WWW-3ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত হাইপার টেক্সট ডকুমেন্টগুলো নিয়ে কাজ করার পক্রিয়ায় ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব নামে পরিচিত। হাইপার লিংকের সাহায্যে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে ওয়েব পৃষ্ঠা দেখা যায়, যা টেক্সট, চিত্র, ভিডিও ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ হতে পারে।
সত্যি বলতে এখন ভার্চুয়াল জগত আমদেরকে ঘিরে রেখেছে যার একান্ত মূলে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব । ২০ থেকে ৩০ বছর আগে,আপনার যখন কোন তথ্য খোঁজার প্রয়োজন পড়তো—তখন চলে যেতেন কোন বইয়ের লাইব্রেরী আরসেখানে প্রায় যেকোনো বিষয়ের উপর তথ্য পাওয়া যেতো। কিন্তু আজকের দিনে আমরা কি করছি—বসে পড়ি কোন কম্পিউটার ডিভাইজের সামনে আর অনলাইনের সাথে যুক্ত হয়ে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে যেকোনো তথ্য খুঁজে বেড় করি,যা পৃথিবীর যেকোনো লাইব্রেরী থেকে অনেক বেশি পাওয়ারফুল। আপনি প্রায় যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময়, যেকোনো অবস্থায় এই তথ্য গুলো অ্যাক্সেস করতে পারেন—আর এটিই হলো দ্যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ।বর্তমানে আমরা ওয়েবের উপর এতোটাই বেশি নির্ভরশীল যে, আমরা ওয়েব ছাড়া বাঁচতে পারবো না।যাই হোক, এইতো মাত্র ২০ বছরের আগের কথা—যখন ওয়েব উদ্ভাবিত হয়েছিলো।কিন্তু অনেক কম সময়ের মধ্যে এটি অনেক বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে,এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়। তো চলুন বন্ধুরা, দ্যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সম্পর্কে সকলজানা-অজানা তথ্যের খোঁজ করতে আরম্ভ করি। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হচ্ছে বিস্তর জ্ঞানের জগত।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এবং নেটের মধ্যে পার্থক্য কি?
অনেকেই মনে করেন ওয়েব এবং ইন্টারনেট হলো একই বিষয়। আর যতক্ষণ আপনি এই ব্যাপারটি সম্পর্কে পরিষ্কার না হতে পারবেন,ততোক্ষণ পোস্টটির সামনে এগোনো সম্ভব হবে না। তাই চলুন আগে এই বিষয়টি ভালকরে জেনে নেওয়া যাক। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর ভূমিকা অপরিসীম দ্যা ইন্টারনেট—হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড কম্পিউটারের একটি সুবিশাল নেটওয়ার্ক।ইন্টারনেটে অনেক কাজ হতে পারে (এগুলোকে অ্যাপ্লিকেশন বলা হয়) এবং ওয়েব হলো তার মধ্যে একটি কাজ। যখন আপনি কাওকে কোন ইমেইল পাঠান, তখন আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন—কেনোনা আপনার ম্যাসেজটি একটি সংযোগের মাধ্যম দিয়ে অন্য কম্পিউটারে গিয়ে পৌছাচ্ছে।আবার আপনি যখন কারো সাথে চ্যাট করছেন তখনও আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন—কেনোনা আপনার ম্যাসেজ বারবার নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে প্রেরন এবং গ্রহন হচ্ছে।
কিন্তু আপনি যখন আপনার ব্লগ আপডেট করেন বাগুগলে কোনকিছু অনুসন্ধান করেন, তখন আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করেন ওয়েব। ইন্টারনেট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে আমার লেখা “ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে?” আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। দ্যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হলো পৃথিবী জুড়ে টেক্সট পেজস, ডিজিটাল ফটোগ্রাফস, মিউজিক ফাইলস, ভিডিওস, এবং এনিমেশনের এক বিরাট সম্ভার, যা আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করতে পারেন।দ্যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর সবচাইতে স্পেশাল বিষয়টি হলো, এর প্রত্যেকটি তথ্য একে অপরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত থাকে।ওয়েব তৈরির সবচাইতে বেসিক উপকরন হলো টেক্সট পেজ (যেমন এই পেজটি), যা ওয়েবপেজ নামেও পরিচিত।একটি কম্পিউটারে থাকা অনেকগুলো ওয়েবপেজ সংগ্রহমালাকে বলা হয় ওয়েবসাইট। প্রত্যেকটি ওয়েবপেজে (সাথে এই পেজটিও)হাইলাইট করা বাক্যাংশ থাকে যাকে লিঙ্কস বলা হয় (অথবা হাইপার টেক্সট লিঙ্কস)।যেকোনো লিঙ্কে ক্লিক করার মাধ্যমে আরেকটি ওয়েবপেজে প্রবেশ করা যায়, আর এভাবে এই প্রক্রিয়াটি চলতেই থাকে।

কীভাবে কম্পিউটাররা একে অপরের সাথে একই ভাষায় কথা বলে?
