bazar-.jpgঅতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

রমজানের আগেই অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাজার সিন্ডিকেট চক্র। রোজা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই অস্থির হয়ে উঠছে নিত্যপণ্যের বাজার। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বাড়ছে দাম। ইতোমধ্যে রমজানে চাহিদা বেশি থাকা পণ্য চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর এবং ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন- ব্যবসায়ীরা আগেই দাম বাড়িয়ে মুনাফা তুলে রমজানে স্থিতিশীল রাখার কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ বা ২৮ মে শুরু হবে পবিত্র রমজান মাস। এর আগেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার। যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে চাল, চিনি, গরুর মাংস ও রসুনের দাম। বরাবরের মতো এ বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা দোষ চাপাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর। অন্যদিকে, সরকারের দায়িত্বশীলদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো নয়। সব মিলিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছেন ক্রেতারা।
গত শুক্রবার (১২ মে) কাওরান বাজারসহ ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, চিনি, গরুর মাংস ও রসুনের দাম বেড়েছে কোনো কারণ ছাড়াই। অন্যদিকে, মিশ্রভাব বিরাজ করছে মাছ ও সবজির বাজারে। তবে ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে মোটা চাল কেজিতে নতুন করে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। চিকন চালেও একই অবস্থা। পারিজাত চাল গত সপ্তাহে ৪৪ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৪৬ টাকা কেজি দরে। ‘২৮ চাল’ গত সপ্তাহে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে থাকলেও এ সপ্তাহে এসে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজিতে। গুটি স্বর্ণা গত সপ্তাহে ৪৩ টাকা কেজি থাকলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৪৫ টাকায়। নাজিরশাইল গত সপ্তাহে ৪৮ থেকে ৬৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫০-৬৮ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া সব ধরনের মিনিকেট চালে কেজিতে বেড়েছে ১ টাকা। গত সপ্তাহে মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৫৩-৫৪ টাকা কেজি দরে। এ সপ্তাহে দাম বেড়ে হয়েছে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা। এ বিষয়ে কাওরান বাজারের চাল বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া বলেছেন, ‘চালের দাম বৃদ্ধির সঠিক কোনো কারণ আমরা জানি না। এ ব্যাপারে পাইকারি ব্যবসায়ীরাই ভাল বলতে পারবেন।’ তবে তিনি জানিয়েছেন, হাওরে আগাম বন্যায় ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন চাল বাজারে ওঠেনি। এ ছাড়া চাহিদার তুলনায় বর্তমানে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। তাই দাম বাড়ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে তিন শতাংশ। ছোলার দাম ১১ শতাংশ, খেজুর ৬ শতাংশ, ডাল ২ শতাংশ, পেঁয়াজ ১৭ শতাংশ, আমদানিকরা রসুন ২৮ শতাংশ, দেশি ৪৬ শতাংশ এবং ভোজ্যতেল ১ থেকে ৫ শতাংশ, পাম অয়েলের দাম ৮ থেকে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

