hand-washingসাবান, নন-স্টিক পাত্র, পাউডার, হ্যান্ডওয়াশসহ বিভিন্ন পণ্যে যেসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় তা অনেকসময় মানবদেহে ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোন পণ্যে কোন ধরনের রাসায়ানিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলো কতটুকু ক্ষতিকর— জানিয়েছে গৃহস্থালিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট।

ডিটারজেন্ট: কাপড় কিংবা থালা-বাসন ধুতে, বাথরুম পরিষ্কার করতে ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে প্রতিদিনই ব্যবহার হয় ডিটারজেন্ট। এতে থাকে ক্যান্সারের জন্য দায়ি বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। যেমন- সোডিয়াম লৌরাল সালফেট, নোনাইলফেনল ইথোক্সিলেট (এনপিই), ফসফেট ইত্যাদি।
ত্বকে প্রদাহ তৈরি, অঙ্গে বিষক্রিয়া, প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিকারী হিসেবে এরা কুখ্যাত। আর এর সঙ্গে পানি যোগ করলে তা পরিবেশ ও পানির উপর বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই প্রাকৃতিক কিংবা ঘরে তৈরি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত।

নন-স্টিক পাত্র: রান্না করতে এবং ধুতে এই ধরনের পাত্র সুবিধাজনক। তবে এগুলো তৈরি করতে ব্যবহৃত ‘পলিটেট্রাফ্লুরোইথাইলিন’ উচ্চ তাপমাত্রায় একধরনের বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ করে। এই গ্যাস প্রজনন ক্ষমতার ক্ষতি করে এবং আরও নানান স্বাস্থ্যগত সমস্যা ডেকে আনে। তাই পরিষ্কার করতে কষ্ট একটু বেশি হলেও লোহা কিংবা স্টেইনলেস স্টিলের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করাই ভালো।

অ্যান্টিপার্সপিরান্ট: ঘামরোধী প্রসাধনী তৈরি করতে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। এরমধ্যে অন্যতম উপাদান অ্যালুমিনিয়াম। স্তন ক্যান্সারের পেছনে অ্যালুমিনিয়ামের হাত আছে কিনা তা নিয়ে চলছে ব্যাপক গবেষণা। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ সকল অ্যান্টিপার্সপিরান্টে প্রসাধনীর কৌটায় সতর্কতামূলক লেবেল লাগানো বাধ্যতামূলক করেছে। তাই এই ধরনের পণ্য ব্যবহারের পরিবর্তে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করাই শ্রেয়।

কাপড় নরম করতে: ‘ফেব্রিক সফ্টেনার’ পণ্যে থাকে ‘কোয়ান্টেনারি অ্যামোনিয়াম সল্ট’। এই জিনিস ব্যবহার করলে ক্ষতিকর লবণসহ অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের একটি আস্তর কাপড়ে পড়ে। যা থেকে মাথাব্যথা, ত্বকের জ্বালাপোড়া এমনকি শ্বাসতন্ত্রেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
‘ফেব্রিক সফ্টেনার’য়ের পরিবর্তে ভিনিগার ব্যবহার করতে পারেন।

বাথরুমের পর্দা: গোসলের জন্য নির্ধারিত স্থানে অনেকেই পর্দা লাগান। এই পর্দা তৈরি করা হয় প্লাস্টিক দিয়ে। আর এই প্লাস্টিক নরম করতে ব্যবহার করা হয় ‘থালাইটস’। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রজননস্বাস্থ্য নষ্ট হওয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার জন্য অনেকটাই দায়ী এই উপাদান। তাই পর্দার পরিবর্তে দরজা ব্যবহার করা ভালো।

এয়ার ফ্রেশনার/ ডিশ সোপ: এয়ার ফ্রেশনারের গায়ে ‘ফ্রেইগ্রান্স’ কথাটা লেখা থাকলে বুঝতে হবে এতেও ‘থালাইটস’ থাকার বড় আশঙ্কা রয়েছে। শ্বাসতন্ত্র এবং প্রজননস্বাস্থের ক্ষতি করার পাশাপাশি শরীরের অন্তঃস্রাব ব্যবস্থারও ক্ষতি করে এটি। পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ কমাতেও ‘থালাইটস’য়ের হাত আছে। এয়ার ফ্রেশনারের পরিবর্তে ঘরে আসল ফুল কিংবা জৈব-সাবান রাখতে পারেন।

বিভিন্ন সাবান: ‘লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ’, ‘ফ্লোর ক্লিনার’, ‘ডিশ ওয়াশ’ ইত্যাদিতে ‘অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল’ লেখা থাকলে সতর্ক হতে হবে। কারণ এতে থাকতে পারে ‘ট্রাইক্লোসান’ এবং ‘কোয়ান্টেনারি অ্যামোনিয়াম কম্পাইন্ডস’। এগুলো শরীরে ওষুধের প্রভাব নষ্টকারী ব্যাক্টেরিয়া হিসেবে পরিচিত।
‘ট্রাইক্লোসান’ কারণে ক্যান্সার তৈরির উপাদান ‘কার্সিনজেন’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি দেহের অন্তঃস্রাব ব্যবস্থার উপর এদের কোনো ক্ষতিকর প্রভাব আছে কিনা সে বিষয়েও গবেষণা চলছে।
তাই প্রাকৃতিক পরিষ্কারক ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে।

Advertisements