ইন্টারনেটের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—ইন্টারনেটে থাকা প্রত্যেকটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে তথ্য বিনিময় করতে পারে।আর এটাই হলো ইন্টারনেটের সবচাইতে খাস ব্যাপার।যদি পেছনের দিনের কম্পিউটার গুলোর দিকে ফিরে দেখা যায়,১৯৬০, ১৯৭০, ১৯৮০ সালের কম্পিউটার গুলো নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময় করার ক্ষমতা ছিল বিরল ঘটনা।প্রত্যেকটি মেশিন আলাদা আলাদা প্রস্তুতকারী কোম্পানি দ্বারা প্রস্তুতকৃত ছিল এবং কেউই অন্য মেশিনের ভাষা বুঝতে সক্ষম ছিল না।১৯৭০ সালের দিকের ব্যাক্তিগত কম্পিউটার গুলোর একটি সাধারন প্রোগ্রাম চালানর মতোও ক্ষমতা ছিল না।প্রত্যেকটি কম্পিউটার শুধু সেই প্রোগ্রাম গুলোই চালাতে পারতো যা বিশেষভাবে তাদের জন্য লেখা হতো।ইমেইল এবং চ্যাটের মতো জিনিষ গুলো ছিল তখন অসম্ভব।কিন্তু ১৯৮০ সালের দিকে আইবিএম নামক একটি বৃহৎ কম্পিউটার কোম্পানি তাদেরনতুন ব্যাক্তিগত কম্পিউটার উদ্ভবনের জন্য বেশ খ্যাতি অর্জন করেন।বেশিরভাগ মানুষ তাদের কম্পিউটার ক্লোন করে নেন এবং খুব শীঘ্রই বেশিরভাগ ব্যাক্তিগত কম্পিউটার একই পদ্ধতিতে কাজ করতে আরম্ভ করে দেয়।এর পরে মাইক্রোসফট তাদের একটি সফটওয়্যার উদ্ভবন করে যার নাম হলো উইন্ডোজ।আইবিএম কম্পিউটার গুলোতে উইন্ডোজ চালু করানোর ফলে সকল কম্পিউটার গুলো একই প্রোগ্রামে চালানো সম্ভব হয়েছিলো। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন কম্পিউটার গুলোর একে অপরের সাথে কথা বলা এতটাও সহজ ছিল না।যেমন ব্যাক্তিগত কম্পিউটারের সাথে বড় কম্পিউটার মেশিন গুলো এবং বিজ্ঞানের গবেষণার কম্পিউটার গুলো সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতো না। তাহলে কীভাবে এই বিভিন্ন ভাষার কম্পিউটার গুলোর একে অপরের সাথে কথা বলানো সম্ভব হয়েছিল? ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মধ্যে আমরা আবদ্ধ।
এই বিরাট সমস্যার সমাধান ঘটান একজন ইংরেজ কম্পিউটার বিজ্ঞানিক—যার নাম টিম বার্নারস-লী। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি একটি ইউরোপিয়ান পদার্থবিদ্যা পরীক্ষাগারে কাজ করতেন,যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আগত ব্যাক্তিরা কাজ করতো এবং প্রত্যেকেই আলাদা ভাষার বেমানান কম্পিউটার দিয়ে কাজ করতো।ফলে প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার তথ্য গুলো শেয়ার করা সম্ভব ছিলনা।কারন তাদের কম্পিউটার গুলো একে অপরের সাথে তথ্য বিনিময় করতে সক্ষম ছিল না।আর তখনই টিম বার্নারস-লী এক আশ্চর্য আবিষ্কার করলেন, যার ফলে প্রত্যেকটি কম্পিউটারের মাঝে কথা বলানো সম্ভব হলো।

এইচটিটিপি (HTTP) এবং এইচটিএমএল (HTML) এর মধ্যে পার্থক্য কি?