ঠিক কি কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামে পণ্য কিনে আনতে হচ্ছে তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। মূলত রোজার কারণেই পণ্যের দামের এ বাড়তি প্রবণতা। ইতোমধ্যে যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে তার সবকটি রোজার সময় বেশি ব্যবহৃত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সম্প্রতি সংসদে বলেছেন, বর্তমানে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহও রয়েছে। রমজানে বাজারে পণ্যের সংকট থাকবে না এবং দামও বাড়বে না। তিনি জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা মহানগরীতে ১৪টি টিম মনিটরিংয়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এসব টিম প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করছে। কিন্তু বাস্তবে বাজারে পরিদর্শন টিমের কোনো প্রতিফল নেই। প্রতিদিনই দাম বাড়িয়ে কৌশলে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, গত তিন-চার বছর সরকার রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কঠোর অবস্থানে ছিল। এ কারণে ব্যবসায়ীরা এবার কৌশল পরিবর্তন করেছেন। তারা আগেই সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে রমজানে স্থিতিশীল রাখার কৌশলগত পরিকল্পনা করেছেন।
গোলাম রহমান দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনটি বিষয়- যথা ১. সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ২. রমজানের অনেক আগে টিসিবির মাধ্যমে বাজারে পণ্য নামানো ৩. ভোক্তাদের পণ্য ক্রয়ে সংযত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
ক্যাব সভাপতি বলেন, ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দাম বেড়েছে। একথা কোনো ক্ষেত্রে সত্য হলেও বেশিরভাগ সত্য নয়। গত তিন-চার বছর ধরে দু-একটি আইটেম ছাড়া বাজার স্থিতিশীল ছিল। এর পেছনের কারণ সরকারের মনিটরিং ও টিসিবির অংশগ্রহণ। ব্যবসায়ীরা জানে রোজার সময় বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ আসবে। সে জন্য তারা রোজা আসার আগে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দেখা যাবে, রোজা শুরু হলে সরকার সভা করে দাম কমাতে বলবে, তখন বেশি দাম থেকে দু-এক টাকা কমিয়ে দেবে। মনে হবে দাম কমেছে। এতে সরকারও খুশি থাকবে, ব্যবসায়ীরাও খুশি থাকবে।
গোলাম রহমান বলেন, ‘আমাদের বাজার ব্যবস্থায় প্রায় সব পণ্যই দেশে উৎপন্ন হয়, আবার বিদেশ থেকেও আমদানি করতে হয়। আমদানির ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রত্যেক পণ্যের আমদানিকারক তিন থেকে চারজন। এরা মোটামুটিভাবে বাজারটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। সমঝোতার মাধ্যমে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়-কমায়। এ অবস্থায় সরকারের করণীয় হচ্ছে- টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ রোজার আরো আগে থেকেই শুরু করতে হবে। শুধু মনিটরিং দিয়ে পণ্যের দাম কমানো যায় না। মনিটরিংয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষপ নিতে হবে। যেমন- দেশে কি পণ্য উৎপন্ন হচ্ছে, কি পরিমাণ আমদানি হচ্ছে তার হিসাব রাখা। সে হিসাব-নিকাশের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কোনো মিল আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এরপরও যারা মজুদ করে-জমা রেখে দাম বাড়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
যেমন লবণের দাম ১০-১৫ টাকা বেড়ে গেছে। রসুনের দাম ২-৩ দিনের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। অথচ এর পেছনে কোনো কারণ নেই। এগুলো পিওর কারসাজি। এসব ক্ষেত্রে সরকারের উচিত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইনের প্রয়োগ করে তাদের শাস্তি দিতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানুযায়ী, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ১৪ লাখ ৫০ হাজার টন, মজুদ আছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৩ থেকে ১৪ লাখ টন, মজুদ আছে ১৬ লাখ ৩২ হাজার টন। পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২২ লাখ টন, মজুদ আছে ২৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। রসুনের চাহিদা ৫ লাখ ২৭ হাজার টন, মজুদ আছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার টন। ডালের চাহিদা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন, মজুদ আছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার টন। ছোলার চাহিদা ৬০ হাজার টন, মজুদ আছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন। খেজুরের চাহিদা ১৫ হাজার টন, মজুদ আছে ১৭ হাজার টন। এ ছাড়া ভোজ্যতেল আরো ২ লাখ টন বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় আছে এবং পেঁয়াজ, রসুন প্রতিদিনই আমদানি হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাজার-সংশ্লিষ্টদের কেউ সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণের বাইরে নেই। রমজানসহ সারা বছর যাতে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তার জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এতে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখে দাম নিয়ন্ত্রণের ওপর। এটি নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চিহ্নিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে_ যাতে বাজারে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। যার মাধ্যমে অন্যরাও অসৎ ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকবে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি ও নেপালি ক্যাঙ্গারু মসুর ডালের দাম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। এক মাস আগে ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।
চিনির দাম আবারো বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেড় মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে খোলা চিনি এখন ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট চিনির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। ব্যবসায়ীরা অবশ্য দাবি করছেন, মূসক ও শুল্ক বাড়ানোর ফলে চিনির দাম বাড়ছে। যদিও মূসক ও শুল্ক বাড়ানো হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। তখন একদফা দাম বাড়ানো হয়েছিল। একই অজুহাতে এখন আবারো বাড়ানো হয়েছে।
ছোলার দামও বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। যা এক মাস আগে ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। গত মাসে ৬০ থেকে ৬১ টাকা কেজিতে ছোলা আমদানি হয়। সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ছোলার দাম বাড়ানোর তথ্য পেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের সতর্কও করা হয়েছে; তারপরও দাম বাড়ছে।
মৌসুমের নতুন পেঁয়াজ ও রসুনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও দাম বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ ও আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চীনা রসুন পেঁৗছেছে ২০০ ও দেশি রসুন ১০০ টাকায়।
গত রমজানের পর থেকেই খোলা খেজুর ৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে এর দাম বেড়ে ১২০ থেকে ৩০০ টাকায় পেঁৗছেছে। প্যাকেটজাত ভালোমানের খেজুর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরে ১৫ হাজার টন খেজুরের চাহিদার বিপরীতে এবার প্রায় ২০ হাজার টন আমদানি করা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় অনেকদিন স্থিতিশীল থাকলেও গত সপ্তাহে ভোজ্যতেলের দাম পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটারে ভোজ্যতেলের দাম ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার কারণে গত জানুয়ারিতে খুচরা বাজারে প্রতি লিটারে সয়াবিনের দাম ৫ টাকা করে কমানোর কথা ছিল। কিন্তু পাইকারি বাজারে কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে কমেনি।
টিসিবির প্রস্তুতি : প্রতি বছরই রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এবারো এই উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রোজায় চিনি, সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, ছোলা এবং খেজুর এই পাঁচ পণ্য খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করবে টিসিবি। এ লক্ষ্যে এসব পণ্য মজুদ শুরু করেছে সংস্থাটি।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দেশের মোট চাহিদার ২ থেকে ৩ শতাংশ মজুদ রেখে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় টিসিবি।
এ বিষয়ে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, প্রতি বছর রমজানের আগে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য ক্ষণস্থায়ী উদ্যোগ নিয়ে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। এর কারণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের দক্ষ মার্কেট ইন্টেলিজেন্স থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশন ব্যবসায়িকভাবে অত্যন্ত লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের রপ্তানির তালিকা যেমন সমৃদ্ধ তেমনি আমদানির তালিকায়ও রয়েছে বহুমুখী পণ্য। এছাড়া সংস্থাটি শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য বেশকিছু পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানও এটি; যা ২০১২ এবং ২০১৩ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। অথচ সে তুলনায় টিসিবির অবস্থা খুবই করুণ।

Advertisements