দেড় বছরেই ৫ শিরোপা


real-zidanনিজের প্রজন্মের সেরা ফুটবলারই বলা হয় তাঁকে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। ২০০৬ সালে টাইব্রেকার-ভাগ্যে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপাটা জিততে পারেননি। জিনেদিন জিদান ফুটবল-প্রতিভা, ক্রীড়াশৈলী বিবেচনায় খেলোয়াড় হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসেছেন অনেক আগেই। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের কোচের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার মাত্র ১৭ মাসের মধ্যেই যে তিনি কোচ হিসেবে ‘অমরত্বের’ তালিকায় নাম লেখাবেন, সেটি বোধ হয় ভাবতে পারেননি ফরাসি কিংবদন্তি নিজেও।
গত মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে কার্লো আনচেলত্তিকে বিদায় করে হঠাৎই সহকারী কোচ জিনেদিন জিদানকে মূল কোচ বানিয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। ভালো ছাত্র কখনও ভালো শিক্ষক হতে পারে না- এটা যেন এক অমোগ সত্য কথা। জিনেদিন জিদানের ক্ষেত্রেও কী একই কথা প্রযোজ্য হবে? শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বাংলা ব্যাকরণে যেমন নিপাতনে সিদ্ধ- একটা নিয়ম আছে, জিদানকেও তাই নিপাতনে সিদ্ধ আখ্যা দেয়া যেতে পারে। সিনিয়র দলের কোচ হিসেবে তো মাত্র দেড় বছর পার করেছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবেই ক্যারিয়ার শুরু। বি দলের মূল কোচ ছিলেন কিছুদিন। এরপর আনচেলত্তির সহকারী। সিনিয়র দলের দায়িত্ব পালন করছেন প্রথম।
এই দেড় বছরেই (৫১২ দিনে) কি না কোচিং দর্শনের সমস্ত ক্যারিশমা তিনি দেখিয়ে দিলেন! রিয়ালের দায়িত্ব যখন নিয়েছিলেন তখন লা লিগায় পিছিয়ে অনেক দুর। কোপা ডেল রে থেকে ছিটকে গেছে আগেই। টিকে ছিল শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সম্ভাবনা। তবুও মিটি মিটি।
সে অবস্থা থেকে লা লিগার শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছেন জিদান। শেষ পর্যন্ত ভাগ্যে আর কুলায়নি। তবে যেটা করার সেটা করেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ১১তম শিরোপা উপহার দিয়েছেন রিয়ালকে। এরপর জিতেছেন উয়েফা সুপার কাপ। ক্লাব বিশ্বকাপ। এবারও কোপা ডেল রে থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন অনেক আগে। তবে লা লিগা এবং টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা উপহার দিয়েছেন লজ ব্লাঙ্কোজদের।
অথ্যাৎ মাত্র দেড় বছরে (৫১২ দিনে) ৫টি শিরোপা জিদান উপহার দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদকে। হিসেব করে দেখা গেছে প্রতি ১৭ ম্যাচ অন্তর একটি শিরোপা জিতেছেন জিদান। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ, লা লিগা, সিরি-এ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরো- কী জিতেননি! খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার পূর্ণ করেছেন সব প্রাপ্তি দিয়ে। কোচ হিসেবেও শুরুটা সোনায় মোড়ানো। একের পর এক ট্রফি জিতে যাচ্ছেন জিদান।
এত কিছুর পরও নাকি জিদান সেরা কোচ নন? কে বলেছে? জিদান নিজেই। তিনি এই সাফল্যের জন্য সব কৃতিত্ব ভাগ করে দিলেন নিজ দলের খেলোয়াড়দের। জিদান বলেন, ‘সত্যিই দারুণ একটি বছর কাটালাম। অবশ্যই এ জন্য খেলোয়াড়দেরকে অভিনন্দন জানানো উচিৎ আমাদের।’
খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। জিদান বলেন, ‘এই স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমই আমাদেরকে সাফল্য এনে দিয়েছে।’
নিজের খুশি এবং আনন্দ খুব একটা প্রকাশ করেন না জিদান। সেটাই জানালেন তিনি। জিদান বলেন, ‘আমি খুশি। তবে আমি চাই না এটার প্রকাশ ঘটুক। তবে ভেতরে ভেতরে আমি খুশি।’
যখনেই বলা হলো, আপনি তো এখন বিশ্বের সেরা কোচ। সঙ্গে সঙ্গেই এটাকে অস্বীকার করলেন জিদান। বললেন, ‘না না, আমি মোটেও তা নই।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s