মানব মস্তিষ্ক দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার মূল কারণ জেনে নিন!


Brain Divided into two partsবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এটা জানেন যে, মস্তিষ্কের দুটি অংশ ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে, যেমন- বাম দিকের অংশটি যাকে বাম হেমিস্ফেয়ার বলে সেটি ভাষা এবং কথার জন্য দায়ী। অন্যদিকে ডান হেমিস্ফেয়ারটি আবেগ এবং মুখ চেনার জন্য দায়ী। (মস্তিষ্কের এই কাজের বিভিন্নতা সত্যি হলেও মানুষের মধ্যে প্রচলিত জনপ্রিয় ধারণাটি – মস্তিষ্কের বাম অংশ যৌক্তিক এবং বিশ্লেষণাত্মক কাজের জন্য এবং ডান অংশটি সৃজনশীল বা শৈল্পিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় – এই ধারণাটি আসলে ভুল।
পূর্ববর্তী গবেষণার পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে যে, মানুষের মস্তিষ্ক দুটি ভাগে বিভক্ত হওয়ার এই দ্বৈত নকশার বিশেষ উপকারিতা আছে। এই নতুন পর্যালোচনাটি এপ্রিলের ১৯ তারিখে নিউরন নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন যে, ‘মস্তিষ্কের এই বিভক্তিটি উপকারী’।
বিশ্লেষকেরা জেনেছেন যে, ‘মস্তিষ্কের দুটি ভাগ থাকার একটি উপকারিতা হচ্ছে – মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি অঞ্চল যদি নির্দিষ্ট একটি কাজ করে তাহলে জটিল কাজটি ভালোভাবে করা ঐ ব্যক্তির জন্য সহজ হয়ে যায়’।
তারা বলেন, এই বিশেষীকরণের ফলে মস্তিষ্কের জন্য কঠিন কাজ করাটাও সহজ হয়ে যায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের একটি অংশ যখন একটি নির্দিষ্ট কাজের প্রতি খেয়াল রাখে যেমন- ভাষা ও উক্তি, তখন মস্তিষ্কের অন্য অংশটি মুক্ত থাকে বলে অন্য বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখে যেমন – মুখ চেনার বিষয়টি। এর মাধ্যমেই মস্তিষ্ক অন্যান্য কাজগুলো আরো দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে পারে।
গবেষকেরা লিখেন যে, মানসিক কাজের এই পরিষ্কার বিভক্তির ও উপকারিতা আছে যা ডান ও বাম হেমিস্ফেয়ার দ্বারা সংগঠিত হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, মানুষের উপর করা গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে যে, মৌখিক আই কিউ এবং পড়ার দক্ষতা সহ জ্ঞানীয় দক্ষতার উন্নতির ক্ষেত্রে এই বিভক্তি উপকারী হতে পারে।
পূর্ববর্তী গবেষণায় ধারণা করা হয়েছিলো যে, আমাদের মস্তিষ্কে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু আচরণ অসামঞ্জস্যহীনভাবেই সংঘটিত হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, মানুষ ডানহাতি বা বামহাতি হোকনা কেন তারা উভয় হাতই ব্যবহার করতে পারে।
বিজ্ঞান এটা বিশ্বাস করেছে যে, মস্তিষ্কের অসামঞ্জস্যতা মানুষের অনন্য একটি প্রকৃতি। এই ধারণাটি পরিবর্তন হতে শুরু করে ১৯৭০ সালে। অনেক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, এই সামঞ্জস্যহীনতা অন্য প্রাণীর মধ্যেও দেখা যায় যেমন- chaffinches নামক ছোট্ট পাখির মধ্যে এবং ইঁদুর ও মুরগীর মধ্যেও দেখা যায়।
গবেষকেরা বলেন, মস্তিষ্কের অসামঞ্জস্যতার অর্থ পুরোপুরি বুঝতে পারার জন্য আরো অনেক গবেষণার প্রয়োজন। গান্টারকান লাইভ সায়েন্সকে বলেন, গবেষকেরা এখনো মস্তিষ্কের অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত জিন কৌশলকে বুঝতে চেষ্টা করছেন।
গান্টারকান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মস্তিষ্কের এই অসামঞ্জস্যতা নিয়ে গবেষণা করার ফলে বিজ্ঞানীদের জন্য মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে পারা সহজ হয়েছে’।
গবেষকেরা লিখেন যে, অতি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে মস্তিষ্ক এবং আচরণের এই অপ্রতিসাম্যতা অমেরুদন্ডি প্রানী যেমন- কৃমি, ক্ষুদ্র পোকা এবং মৌমাছির মধ্যেও দেখা যায়।
‘মাত্র এক দশক আগেই বেশীরভাগ বিজ্ঞানীরাই বিশ্বাস করতেন যে, মস্তিষ্কের অসামঞ্জস্যতা শুধু মানুষেরই একটি অনন্য গুণ’। জার্মানির বোখাম এর রুহর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী এবং পর্যালোচনা দলের প্রধান লেখক ওনার গান্টারকান বলেন, ‘মাত্র এক দশক আগেই বেশীরভাগ বিজ্ঞানীরাই বিশ্বাস করতেন যে, মস্তিষ্কের অসামঞ্জস্যতা শুধু মানুষেরই একটি অনন্য গুণ’। এটি আসলে মিথ্যা।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s