এসএসসি’র ফল : কমেছে পাসের হার ও জিপিএ


Dinajpur SSC Folএ বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ দুটোয় কমেছে। এবার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা গতবারের তুলনায় ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ পয়েন্ট কম। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী, যা গতবারের তুলনায় পাঁচ হাজার কম।শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তার কাছে ফলাফলের এই অনুলিপি হস্তান্তর করেন। এরপর দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছর এ পরীক্ষায় ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে পাঁচ হাজার। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত এবারের এসএসসির তত্ত্বীয় এবং ৪ থেকে ১১ মার্চ ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়। দশ বোর্ডে এবার মোট ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৯৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন। মন্ত্রী জানান, আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসিতে ৮১ দশমিক ২১ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ৭৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আট বোর্ডে ৯৭ হাজার ৯৬৪ জন, দাখিলে ২ হাজার ৬১০ জন এবং কারিগরিতে ৪ হাজার ১৮৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হারে এবারও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। ৭৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছাত্রের বিপরীতে ৮০ দশমিক ৭৮ শতাংশ ছাত্রী মাধ্যমিকে পাস করেছে।
খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনে পাসের হার কমেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আগে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের গাফিলতি ছিল। তবে, এবার নতুন পদ্ধতিতে যথাযথ মূল্যায়ন হওয়ায় মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার কিছুটা কমেছে। তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক এবং এজন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু যারা শুনে অভ্যস্ত তাদের কাছে একটু বিস্ময় হতে পারে। যেহেতু এটা একটা আমাদের অগ্রগতি, সেই কারণে জিনিসটা আমি সবাইকে স্বাভাবিকভাবে নিতে অনুরোধ জানাব।
প্রতিবারের মত এবারও ২৩টি বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সব কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে, নকলমুক্তভাবে, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হয়েছে; বড় ধরনের কোনো সঙ্কট কোথাও হয়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কম হয়েছে। এটা কারও মনে প্রশ্ন আসতে পারে কেন কম হল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যথাযথভাবে যেন মূল্যায়ন হয় শিক্ষার্থীদের। এটাও একটা বড় অগ্রগতি হওয়া উচিৎ। ম্ল্যূায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণ তুলে ধরে নাহিদ বলেন, পরীক্ষার পর পরীক্ষকরা খাতা নিয়ে যান এবং ফলাফল জমা দেন। কিন্তু ‘অভিজ্ঞতায় দেখা যায়’- তারা ভালো করে খাতা দেখেন না।  এ কারণে একটি পরীক্ষা পর্যালোচনা পর্ষদ করে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার ব্যবস্থা হয়। একই খাতা ২০টি ফটোকপি করে দেওয়া হয় দেশের ২০ জন সেরা পরীক্ষককে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আলাদাভাবে নম্বর নেওয়া হয়। দেখা যায়, ২০ জনই ২০ ধরনের নম্বর দিয়েছেন। দুইজনও একরকম দেননি। একজন ছাত্র ৪ পাচ্ছে, আরেকজন ছাত্র এখানে সাত পেয়ে যাচ্ছে। তাহলে কত পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে! শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগেই আমরা বলেছি, যিনি প্রধান পরীক্ষক, তিনি আসলে খাতা দেখেন না। এই একটা রিপোর্ট দিয়ে দেন। আবার যিনি খাতা দেখেন, তিনিও ভালো করে দেখেন না। বোঝা যায়, অনেক সময় তিনি এটা ওজন করে দিয়ে দিলেন, কত পাতা লিখেছে সেই পরিমাণে। এটা হলে তো সত্যিকার অর্থে আমাদের ছেলেমেয়েদের মূল্যায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না। এতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কিংবা সে একটা বাড়তি সুযোগও পেয়ে যেতে পারে। খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতির উন্নয়নে তিন বছর ধরে কাজ করার কথা জানিয়ে নাহিদ বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে প্রধান পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে তাদের মাধ্যমে সারা দেশে সব পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সবশেষে এ বছর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ‘একটি মান’ বজায় রাখার এই ব্যবস্থা চালু হয়। এ জন্য আমরা এই খাতাগুলো দেখে একটা উত্তরপত্র আগেই বাছাই করে আমাদের হেড এক্সামিনাররা বসে এবং দুই বার চেক করে একটা সাধারণ মান ঠিক করে দেন। সে অনুযায়ী পরীক্ষকরা খাতা মূল্যায়ন করেন। নাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি এবং দেশের শিক্ষাবিদদের সহযোগিতা নিয়েই মূল্যায়ন ব্যবস্থার এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমাদের তিন বছরের এই প্রচেষ্টার ফলাফল হচ্ছে, সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে খাতা দেখে আমরা ফলাফল আনতে পারছি। এতে ছেলেমেয়েরা আরও সিরিয়াস হবে। শিক্ষকরাও খাতা দেখা এবং পড়ানোর ক্ষেত্রে সিরিয়াস হবেন এবং এখানে আমরা সঠিক বাস্তবতা দেখতে পাব।  গত বছরের মতো এবারও সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়নি। গত ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। তাত্ত্বিক বা লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৫ মার্চ। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মার্চ। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো, আলমগীরসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

