-SRI-BANপ্রথম ওয়ানডেতে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেই বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে দলের খেলোয়াড়রা বেশ আত্মবিশ্বাসী। আগের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ডাম্বুলাতেই সিরিজ জেতা সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ম্যাচের ধারা অব্যহত রেখে সিরিজ নিশ্চিত করার সুযোগ টাইগারদের সামনে। মাশরাফি অবশ্য মনে করছেন, ডাম্বুলাতেই সম্ভব সিরিজ জয়, ‘অবশ্যই। সেই সম্ভাবনা আছে। তার জন্য প্রথম ম্যাচে যেভাবে খেলেছি সেভাবেই খেলতে হবে।’
অবশ্য এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখনো সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে খেলা ৩৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৫টিতে জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে ২০০৬ সালে ঘরের মাঠে একবার দরুণ সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করে লাল-সবুজের দল।
এবার সিরিজ জিততে আশাবাদী মাশরাফি, ‘আমরা যদি সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারি তাহলে ডাম্বুলাতেই সিরিজ জেতা সম্ভব। প্রথম ম্যাচে ঠিক যেভাবে খেলেছিলাম এবারও সেভাবে খেলতে হবে। খেলোয়াড়দের প্রতি আমার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে, তারা পারবে নিজেদের মেলে ধরতে।’
প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে সহজে হারালেও মাশরাফি মনে করেন দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন লড়াই করতে হবে। তাইতো আগের ম্যাচ থেকে যতটা সম্ভব প্রত্যেককে সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে, ‘আমার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারলেই জিতব।’ তবে শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশা করছেন মাশরাফি, ‘এটাসত্য তারাও অনেক জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করবে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে। তারা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে। অবশ্যই তারা চাইবে প্রথম থেকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে এবং যেটা তারা খেলতে পারেও।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রথম ম্যাচের আগে বলেছিলাম আমাদের পরিকল্পনাগুলো ঠিকমতো প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম ম্যাচে যেটা হয়েছে সেটা ভুলে আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে।’
শ্রীলঙ্কা কুমারা সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়বর্ধনে হারিয়ে কিছুটা খর্বশক্তির দল হলেও মাশরাফি মানেন না সেটা, ‘ওদের দুইহজন সেরা ক্রিকেটার সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে অন্য পর্যায়ের ক্রিকেটার ছিলেন। তারপরও ওয়ানডেতে ওদের যারা আছে তারা ভালো খেলোয়াড়। উপুল থারাঙ্গা, দিনেশ চান্ডিমাল, থিসারা পেরেরাসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যারা দীর্ঘদিন খেলছে। আমরা যখন ওদের অবস্থায় ছিলাম তখন কিন্তু আমরাও অনেক দলকে হারিয়ে দিয়েছে। এটা ওয়ানডে ক্রিকেটে হয়। উজ্জীবিত হয়ে যারা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে তাদের সুযোগ থাকে।’
ঘরের মাঠে ভালো খেলার পর বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল নিউজিল্যান্ড সফর। সেখানে সাফল্য না পেলেও শ্রীলঙ্কাতে এসে সাফল্য ধরা দিয়েছে বাংলাদেশের। মাশরাফি মনে করেন এটা মাত্র শুরু। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যহত থাকবে আরও, ‘ইংল্যান্ড সিরিজের পর থেকেই বলেছিলাম, নিউজিল্যান্ড সফর থেকে আমাদের ভিন্ন চ্যালেঞ্জ শুরু হবে। নিউজিল্যান্ডে আমরা সুযোগ তৈরি করেও জিততে পারিনি। এখানে এসে আমরা প্রথম ম্যাচ ভালো করেছি। দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচও জিতেছি। প্রথম ওয়ানডে জিতেছি। আমার যেটা মনে হয় ধীরে ধীরে আমরা বিদেশের মাটিতে উন্নতি করছি। বাইরের দেশে গিয়ে একেবারেই সব জেতা যাবে না। এ উন্নতি হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় শ্রীলঙ্কার
সিরিজে টিকে থাকতে হলে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিততেই হবে শ্রীলঙ্কাকে। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য শ্রীলঙ্কা কতটা মরিয়া, সেটির প্রমাণ আকস্মিকভাবে দুই পেসারের অন্তর্ভুক্তি।সব মিলিয়ে চাপে থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যায় লঙ্কান ম্যানেজার অশাঙ্কা গুরুসিংহের। খেলোয়াড়রা প্রস্তুত জানালেন দলের এ কর্মকর্তা, ‘আমাদের চেয়ে বাংলাদেশ মানসিকভাবে এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে। তারপরও আমাদের ছেলেরা প্রস্তুত। পরিকল্পনাগুলো ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে আশা করি ম্যাচটি জিততে পারব। আমরা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দিকে তাকিয়ে আছি। ছেলেরা খাটছে। আশা করি কালকের (মঙ্গলবার) ম্যাচে সবাই মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে।’
টাইগারদের বিপক্ষে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা। এর আগে পেস বিভাগে শক্তি বাড়িয়েছে স্বাগতিকরা।
লঙ্কান বোলিং লাইনআপের দৈন্যদশা কাটাতে দলে যোগ দিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার নুয়ান কুলাসেকারা, সঙ্গে স্কোয়াডে আরও যোগ দিয়েছেন টেস্ট পেসার হিসেবে পরিচিত নুয়ান প্রদীপ। মূলত পেস বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ এই দুই পেসারকে দলে ডাকা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো পারফর্ম করতে পারেননি বলে বাদ দেওয়া হয়েছিল কুলাসেকারাকে। অভিজ্ঞ এই পেসারকে আবারো ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
প্রথম ম্যাচে সাকিবের নেওয়া জোরালো শটে বল আটকাতে গিয়ে হাতে ব্যথা পান পেসার সুরঙ্গা লাকমাল। পুরোপুরি ফিট না হওয়াতে দ্বিতীয় ম্যাচে তার একাদশে থাকা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

Advertisements