প্রেমিক ডাইনোসর!


love dionosorবিখ্যাত মুভি জুরাসিক পার্ক আর জীববিজ্ঞানের বই থেকে ডাইনোসরদের সঙ্গে পরিচিতি আমাদের। এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে, সবচেয়ে বড় এবং হিংস্র মাংসাশী প্রাণী ছিল তারাই। বলা হচ্ছে টিরানোসরাস রেক্স এর কথা। নামটাই তো কেমন বিদঘুটে আর ভয়ঙ্কর। কিন্তু নতুন একটি গবেষণা দাবি করছে, তারা ছিল বেশ রোমান্টিক। এমনকি ‘সেরা’ প্রেমিক!
সম্প্রতি আমেরিকার মন্টানায় খোঁজ মিলেছে টিরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের নতুন একটি প্রজাতির। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ডাসপ্লেটোরাস হর্নেরি বা ডি হর্নেরি নামক টি-রেক্সের এই আদিমতম এই প্রজাতি যতটা হিংস্র ছিলো, ততটাই ছিলো অনুভূতিপ্রবণ। ডি হর্নেরি যুগলদের প্রেমে বিশেষ ভূমিকা নিত তাদের ‘সেনসিটিভ’ নাক।
শুধু তাই-ই নয়, এই নাক দিয়েই তারা নাকি ডিমের রক্ষণাবেক্ষণ, বাচ্চাদের আদর করা, বাসা বানানোর মতো যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতো। ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্ট’ নামক একটি জার্নালে গবেষকরা জানাচ্ছেন, মিলনের সময় স্ত্রী-পুরুষ একে অপরের সঙ্গে নাক এবং মুখ ঘষত। এদের মুখের অনুভূতিপ্রবণ ত্বকই মিলনের সময় উদ্দীপনা তৈরি করত।
আজ থেকে প্রায় সাড়ে সাত কোটি বছর আগে পৃথিবীতে রাজত্ব করত ডি হর্নেরি প্রজাতির ডাইনোসররা। এদের জীবাশ্ম থেকেই বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন হর্নেরি প্রজাতির ডাইনোসরগুলো লম্বায় ছিল প্রায় ২৯.৫ ফুট।
প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরেই টি-রেক্স প্রজাতির ডাইনোসরদের দৈহিক গঠন নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, ডাইনোসরদের সমস্ত প্রজাতির মুখেই মুখোশের মতো চ্যাপ্টা বর্মের আকারের ত্বক থাকে। যা তাদের মূলত চোয়াল এবং নাককে ঘিরে রাখত। সম্প্রতি ডি হর্নেরির ত্বকের রহস্য ভেদ করে গবেষকরা জানাচ্ছেন, এদের মুখ ও নাকের ত্বকে স্নায়ুর পরিমাণের আধিক্যই অনুভূতিপ্রবণতার একমাত্র কারণ। ডি হর্নেরির মুখের ত্বকের এই স্নায়ুপথের নাম দিয়েছেন ‘ফোরামিনা’। যা আজকের দিনের অ্যালিগেটরদের মাঝেও দেখা যায়। যার নাম ‘ইন্টিগুমেন্টারি সেনসরি অর্গ্যান’।
২০১১ সালের ইয়েলে পিবডি মিউজিয়ামের ন্যাচরাল হিস্ট্রি ইন কানেকটিকাটের এক রিপোর্টে বলা হয়েছিলো, ইন্টিগুমেন্টারি সেনসরি অর্গ্যান আসলে এক ধরনের নার্ভ বাম্পস। এই বাম্পসগুলি খুবই সেনসিটিভ। সঙ্গমের আগে মুখের ত্বকে ঘষা লাগায় এই স্নায়ুগুলিই উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
এই গবেষণার প্রধান এবং উইসকনসিনের কার্টহেগ কলেজের বিজ্ঞানী থমাস কারের মতে, টি-রেক্সের প্রতিটি ফোরামিনার আকার সমান। ফলে এদের ত্বক ছিল মারাত্মক সেনসিটিভ। আর এটাই প্রমাণ করে তারা কতটা অনুভূতিপ্রবণ ‘প্রেমিক’ ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একেক প্রজাতির প্রাণীর ক্ষেত্রে অনুভূতির ক্ষেত্রটা বিভিন্ন। কুমির, কিছু প্রজাতির পাখি, স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপের মধ্যে ট্রাইজেমিনাল নার্ভ মেটিংয়ের আগে উদ্দীপনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। কোনো কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে তাদের গোঁফ খুবই অনুভূতিপ্রবণ হয়। বেশ কিছু পরীযায়ী পাখি সঙ্গমের আগে ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে অনুভব করতে পারে। কুমির সাধারণত ট্রাইজেমিনাল নার্ভ দিয়ে জলের কম্পন অনুভব করে।
সূত্র: আনন্দবাজার

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s