কম্পিউটারের সাধারণ সমস্যার সমাধান


Laptop-computer-tipsকম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করতে গেলে মাঝেমধ্যে সাধারণ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রায়ই হয় এমন সাধারণ সমস্যার সমাধান নিজে নিজেই করা যায়। এমন কিছু এমন কিছু সাধারণ সমস্যার সহজ সমাধান দেওয়া হলো, যা প্রয়োগ করলে কম্পিউটারের খুঁটিনাটি সমস্যা দূর হবে।
শুরুতেই যা করণীয়
কোনো সমস্যা হলে অন্য কিছু করার আগে প্রথম কাজটিই হবে কম্পিউটার পুনরায় চালু বা রিস্টার্ট করা। এই কাজটি অনেক সমস্যার সমাধান করে দেয়। কম্পিউটারে সংযুক্ত কোনো যন্ত্রপাতি সমস্যা করলে সেটি বন্ধ করে আবার চালু করুন। তাতে কাজ না হলে যন্ত্রটি প্রথমে কম্পিউটার থেকে খুলে আবার লাগিয়ে নিন, তারপর সেটির সর্বশেষ সংস্করণের চালক সফটওয়্যার বা ড্রাইভার ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে আবার ইনস্টল করুন।

কম্পিউটার চালু না হলে
কম্পিউটার কখনো চালু না হলে সেফ মুড থেকে বুট করা যায়। এ জন্য কম্পিউটার চালু করার বোতাম চেপে কি-বোর্ড থেকে F8 চাপুন। তালিকা থেকে Last Known Good Configuration নির্বাচন করে আগে ভালো থাকা উইন্ডোজকে ফিরিয়ে আনা যাবে। কম্পিউটার চালু হতে সমস্যা হলে Windows Startup Repair চেপে তা ঠিক করা যায়। এটি স্টার্টআপ (চালু হওয়া) সমস্যা দূর করে কম্পিউটারকে আবার চালু (বুট) করে।

ধীরগতির কম্পিউটার
কম্পিউটার খুব ধীরগতির হলে প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে এটি আসলে কম্পিউটারের নিজের সমস্যা কি না। ওয়েবসাইট দেখতে সময় বেশি লাগা বা অনলাইনে ভিডিও দেখার সময় বাফারিং অবিরাম চলতে থাকাটা কম্পিউটারের সমস্যা না-ও হতে পারে। যদি মনে হয় কম্পিউটারেই সমস্যা, তাহলে দেখে নিন হার্ডডিস্কের যে ড্রাইভে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা আছে (সাধারণত C:), তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা আছে কি না। অপারেটিং সিস্টেম চলার সময় উইন্ডোজের ফাইল তৈরিতে খালি জায়গার প্রয়োজন হয়। অপর্যাপ্ত থাকলে ড্রাইভের কিছু জায়গা খালি করে ফেলুন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো ডিস্কম্যাক্স নামের একটি প্রোগ্রাম। নামানোর ঠিকানা http://goo.gl/rgcY4Q। রিসাইকল বিন, ইনস্টলেশন রেমন্যান্ট, ইউজার হিস্ট্রি, টেম্পরারি ফাইল, কুকিজ, উইন্ডোজ ক্যাশ ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় সবকিছু মুছে সিস্টেম ড্রাইভসহ পুরো হার্ডডিস্ক পরিষ্কার করে ফেলবে।
ধীরগতির আরেকটি সমাধান হলো মাইক্রোসফট সিস্টেম কনফিগারেশন টুল। অনেক অ্যাপলিকেশন আছে যেগুলো কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে কম্পিউটার পুরোপুরি প্রস্তুত হতে বাড়তি সময় লাগায়। এ জন্য Windows Key + R কি চেপে তাতে msconfig লিখে এন্টার চাপুন। এখান থেকে যেসব স্টার্টআপ আইটেম অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, সেগুলো থেকে টিক উঠিয়ে দিন। তবে ম্যানুফ্যাকচারার ট্যাবে মাইক্রোসফট করপোরেশন লেখা আইটেমগুলো থেকে টিক ওঠাবেন না। এবার ওকে চেপে কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন।

ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা
ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা হলে ভালো সমাধান হলো http://www.speedtest.net ওয়েব ঠিকানা। এখানে স্পিড টেস্ট চালিয়ে দেখুন ইন্টারনেটের গতি কেমন। ইন্টারনেট সেবাদাতার দেওয়া সংযোগের গতির অন্তত অর্ধেক পাচ্ছেন কি না, পিং করলে ১০০ মিলিসেকেন্ডের কম থাকে কি না। আশানুরূপ না হলে পরীক্ষা করে দেখুন, কোনো কিছু ডাউনলোড বা আপলোড হচ্ছে কি না। অনেক টরেন্ট ডাউনলোডিং প্রোগ্রাম টাস্কবারের বদলে সিস্টেম ট্রেতে থেকে নেপথ্যে ডেটা ডাউনলোড বা আপলোড করতে থাকে। উইন্ডোজের অটোমেটিক আপডেট নির্বাচন করা থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাউনলোড চলতে থাকে। এটি বন্ধ করতে চাইলে স্টার্ট বাটন চেপে সার্চ বক্সে লিখুন windows update এবং এন্টার চাপুন। ‘চেঞ্জ সেটিংস’ ক্লিক করে ‘নেভার চেক ফর আপডেটস’ অপশনটি নির্বাচন করে ওকে করুন। নেটওয়ার্কে ব্যবহূত হার্ডওয়্যারও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। রাউটার বা সুইচের রিসেট বাটন চেপে সংযোগ সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। অথবা দু-এক সেকেন্ডের জন্য পাওয়ার কেবল বিচ্ছিন্ন করেও এটা করা যায়।

কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট হওয়া
হার্ডওয়্যার সমস্যা করলে সেটা শনাক্ত করে সমাধান করা একটু কঠিনই। প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে, উইন্ডোজ হালনাগাদ হচ্ছে কি না। এসব আপডেট ইনস্টল হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটার রিস্টার্ট হয়। অনেক সময় ভাইরাস বা অ্যাডওয়্যারের কারণে এমনটা হতে পারে। অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার অথবা বিনা মূল্যের মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়ালস সর্বশেষ হালনাগাদসহ ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে ইনস্টল করে স্ক্যান করে নিতে পারেন। নামানোর ঠিকানা http://goo.gl/EW85AC আর এর সর্বশেষ ডেফিনিশন আপডেট ফাইল নামানোর ঠিকানা http://goo.gl/8TnmU5। কম্পিউটারের ধরন অনুযায়ী (৩২ বা ৬৪ বিট) ‘ম্যানুয়ালি ডাউনলোড দ্য লেটেস্ট আপডেটস’ সেকশন থেকে এই সফটওয়্যারটির হালনাগাদ ফাইল নামাতে হবে অথবা ইন্টারনেটে সরাসরি হালনাগা করে নিতে পারেন।
কম্পিউটারের কোনো যন্ত্রাংশ মাত্রাতিরিক্ত গরম হলেও কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট নিতে পারে। আধুনিক অনেক কম্পিউটারে সেফগার্ড থাকে, যা যন্ত্রপাতি গরম হলে নিজে নিজেই কম্পিউটার বন্ধ করে দেয়। সিপিইউ খোলার অভিজ্ঞতা থাকলে এবং তাতে কোনো ওয়ারেন্টি সিল না থাকলে সেটি খুলে অনেক দিনের জমা ধুলোবালি ব্রাশ দিয়ে সাবধানে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। তারপর র‌্যাম খুলে পরিষ্কার করে আবার লাগিয়ে নিন এবং হার্ডডিস্ক, ডিভিডি-রম ড্রাইভে সংযুক্ত তারগুলো ভালোভাবে লাগিয়ে রিস্টার্ট হওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট
কম্পিউটার চালাতে গেলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, এ কারণে ভালো অবস্থাতেই সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি করে রাখলে প্রয়োজনে তা কাজে লাগানো যাবে। এ জন্য Start Menu থেকে Accessories-এ যান। System Tools থেকে System Restore-এ ক্লিক করে খুলুন। অথবা উইন্ডোজ সাত বা আটের স্টার্ট মেনুতে rstrui. exe লিখে এন্টার চাপুন। সিস্টেম রিস্টোর খুলে গেলে Next চেপে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। পরের ধাপে Finish চাপলে নতুন সিস্টেম পয়েন্ট তৈরি হবে। ভবিষ্যতে উইন্ডোজের যেকোনো সমস্যায় তৈরি থাকা সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট থেকে উইন্ডোজকে ফিরিয়ে আনা যাবে।

সিস্টেম ফাইল চেকার
কম্পিউটারের সিস্টেমগত কোনো সমস্যা তৈরি হলে সিস্টেম ফাইল চেকার ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করা যায়। সাধারণত কম্পিউটারের কোনো ফাইল প্রতিস্থাপিত (রিপ্লেস) হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নষ্ট হলে ভালো ফাইল দিয়ে সিস্টেম ফাইল চেকার সেটি দূর করে। এ জন্য স্টার্ট মেনুতে গিয়ে cmd লিখুন। Command Prompt এলে তাতে মাউসের রাইট ক্লিক করে Run as administrator চেপে খুলুন। এবার কমান্ড প্রম্পটে sfc/scannow লিখে এন্টার চাপুন। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে রিপোর্টের মাধ্যমে কম্পিউটারে কোনো সমস্যা বা ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নষ্ট ফাইল থাকলে ঠিক করে তা জানিয়ে দেবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যার মুছুন
কম্পিউটারের কন্ট্রোল প্যানেল চালু করে ইনস্টল থাকা প্রোগ্রামগুলো চেক করে নিন। যদি অনাকাঙ্ক্ষিত বা অব্যবহৃত সফটওয়্যার থাকে তাহলে সেটি মুছে ফেলাই ভালো।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s