বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ, ফাইনালে ভারত


264432একটি জয়ের প্রতীক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। আইসিসির বড় কোনো টুর্ণামেন্টের সেমিফাইনালে প্রথম পা রেখেছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে টাইগারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জয়ের আশার পেছনে যুক্তিও ছিল। সেভাবে শুরুও করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ষোলো কোটি মানুষকে হতাশ করে জয় ভেড়ে ভারতের বন্দরেই।
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে গতকাল বাংলাদেশের দেয়া ২৬৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটের বড় জয় পায় ভারত।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের দেয়া টার্গেটের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করেন ভারতের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। এ যেনো তাদের টুর্নামেন্টে দারুণ খেলার প্রতিচ্ছবি। হুক, পুল ও ড্রাইভে বাংলাদেশি ফিল্ডারদের বেসামাল করে অবিচ্ছিন্ন প্রথম উইকেট জুটিতে তারা তোলেন ৮৭ রান। এতেই দলটির জয়ের পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়।
অবশ্য দলীয় ৮৭ রানেই বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বলে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শিখর ধাওয়ান (৪৬)। এর সুবাদে তামিম ইকবালকে পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী বনে গেলেন তিনি। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত তার রান ৩১৭। ২৯০ নিয়ে পরের স্থানে আছেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার। ধাওয়ানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাকে নিয়ে ৪০.১ ওভারে জয় তুলে নেন রোহিত শর্মা। শেষ পর্যন্ত রোহিত শর্মা ১২৩ ও বিরাট কোহলি ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বরাবরের মতোই ব্যর্থ হন সৌম্য সরকার। প্রথম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ওয়ানডাউনে নেমে হাত খুলে খেলতে গিয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি সাব্বির রহমানও। দলীয় ৩১ রানে ১৯ করে ভুবনেশ্বর কুমারের দ্বিতীয় শিকার বনেন এ হার্ডহিটার।
তবে তৃতীয় উইকেটে ১২৩ রানের জুটিতে বিপর্যয় কাটিয়ে বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগান তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ৩৮তম অর্ধশত তুলে ৭০ করে ফিরে যান তামিম। আর ২৬তম অর্ধশত তুলে ৬১ করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মুশফিক।
এরপর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভালো জুটি গড়তে পারেননি সাকিব, মাহমুদুল্লাহ, মোসাদ্দেকরা। এতে বড় স্কোরের আশা ভেস্তে যায় টাইগারদের। শেষদিকে মাশরাফির ৩০ রানে আড়াই শ’ অতিক্রম করে বাংলাদেশ।
ভারতের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বড় স্কোরের আশা ভেস্তে দেন ভুবনেশ্বর কুমার, জসপ্রিত বুমরাহ ও কেদার জাদব।১ উইকেট নিয়ে এতে ভূমিকা রাখেন রবীন্দ্র জাদেজা।
সাকিবের ১৭ রানের অপেক্ষা : এজবাস্টনে দুর্দান্ত এক মাইলফলক স্পর্শ করতে সাকিব আল হাসানের প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। মাইলফলকটা ওয়ানডেতে ৫ হাজার রানের। কিন্তু আশা পূরণ হয় নি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের। ১৫ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার বলে কট বিহাইন্ড হয়ে গেছেন সাকিব। তাই মাইলফলকে পৌঁছাতে ১৭ রানের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাকে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে অসাধারণ সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে জয় উপহার দিয়েছিলেন সাকিব। তিন বছর পর সেটাই ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। সেমিফাইনালে তাই বাড়তি প্রত্যাশা ছিল সাকিবকে ঘিরে। কিন্তু সবার প্রত্যাশা মিটিয়ে ব্যাট হাতে তিনি জ্বলে উঠতে পারেন নি, ৫ হাজার রানের মাইলফলকেও পৌঁছাতে পারে নি।
৫০ ওভারের ক্রিকেটে পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ৫ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের ক্লাবে ঢোকার হাতছানি ছিল সাকিবের সামনে। কিন্তু আপাতত তিনি এই ক্লাবের ‘দরজা’র বাইরে দাঁড়িয়ে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিনটি ওয়ানডে খেলবে মাশরাফির দল। হয়তো ওই সিরিজেই আক্ষেপ দূর হয়ে যাবে ৪ হাজার ৯৮৩ রান ও ২২৪ উইকেটের মালিক সাকিবের।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s