Syria Chemical Attackসিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের রাসায়নিক হামলা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক প্রতিবেদনে রাশিয়া হামলার জন্য সিরীয় বিদ্রোহীদের দায়ী করলেও তা ধোপে টিকেনি। পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো গ্যাস হামলার জন্য রুশ মিত্র সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ সরকারকেই দায়ী করেছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সিরীয় বিদ্রোহীদের এক কমান্ডার ও অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ওই হামলা চালিয়েছে। তবে সিরীয় বাহিনী রাসায়নিক হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সিরীয় ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে বসেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় ত্রাণ-সহায়তা নিয়ে আলোচনা ৭০টি দাতা দেশের আলোচনা ম্লান হয়েছে ব্রাসেলসে। জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক স্টিফেন ও ব্রায়েন বলেছেন, বুধবার আরো পরের দিকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশে সম্ভাব্য রাসায়নিক হামলায় ২০শিশুসহ অন্তত ৭২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরো ৪ শতাধিক।
ইদলিব খান শেইখোনের ওই গ্যাস হামলার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুসহ অনেক বেসামরিক নাগরিক পড়ে আছেন। এদের অনেকের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা বিমান হামলার লক্ষ্য হয়েছিলেন। আহত অনেকের চিকিৎসা চলছে দেশটির সঙ্গে তুরস্ক সীমান্তের কাছে।
আহত এক নারী বলেন, আমরা গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছিলাম। আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। মাথা ঝিমঝিম করছিল এবং অসুস্থ হয়ে পড়ি। শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়েছিল। আমি নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, হতাহতদের অনেকের শরীরে বিষাক্ত নার্ভ অ্যাজেন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

যা বলছে রাশিয়া
সিরিয়া প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম মিত্র রাশিয়া বলছে, খান শেইখোনে সিরীয় বিমান থেকে হামলা হয়েছে। ইরাকের সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত রাসায়নিক গুদামে চালানো বিমান হামলা থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এলগর কনোশেনকভ বলেন, ‘মঙ্গলবার সিরিয়ার স্থানীয় সময় সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ইদলিবের খান শেইখোনের উপকণ্ঠে সন্ত্রাসীদের বৃহৎ একটি রাসায়নিক গুদামে সিরীয় বিমান থেকে হামলা হয়েছে।’

পশ্চিমা বিশ্ব যা বলছে
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, হামলার সব তথ্য-উপাত্ত আসাদ সরকারের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ঘটনায় শিগগিরই একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বর্বর রাসায়নিক হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যা ঘটনা তা  পরিষ্কার করার জন্য যত শীঘ্র সম্ভব রাশিয়ার সব কিছু করা উচিত। সিরীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফ্রি ইদলিব আর্মির কমান্ডার হাসান হজ আলী বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, গ্যাসসহ বোমা হামলায় ব্যবহৃত বিমানটি প্রত্যেকেই দেখেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, শহরটিতে সেনাবাহিনীর অবস্থান নেই; তবে ওই এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। এদিকে গ্যাস হামলা নিয়ে রাশিয়ার প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা সমালোচনার মুখে পড়েছে।

রাসায়নিক হামলার জন্য আসাদ সরকারকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র
রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ কর্ণেল হ্যামিশ ডে ব্রেটন গর্ডন বিবিসিকে বলেছেন, রাসায়নিক হামলা নিয়ে রাশিয়ার দাবি অত্যন্ত কাল্পনিক। হামলায় নার্ভ গ্যাস যেমন সারিন ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসাদ সরকারের এই ঘৃণ্য কাজের নিন্দা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক
সিরিয়ায় রাসয়নিক হামলায় শিশুসহ ৭০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। স্থানীয় সময় বুধবার (৫ এপ্রিল) সকালে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ কার্যালয়ে এ জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। তবে রাসায়নিক হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। একই সঙ্গে এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য বিদ্রোহীদের দায়ী করেছেন তিনি। এ হামলার জন্য সিরিয়ার সরকারকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর সরকার বিদ্রোহীদের বিমান হামলাকে দুষছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইদলিব প্রদেশে রাসায়নিক অস্ত্র কারাগারে গ্যাস হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ডজন খানেক শিশুসহ প্রায় ৭০ জন নিহত হয়।
২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় আসাদ সরকার উৎখাত করার লক্ষ্যে দেশটিতে সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধ চলে আসছে। গত পাঁচবছরে দেশটিতে ৬০ লাখ মানুষ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হয়েছে। গৃহযুদ্ধে নিহত হয়েছে দুই লক্ষাধিক মানুষ।

Advertisements