শেষ চারে তিন দলই এশিয়ার


champion trophy 2017চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি গ্রুপপর্ব ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।  অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি দল। অবাক হলেও এই চার দলের তিনটিই এবার এশিয়া মহাদেশের, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। শেষ চারের অন্য দলটি আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড।
ক্রিকেট-দুনিয়া এমনটি প্রথম দেখে ২০১১ বিশ্বকাপে। ওয়ানডের বিশ্বকাপের সেই আসরে এশিয়া থেকে শুধু বাংলাদেশই ছিল না শেষ চারে।ছয় বছর পর আইসিসির আরেকটি ওয়ানডে টুর্নামেন্টে ২০১১ বিশ্বকাপ সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করল উপমহাদেশের দলগুলো। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গী হবে পাকিস্তান। যার অর্থ উপমহাদেশের অন্তত একটি দল ফাইনালে উঠছেই।
ভারত ছিল অন্যতম ফেবারিট। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সেমিফাইনালে ওঠাটা তাই কোনো বিস্ময় হয়ে আসেনি। ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকেই ওয়ানডেতে অন্য রকম দল বাংলাদেশ। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা বাংলাদেশ এবার সেমিফাইনালে উঠে ধরে রেখেছে উন্নতির ধারা। অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখে ‘বি’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে উঠেছে পাকিস্তান–শ্রীলঙ্কা ম্যাচের বিজয়ী। প্রথম ম্যাচে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে শোচনীয় হারের পর এই দুটি দলকে নিয়ে কেউই বাজি ধরার সাহস পায়নি।
ইংল্যান্ডের মাটিতে উপমহাদেশের দলগুলোর সাফল্যের রহস্য কী? পরশু দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করার পর প্রশ্নটার উত্তর দিতে হলো বিরাট কোহলিকে। ভারতের অধিনায়কের মতে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতাই এগিয়ে দিয়েছে এশীয়দের, ‘কারণটা সম্ভবত আমাদের বেশি বেশি সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলা। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে খেলে খেলে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অনেক বেড়েছে।’
শুধু বেশি ম্যাচ খেলাই নয়, কোহলির মতে প্রতিপক্ষকে বিস্মিত করে দেওয়ার ক্ষমতাও আছে উপমহাদেশের দলগুলোর, ‘কিছু কিছু দলের বিস্ময় উপহার দেওয়ার ক্ষমতাটাও সম্ভাব্য একটি কারণ। বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁদের দারুণ ব্যাটিং ও বোলিং প্রতিপক্ষকে অবাক করেছে।’
কোহলি এমনটা বলতেই পারেন। তাঁর দলের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা যেভাবে ৩২১ রান পেরিয়ে সহজেই জিতে গেল সেটি ছিল বিস্ময়কর। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর ২২৪ রানের জুটিতে ভর করে বাংলাদেশের জয়টি যেন ছিল আরও বিস্ময়-জাগানিয়া।
আগামীকাল বুধবার কার্ডিফে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। এই আসরে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড হারেনি। অন্যদিকে গ্রুপপর্বে ভারতের কাছে শোচনীয় হারের পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান।
পরের দিন বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। ভারত ফেভারিট হিসেবেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
বাংলাদেশও দারুণ পারফর্ম করে সেমিফাইনালে উঠে বিস্ময় ছড়িয়েছে। অবশ্য ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকেই মাশরাফির নেতৃত্বে ওয়ানডেতে অন্য রকম দল বাংলাদেশ।
সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে বিতর্কিত ম্যাচে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। এরপর বেশ কয়েকটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ এবার সেমিফাইনালে উঠে ধরে রেখেছে উন্নতির ধারা। আবার মুখোমুখি হচ্ছে সেই ভারতের।
ফলাফল যাই হোক, এশিয়া থেকে যে কোনো একটি দল এবার ফাইনাল খেলছে।
সেমিতে কে কার মুখোমুখি
১ম সেমিফাইনাল
১৪ জুন, কার্ডিফ
ইংল্যান্ড
পাকিস্তান
২য় সেমিফাইনাল
১৫ জুন, এজবাস্টন
বাংলাদেশ
ভারত
১৮ জুন, ওভাল
ফাইনাল
দুটি সেমিফাইনালই শুরু বেলা ৩-৩০ মি.

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s