ডিজিটাল দুনিয়ায় আসক্তি কেড়ে নিচ্ছে শৈশব


Degital Childডিজিটাল যুগে আজ মানুষও ডিজিটাল! ডিজিটালাইজেশনের কড়াল ছায়ায় এবার পরিবারের শিশুরাও৷ শিশু বয়সে শিশুদের  আনন্দ দানের মাধ্যমে শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে খেলাধুলা। একটা সময় ছিল যখন শিশুদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ছিল। দিনের পরিক্রমায় গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই মাঠের সংখ্যা কমে আসছে। তাছাড়া বাস্তবতার কারণেই বিশেষ করে শহরে মা-বাবা শিশুদের ঘরের বাইরে নিয়ে খেলাধুলার জন্য সময় ব্যয় করতে পারেন না। অবশ্য ব্যস্ততার কারণে গ্রামেও এখন মা-বাবা শিশুদের জন্য খুব বেশি সময় দিতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়েই শিশুদের আনন্দ দানের জন্য ঘরের মধ্যেই বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে অভিভাবকদের। আর এ ক্ষেত্রে আধুনিক যুগের ডিজিটাল গেমসই বেশি পছন্দ শিশুদের।
শৈশবটাও আজ কম্পিউটার-ভিডিও গেমে জর্জরিত৷ শৈশবে স্কুল থেকে ফিরে মাঠে খেলাধুলা করতে যাওয়াটা এককালে বাধাধরা রীতি ছিল৷ তা আজ শিকেয় উঠেছে৷ ইট-কংক্রিট দিয়ে নির্মিত বহুতল গুলির আড়ালে আজ নেই কোনো ফাঁকা মাঠ কিংবা পার্ক৷ যেখানে গিয়ে শিশুরা আরো পাঁচটি বাচ্চার সঙ্গে খেলে তাদের মনের কথা ভাগ করে নিতেও পারেনা৷ এরফলে নিজেদের ভিতর ভিতরই তারা ক্রমশ শেষ হয়ে যায়৷ তাদের একাকিত্ব ভাগ করে নেয়ার মতন তারা কাউকে পায়না৷ আর ক্রমাগত এই পরিস্থিতির শিকার হয় শিশুরা৷ তাদের মধ্যে জন্ম নেয় বিভিন্ন অরাজকতামূলক কাজও৷ পাশাপাশি তারা হয়ে ওঠে যন্ত্রনির্ভর৷ কারণ শিশুসুলভ মন তো প্রভাবে দেশের ভবিষ্যত যে ভয়াবহ যে তা বলাই বাহুল্য৷ এর ফলে বিশ্বের এক বিশেষজ্ঞ দল একটি গবেষনা করেন৷ আর তার ফলাফলে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য৷
সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে৷ তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যনতুন যন্ত্রের ব্যবহার৷ ব্যস্ততম যুগে মানুষ ক্রমশ যন্ত্রনির্ভর হয়ে পরছে৷ আর তার কড়াল ছায়া এসে পরছে বাড়ির শিশুদের উপরও৷ মা বাবা তাদের কেরিয়ার নিয়েই ব্যস্ত থাকেন৷ বাচ্চাদেরকে এরফলে প্রয়োজনীয় সময় তারা দিয়ে উঠতে পারেন৷ এরফলে বাড়ির শিশুরা একাকীত্বে ভোগে৷ তারা নিজেদের ভিতর ভিতর ভেঙে পরে৷ আর সেই সময়ই শিশুদের পরম বন্ধু হয়ে ওঠে নানা ভিডিও গেমস৷ সেই নিয়েই তারা দিনরাত থাকে৷ বাইরের জগতের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে তারা৷ দিন-রাত এক করে তারা এই সমস্ত গেমের উপরই মনোনিবেশ করে৷ এর ফলে শিশুদের মনের উপর প্রভাব পরে এগুলি প্রবল ভাবে৷ পড়াশুনার উপর থেকেও তাদের মনোযোগ চলে যায় পুরোপুরিভাবে৷ সারাদিন রাত ওই ভিডিও গেম নিয়েই পড়ে থাকে৷ জলাঞ্জলি দিয়ে দেয় পড়াশুনাও৷ ক্লাসরুমে বসেও সারারাত না ঘুমানোর ক্লান্তি গ্রাস করে তাদের৷ এরফলে তারা হয়ে ওঠে অমনোযোগী৷
সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সবটাই যন্ত্রনির্ভর৷ তবে এই ক্ষেত্রে একেবারেই কিন্তু দোষ নেই শিশুদের৷ ছোট থেকেই তারা এই যন্ত্রনির্ভর পরিবেশের মধ্যেই মানুষ৷ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল সমস্ত কিছুই চাইলেই তাদের হাতের সামনে৷ এর ফলে শারিরীক দিক থেকেও তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে৷ ১০ ১২ বছরের এই শিশুদের প্রয়োজন নিয়মিত শরীরচর্চা৷ কিন্তু যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার সেই শরীরচর্চা থেকেও ব্যাহত করছে তাদের৷ এরফলে শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকেও তারা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে৷ আমেরিকার একটি বিদ্যালয় এই কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যতদিন না এই সমস্ত শিশুদের পড়াশুনায় উন্নতি হচ্ছে ততদিন অবধি তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হবে ভিডিও গেমের সমস্ত জিনিস৷ তবে এক্ষেত্রে সম্মতি জানিয়েছে শিশুদের মা বাবাও৷ তবে এও ঠিক টেকনলজির ব্যবহারও প্রয়োজন শিশুদের৷ কারণ ভবিষ্যতের দুনিয়া যন্ত্রনির্ভরই৷ তবে এই দুইয়ের মধ্যেই সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলা উচিত৷
মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ভিত্তিক শিশু বিনোদনের ভয়াবহ পরিনতির চিত্র পাওয়া গেছে এক জরিপে। এতে দেখা যায়, ঢাকায় স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৭৭ ভাগ পর্ণোগ্রাফি দেখে। অষ্টম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ঢাকার ৫০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ছেলে শিশুরা সব সময় যৌন মনোভাব সম্পন্ন থাকে। যা নারীর জন্য যৌন নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Advertisements
This entry was posted in Artikel/Data (প্রবন্ধ), Since (বিজ্ঞান). Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s