Trump-Lands Arabজানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কোনো দেশে সফর করছেন তিনি। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের। শনিবার ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ রিয়াদে পৌঁছানোর পর তাকে লালগালিচা সম্বর্ধনা দেওয়ার দৃশ্য সৌদি ও আরব সংবাদ চ্যানেগুলো সম্প্রচার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সফরে দুপক্ষের মধ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তির নিষ্পত্তি হতে পারে এবং সফরটি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ‍বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইকে আরো বেগবান করতে পারে বলে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদি আরব।
অপরদিকে এ সফরের ফলে দেশে ট্রাম্পকে ঘিরে গজিয়ে ওঠা নানা বিতর্ক থেকে সবার নজর আপাতত তার বৈদেশিক নীতির ওপর গিয়ে পড়বে বলে আশা করছে হোয়াইট হাউজ।
ট্রাম্পের পূর্বসুরী ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রতি নমনীয় মনোভাব ও ওয়াশিংটন-রিয়াদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে শীতল মনোভাব পোষণ করতে দেখে ক্ষুব্ধ ছিল সৌদি আরব। তাই রিপাবলিকান ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় উৎসাহিত হয়ে উঠেছে দেশটি।
সৌদি আরব থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অপর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের যাবেন ট্রাম্প। ইসরায়েল থেকে ইউরোপের ইতালি ও বেলজিয়ামে যাবেন। এই সফরে পরপর আরব, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
এ সফরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মাঝে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।
শুক্রবার বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ চেপে সৌদি আরবের পথে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি।
কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা বিহীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য সফরটিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসাবে দেখা হচ্ছে। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তার গুরুত্বপূর্ণ এ প্রথম বৈদেশিক সফর কোনও বিপর্যয় ছাড়া উতরে যেতে পারলে এটি তার সফলতা বলেই গণ্য হবে।
দেশে একগাদা সমস্যার মুখে ট্রাম্প এ সফরে যাচ্ছেন। আমেরিকাকে সর্বাগ্রে রাখার বার্তা দিয়ে তিনি মিত্রদের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টার সময় একইসঙ্গে তার পায়ে পায়ে বিরাজ করবে ঘরের সব সমস্যাগুলোও।
ট্রাম্পের এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্ত করার পদক্ষেপ থেকে শুরু করে ফ্লিন-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে কোমিকে তার তদন্ত বন্ধ করতে বলার কথা প্রকাশ হয়ে যাওয়া এবং এরপর ট্রাম্প-রাশিয়া যোগসাজশ তদন্তে সাবেক এফবিআই প্রধান রবার্ট মুলারের নিয়োগের মত নানা ঘটনায় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আর কোনও প্রেসিডেন্টই ট্রাম্পের মত এত কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে প্রথম বৈদেশিক সফরে যাননি। ফলে তার সফরে এ বিষয়গুলো ছায়া ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Advertisements