পাসের হারে রাজশাহী, জিপিএ-৫ এ ঢাকা শীর্ষে: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার এবারও রাজশাহী বোর্ডের শিক্ষার্থীদের পাসের হার সবচেয়ে বেশি। আর বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছেন ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৯,৪৮১ জন। এবার রাজশাহী বোর্ডে সবচেয়ে বেশি, ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। সবচেয়ে কম পাস করেছে কুমিল্লা বোর্ডে, ৫৯ দশমিক ০১ শতাংশ। গতবারও রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি ছিল, ৯৫ দশমিক ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। আর পাস সবচেয়ে কম ছিল বরিশালে, ৭৯.৪১ শতাংশ।

টানা দ্বিতীয়বার এগিয়ে মেয়েরা: টানা দ্বিতীয়বারের মতো সারাদেশে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৮০.৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে ৭৯.৯৩ শতাংশ ছাত্র এবং ৮০.৭৮ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে। গত বছর ছেলেদের পাশের হার ছিল ৮৮.২ শতাংশ এবং মেয়েদের ছিল ৮৮.৩৯ শতাংশ।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে এ বছর পাসের হার কম। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার বেশি। এ বছর ছেলেদের তুলনায় ০.৯৮ শতাংশ মেয়ে বেশি পাস করেছে। এ বছর মোট পাস করেছে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন। ১০টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন।
বিদেশের ৮ কেন্দ্রে ৯৪.২৮% পাস: এসএসসিতে বিদেশের আটটি কেন্দ্রে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এবার পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২ জন। গত বছর বিদেশের কেন্দ্রে ৮৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। সেই হিসেবে এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ পয়েন্ট। এবার বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ৪৩৭ জন এসএসসিতে অংশ নিয়ে ৪১২ জন পাস করেছে, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২ জন। বিদেশের আট কেন্দ্রের মধ্যে চারটি কেন্দ্রের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন।

শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান কমে অর্ধেক: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার সারা দেশে ২ হাজার ২৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ২ হাজার ৪৬৮টি কম। গত বছর এ পরীক্ষায় ৪ হাজার ৭৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। গতবার ২৮ হাজার ১০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এবার ২৮ হাজার ৩৫৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে। এই হিসেবে এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৫২টি বাড়লেও শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২ হাজার ৪৬৮টি কমেছে। ২০১৫ সালে ৫ হাজার ৯৫টি এবং ২০১৪ সালে ৭ হাজার ২১০টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে। এই হিসেবে, ধারাবাহিকভাবে তিন বছর শতভাগ পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমল। এবার ঢাকা বোর্ডে ৩৫৪টি, রাজশাহী বোর্ডে ৪২৯টি, কুমিল্লা বোর্ডের ১৪টি, দিনাজপুর বোর্ডের ১৬৬টি, সিলেট বোর্ডের ৩৭টি, যশোর বোর্ডের ১৫০টি, বরিশাল বোর্ডের ৮৭টি এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া মাদ্রসা বোর্ডের ৮০৯টি এবং কারিগরি বোর্ডের ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন।

৯৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর দেশের ৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এ পরীক্ষায় গত বছর ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। সেই হিসেবে এবার শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৪০টি। মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন।
এবার ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর ও বরিশাল বোর্ডে দুটি করে, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও দিনাজপুর বোর্ডে একটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। মাদ্রাসা বোর্ডের ৮২টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী এবার ফেল করেছে। তবে সিলেট ও কারিগরি বোর্ডে এবার এরকম কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয় : কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার পাশের হার ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার ১ হাজার ৬৭১টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলো। এদের মধ্যে ছাত্র ৮৩ হাজার ১০০ জন এবং ছাত্রী ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ১১১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৪৯ হাজার ৪৫৬ জন এবং ছাত্রী ৫৮ হাজার ৫৫৫ জন। এবার পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৫০ জন।
গত বছরের চেয়ে এবারের ফলাফল অনেকটা খারাপ হয়েছে। গতবারের পাশের হার ছিল হার ৮৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৯৫৪ জন। তিনি আরো জানিয়েছেন, এবার কুমিল্লা বোর্ডে গণিত বিষয়ে ফেল করেছে ৩৭ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষার্থী এবং ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে ২৫ হাজার ৬০৬ জন। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে গণিত বিষয়ের শিক্ষকদের দায়ী করা হয়েছে। যে সমস্ত স্কুল ফলাফল খারাপ করেছে এদের চিহ্নিত করে বোর্ডের পক্ষ থেকে তদারকি করা হবে। টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্যকারীদের ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি যেন না দেওয়া হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে: এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫, দুটিই কমেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার পাস করেছে ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। অথচ গত বছর এ হার ছিল ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে আট হাজার ৩৪৪ জন, যা গতবারের চেয়ে ১৫৮ জন কম। গতবার এ সংখ্যা ছিল আট হাজার ৫০২।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর ১৭১টি কেন্দ্রে এক হাজার ১০টি স্কুলের এক লাখ ১৮ হাজার ২৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৪৯৪ জন ছাত্র ও ৬২ হাজার ৫৩৫ জন ছাত্রী। যা গত বছর ছিল এক লাখ ১২ হাজার ৫৯ জন। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ছয় হাজার ১৯৬ জন, অনিয়মিত ১১ হাজার ৭৬৯ জন এবং মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিল ৬৪ জন।

ফল পুনঃনিরীক্ষা : রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ৫ থেকে ১১ মে পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে।
যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে, যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ২৫০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s