বাজেটে বাড়বে না দ্রব্যমূল্য : অর্থমন্ত্রী


Budget 2017 press meting muhitব্যাংক খাতে সব দেশেই চুরি হয়, দেশে লোডশেডিং নেই
প্রস্তাবিত বাজেট পুরোটাই উজ্জ্বল দাবি করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমার মতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার বাস্তবায়ন হলেও বাড়বে না দ্রব্যমূল্য। প্রত্যেক বাজেটই উচ্চাভিলাষী, কোনো বাজেটেরই আকার আগের বাজেটের চেয়ে কম হয় না। এ বাজেটে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মুহিত।
শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটে দারিদ্র বিমোচনের জন্য ৫৪ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জেন্ডার সমতায় ২৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে একটি কথা সামনে এসেছে বৈদেশিক সহায়তার আকার একটু বেশি ধরা হয়েছে। মুহিত বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বিপুলভাবে আমরা বৈদেশিক সহায়তা আদায় করছি। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আশা করছি সামনে আমাদের বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়বে। এ বিষয় নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছে। কিন্তু এবার একটু রিভিউ বেশিই বাড়াতে হবে।
কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি যদি এক শতাংশ বাড়ে, তাহলে দেড় লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়। এই হিসাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লে আমাদের কর্মসংস্থানের ঘাটতি থাকবে না।
ভ্যাটের বিষয়ে মুহিত বলেন, বাজেটে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে না। নতুন ভ্যাট আইন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্পর্শ করবে না। তিনি দাবি করেন, আগে ৩০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার হলে ৩ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হতো। প্রস্তাবিত বাজেটে এই টার্নওভারের পরিমাণ ৩৬ লাখ টাকা থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত। এর মানে টার্নওভারের পরিসীমা বাড়ানোর ফলে ক্ষুদ্র ও মধ্যম শ্রেণির ব্যবসায়ীদের ভ্যাট দিতে হবে না। বড় ব্যবসায়ীদের ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে, যা আগে আরও বেশি দিতে হতো। এখন কম দিতে হবে, তাই দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে না।
ব্যাংকে এক লাখ টাকার ওপরে আমানতকারীদের সম্পদশালী দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংক হিসাবে নতুন ধার্য করা আবগারি শুল্কের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ সমস্যায় পড়বে না। কারণ যারা ব্যাংকে এক লাখ টাকার বেশি রাখবেন, তাদের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে। বড় লোকের ডেফিনেশন (সংজ্ঞা) দেয়া মুশকিল। আমার মনে হয় এক লাখ টাকা পর্যন্ত যার ডিপোজিট আছে, তাকে সম্পূর্ণ ভারমুক্ত রাখা সেটাই যথেষ্ট। তার বেশি যারা আছেন তারা মনে হয় যথেষ্ট সম্পদশালী আমাদের দেশের তুলনায়। সুতরাং তাদের জন্য এটা কোনো সমস্যা হবে না।

ব্যাংক খাতে সব দেশেই চুরি হয় : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘ব্যাংক খাতে সব দেশেই চুরি হয়। আমাদের দেশে একটু বেশি হয়েছে। এখন আমরা চেষ্টা করছি এটার রাশ টেনে ধরার।’
আজ শুক্রবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, ‘সরকারি ব্যাংকগুলো লুটপাটের মাধ্যমে দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছে। সরকার এখন বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর হাত দিচ্ছে। আপনি ব্যাংক খাতে সুশাসনের কথা বলেছেন। ব্যাংক লুটপাট হলে ওই সুশাসন হবে কি না?’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ৮০ ভাগ আসে বেসরকারি খাত থেকে। ২০ ভাগ আসে সরকারি খাত থেকে। কাজেই বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী হবে না।’
অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, বিএনপির মতো রাজনৈতিক দল সংসদের বাইরে, এ রাজনৈতিক ঘাটতি রেখে বাজেটের ঘাটতি পূরণ সম্ভব কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শের প্রতিফলন হয়েছে। তবে বাজেট হল জনগণের জন্য। কেউই জনগণের বাইরে নয়। তবে রাজনৈতিক ঐক্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জ্বালাও, পোড়াও কর্মসূচি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
মুহিত বলেন, ‘২০১৪-১৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ কম হয়েছে। তবে এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসায় বিনিয়োগে ভালো রেজাল্ট পাচ্ছি।’
জ্বালানি তেলের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম কমে না, এটা ঠিক নয়। তবে যে পরিমাণ কমানোর দরকার ততটা হয়নি। ধীরে ধীরে সমন্বয় করা হবে।’
কোন খাতে বরাদ্দ বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নিঃসন্দেহে জ্বালানি, সড়ক ও অবকাঠামো খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

দেশে লোডশেডিং নেই : শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশে কোনো লোডশেডিং নেই।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান প্রমুখ।
প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সাংবাদিক মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, সারা দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কোথাও কোথাও একটু সমস্যা থাকতে পারে। তবে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল চালের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে শিগগিরই সহনীয় মাত্রায় চলে আসবে।
দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা কম, তাই ভিক্ষাবৃত্তি কমানোর জন্য বাজেটে কোনো বরাদ্দ নেই বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
যেদিন বাজেট উপস্থাপন করা হলো সেদিনই গ্যাসের দাম বাড়াল হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়াইনি, আগে যা ছিল তাই আছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এবারের বাজেটের আকার চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s