যেভাবে এলো ‘রোলেক্স’


Rolex Watchদামি ঘড়ির জন্য সুবিখ্যাত অন্যতম একটি ব্র্যান্ড হচ্ছে, রোলেক্স। মূলত অভিজাতদের জন্যই ঘড়ি তৈরি করে রোলেক্স। এ ঘড়ির কদর রয়েছে বিশ্বব্যাপী।  ১০৯ বছর আগের কথা। লন্ডন শহরের ব্যস্ততা আজকের মতো ছিল না। এমনি এক সময়ে হ্যানস উইলসড্রফ তার শ্যালক আলফ্রেড ডেভিসকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ঘড়ি তৈরির কোম্পানি রোলেক্স এসএ। যদিও ব্র্যান্ডটি সর্বাধিক পরিচিত রোলেক্স নামে। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর ১৯১৯ সালের দিকে রোলেক্স তার কারখানাটি স্থানান্তর করে নেন সুইজারল্যান্ডে। বর্তমানে এর সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। দিনে প্রায় দুই হাজার পিস ঘড়ি উৎপাদন করে এ কোম্পানি। ঘড়ির দুনিয়ায় এরাই প্রথম বাজারে আনে পানি সহনশীল ঘড়ি, যা কিনা ৩৩০ ফুট গভীরে পানির চাপেও আপনাকে ঠিকঠাক সময় বলে দিতে পারে।
বর্তমানে বিশ্বের পাঁচটি প্রধান ঘড়ি কোম্পানির একটি রোলেক্স। এর ব্র্যান্ড ভ্যালু ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। পার্লমাস্টার কালেকশনের একটি রোলেক্স ঘড়ির মূল্য ৫৩ হাজার ডলার।  অভিজাতদের জন্য ঘড়ি তৈরি করে রোলেক্স। এ ঘড়ির কদর রয়েছে সবার কাছে। আমেরিকান গলফ খেলুড়ে ফিল মিকেলসন, টেনিস তারকা রজার ফেদেরার এবং স্কি রেসার লিন্ডসে ভন কাজ করেছেন এ ঘড়ির মুখপাত্র হিসেবে। অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের প্রিয় ব্র্যান্ড রোলেক্স। বর্ণবাদবিরোধী ও নাগরিক আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং কিংবা অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ রোনাল্ড রিগানের হাতে শোভা পেতে দেখা গেছে রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়ি।
১০০ বছরের বেশি বিখ্যাত এই ব্র্যান্ডটির সূচনা সম্পর্কে জানতে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। খুব চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, রোলেক্সে নামটি এসেছে একটি রহস্যময় বিষয় থেকে। খুব চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, রোলেক্সে নামটি এসেছে একটি রহস্যময় বিষয় থেকে। রোলেক্স নামটি কোথা থেকে এলো, তার অফিসিয়াল গল্পটির মাধ্যমে খুব সহজেই তা জানা যায়। ব্র্যান্ডটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা হ্যানস উইলসড্রফ তার নতুন ব্র্যান্ডের ঘড়িটির একটি ছোট নাম রাখার জন্য চেয়েছিলেন যা কোনো ভাষায় সহজে উচ্চারণ করা যেতে পারে।
রোলেক্সের ওয়েবসাইটের বলা হয়েছে, উইলসড্রফ বলেন, ‘আমি প্রতিটি সম্ভাব্যভাবে বর্ণমালার অক্ষরের মিশ্রণের চেষ্টা করি। এই চেষ্টা আমাকে কয়েকশত নাম দিয়েছে কিন্তু তাদের কোনোটিই সঠিক অনুভূত হয়নি।’
‘এক সকালে, লন্ডনের সিটি অব চ্যাপসাইডের পাশে একটি ঘোড়া-টানা গাড়ির ডেকের ওপর থাকার সময় আমার কানে ফিসফিস শব্দে শুনতে পাই রোলেক্স’।
অর্থাৎ উইলসড্রফের কানের কাছে গায়েবীভাবে ফিস করে কারো বলে দেওয়া নামই হচ্ছে, রোলেক্স। এই নামের কোনো অর্থ নেই।
১৯০৫ সালে লন্ডনে ২৫ বছর বয়সি উইলসড্রফ তার শ্যালকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ঘড়ি তৈরির কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর ১৯১৯ সালের দিকে রোলেক্স তার কারখানাটি স্থানান্তর করে নেন সুইজারল্যান্ডে। বর্তমানে এর সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
ঘড়ির দুনিয়ায় রোলেক্স প্রথম বাজারে এনেছিল পানিরোধক ঘড়ি। সর্বপ্রথম দিন ও তারিখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করার প্রযুক্তির উদ্ভাবন করে। এছাড়া রোলেক্স ঘড়িই সর্বপ্রথম দুইটি ভিন্ন স্থানের সময় একই ঘড়িতে দেখানোর ব্যবস্থা করে।
বলা বাহুল্য, এসব প্রযুক্তি যখন নতুন নতুন এসেছিল তখন এগুলোর দামও ছিল প্রচুর।
ফলে সে সময় থেকেই রোলেক্সের ঘড়িগুলো আভিজাত্য আর বিলাসিতার পরিচায়ক। আজকের দিনেও রোলেক্সের ঘড়ি অন্যান্য ঘড়ির তুলনায় অনেক দামি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s