oshudh, drugওষুধ যেমন আমাদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। তবে কোনো রোগ হওয়ার পর আমরা যে ওষুধ খাই, সেই ওষুধই যেন রোগের কারণ না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। এর জন্য বেশ কিছু কারণও দায়ী যেমন- ওষুধের সহজলভ্যতা, ওষুধের তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ওষুধে-ওষুধে প্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে কার্যকারিতা কমে যাওয়া, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার ইত্যাদি। এছাড়া যখন কেউ রোগে ভোগে তখন সাময়িক উপশমের জন্য ইচ্ছা মতো ওষুধ খায় এবং বেশিরভাগই ওষুধের কোর্স শেষ করে না। আবার কয়েক মাস পর একই উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই পূর্বের ওষুধ নিজে থেকে খেয়ে ফেলে। অনেকেই লোক মুখে শুনেও ওষুধ খেয়ে থাকে বা ব্যবহার করে।
তাই এই ওষুধের রোগ কমাতে হলে প্রথমে নিজে সচেতন হতে হবে। প্রথমত ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। শুধু ওষুধই রোগ সারাতে পারবে এই ভ্রান্ত ধারণা ত্যাগ করতে হবে। নিজেকে জানতে হবে নিরাময়ের ক্ষমতা আমাদের নিজেদের মধ্যেই আছে, ডাক্তার কেবল সহায়ক শক্তি মাত্র। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শতকরা ৭৫ ভাগ রোগের কারণই হচ্ছে মনোদৈহিক। অর্থাত্ শতকরা ৭৫ ভাগ রোগ সৃষ্টির কারণ মানসিক প্রতিক্রিয়া, শতকরা ১৫ ভাগ রোগের কারণ ইনফেকশন, ভাইরাস আক্রমণ, ভুল খাদ্য গ্রহণ ও ব্যায়াম না করা, শতকরা ১০ ভাগ রোগের কারণ দৈহিক আঘাত, ওষুধ ও অপারেশনের প্রতিক্রিয়া। তাই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে শতকরা ৭৫ ভাগ রোগ নিরাময় করা সম্ভব। অন্যান্য রোগ নিরাময়েও ওষুধ, সার্জারির পাশাপাশি সুস্থ জীবন সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই সামান্য অসুখে অতিরিক্ত ব্যস্ত না হয়ে খাদ্যাভ্যাস বা জীবনাচার পরিবর্তন করেও সুস্থ থাকা যায়। পাশাপাশি ব্যায়াম, মেডিটেশন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং ভিতর থেকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। এভাবে আমরা ওষুধ আর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারি।

Advertisements