বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণী


mosquitoes_topবিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণীটি আপনি যা ভাবছেন, তা নয়। প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব বিল গেটসের ব্লগে ২০১৬ সালে একটি গ্রাফিক্সে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাণীদের কারণে প্রতিবছর মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা। সেখানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় অপরাধী হচ্ছে মশা। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন, মশা। রক্তপানকারী ক্ষুদ্র এই বিরক্তিকর প্রাণীটি মানুষের মধ্যে রোগের ভাইরাস ছড়ায় এবং প্রাণী সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী (প্রতি বছর ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যর জন্য দায়ী)।
যেখানে মানুষ প্রতি বছর ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী, সাপ প্রতিবছর ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য এবং হাঙর প্রতিবছর মাত্র ৬ জন মানুষের প্রাণ নেওয়ার জন্য দায়ী।
জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য মশা যেমন দায়ী, তেমনি ডেঙ্গু এবং হলুদ জ্বরের মতো অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগও। কিন্তু শুধু এই রোগগুলোর জন্যই মশা যে এতো মারাত্মক, তা নয়।
বিল গেটস একটি ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের মনে রাখা উচিত যে ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত মারাত্মক রোগ এবং মৃত্যু ম্যালেরিয়া থেকে আসে।’
ম্যালেরিয়া পরজীবী সংক্রমণ মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, জ্বর, বমি ভাব সহ শরীরের অঙ্গ বিকল করা ছাড়াও অন্যান্য শারীরিক গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করে। এই রোগটি মশা-সংক্রান্ত অর্ধেক সংখ্যক মৃত্যুর জন্য দায়ী, প্রধাণত সাব-সাহারান আফ্রিকায়। তবে এই রোগের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে, ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ৬২ শতাংশ কমেছে, ফলে ৬.৪ মিলিয়ন মানুষের জীবন রক্ষা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ম্যালেরিয়ার জন্য ব্যাপকভাবে কোনো ভ্যাকসিন নেই। তবে ২০১৮ সালে ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিনের জন্য একটি পাইলট প্রোগ্রামে ৩টি দেশ অংশ নেবে।
ডেঙ্গু জ্বর, মশা-জনিত আরেকটি রোগ, এশিয়ান এবং ল্যাটিন-আমেরিকান কিছু দেশে এই রোগ হাসপাতালে বাধ্য করা এবং শিশুদের মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ।
এডিস ইজিপ্ট প্রজাতির মশা জিকা এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু বহন করে থাকে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, এছাড়া অন্য প্রজাতির মশা যেমন অ্যানোফিলিস প্রজাতির মশা ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করে।
টিকা ছাড়াও প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টা যেমন মশারি টানানো, মশা বাহিত মারাত্মক ব্যাধি ঠেকানোর অন্যতম একটি সর্বোত্তম উপায়।
জেনে নিন, ২০১৫ সালে প্রাণী বাহিত রোগ ও প্রাণী কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে কতজন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে।
* ছারপোকার ছড়ানো কিসিংবাগ রোগের কারণে মৃত্যু ৮,০০০।
* আফ্রিকান মাছির কারণে মৃত্যু ৩,৫০০।
* ফিতা কৃমির কারণে মৃত্যু ১,৬০০।
* সিংহের কারণে মৃত্যু ১০০।
* সাপের কারণে মৃত্যু ৬০,০০০।
* মশার কারণে মৃত্যু ৮,৩০,০০০।
* কেঁচো কৃমির কারণে মৃত্যু ২,৭০০।
* নেকড়ের কারণে মৃত্যু ১০।
* বিছার কামড়ে মৃত্যু ৩,৫০০।
* জলহস্তীর কারণে মৃত্যু ৫০০।
* বেলে মাছির কারণে মৃত্যু ২৪,২০০।
* কুমিরের কারণে মৃত্যু ১০০০।
* শামুকের কারণে মৃত্যু ৪,৪০০।
* কুকুরের কারণে মৃত্যু ১৭,৪০০।
* মৌমাছির কারণে মৃত্যু ৬০।
* হাঙরের কারণে মৃত্যু ৬।
* হাতির কারণে মৃত্যু ১০০।
* বাঘের কারণে মৃত্যু ৫০।
* মানুষের কারণে মৃত্যু ৫,৮০,০০০।
* জেলিফিশের কারণে মৃত্যু ৪০।
তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s