যাই হোক, পূর্বের কম্পিউটার গুলো অনেক বেমানান ছিল এবং তারা ASCII (American Standard Code for Information Interchange)পদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য সংরক্ষন করে রাখতো। আর একে “plain text” নামেও জানা যেতো।
ASCII তে 0-255 নাম্বার গুলো বিভিন্ন অক্ষর, নাম্বার, এবং কীবোর্ড অক্ষর যেমন A, B, C, 1, 2, 3, %, &, এবং @ এর রুপান্তর হিসেবে কাজ করে। টিম বার্নারস-লী ASCII এর দুইটি বেসিক সিস্টেম ব্যবহার করে যা কম্পিউটার পরিভাষায় প্রোটোকল বলা হয়। এরপর তার ল্যাবের সকল কম্পিউটার এই দুই নিয়ম অনুসরন করাতে লাগলো এবং তিনি উপলব্ধি করলেন যে,কম্পিউটার গুলো তাদের মধ্যে সহজেই তথ্য বিনিময় করতে সক্ষম হয়েছিলো। তিনি প্রথম নিয়মটিকে নাম দিলেন এইচটিটিপি (হাইপার টেক্সট ট্র্যান্সফার প্রোটোকল) (HTTP)। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি যার মাধ্যমে দুইটি কম্পিউটার তাদের মাঝে কিছু আলাপ করে যেকোনো তথ্য বিনিময় করতে পারে।একটি কম্পিউটার (যাকে ক্লায়েন্ট বলা হয়, এবং যে প্রোগ্রাম ব্যবহার করে কাজ করে তাকে ওয়েব ব্রাউজার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বলা হয়)আরেকটি কম্পিউটারের (যাকে সার্ভার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ওয়েব সার্ভার বলা হয়ে থাকে)কাছে কোন তথ্য চেয়ে জিজ্ঞাসা করে একটি সাধারন ম্যাসেজের রূপে। এরপরে ক্লায়েন্ট এবং সার্ভার একে অপরের সাথে কয়েক সেকেন্ড চ্যাট করে, ব্রাউজার সার্ভারের কাছে কোন তথ্য চেয়ে অনুরোধ করে এবং সার্ভার যদি তা খুঁজে পায় তবে তা ব্রাউজারকে পাঠিয়ে দেয়। ওয়েব ব্রাউজার এবং ওয়েব সার্ভারের মধ্যে এই এইচটিটিপি আলাপ অনেকটা “খাবারের টেবিলে লবণ পাস করার মতো”। অনেক সময় আপনার লবনের প্রয়োজন পড়ে এবং আপনি টেবিলে বসা অন্য কাউকে লবণদানিটি পাস করতে বলেন আর সে বলে “এই নাও তোমার লবণদানিটি”।এইচটিটিপি এই একইভাবে কাজ করে, এটি এমন একটি ভাষা যা প্রত্যেকটি কম্পিউটার জানে,এবং এর মাধ্যমে আলাপ করে কম্পিউটার গুলো একে অপরেরর সাথে ফাইলস শেয়ার করে। এইচটিটিপির মাধ্যমে কোন ফাইলট কম্পিউটারের কাছে আসলে সেই ফাইলটিকে প্রদর্শন করানোর জন্য অবশ্যয় কম্পিউটারকে সেই ফাইলটি চিনতে হয়। তাই এখানে টিম বার্নারস-লী তার জিনিয়াস হওয়ার আরেকটি উদাহরণ দেখিয়েছেন। তিনি তথ্য শেয়ার করার জন্য একটি কমন ভাষার ব্যবহার করে যা এইচটিএমএল (HTML) নামে পরিচিত। এইচটিএমএল ASCII সিস্টেমের উপর নির্ভর, তাই যেকোনো কম্পিউটার এটি বুঝতে পারে।
এইচটিএমএল এ রয়েছে কিছু স্পেশাল কোড যা ট্যাগ নামে পরিচিত। ওয়েব ব্রাউজার এই ট্যাগ গুলো পড়েএবং বোল্ড ফন্ট, ইটালিক, হেড লাইনস, টেবিল, এবং ইমেজেস পরিদর্শন করে। আপনি চাইলেএই ওয়েবপেজটির গোপন এইচটিএমএল কোড গুলো দেখতে পারেন। আপনার ওয়েব ব্রাউজার থেকে পেজটির উপরে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব View page source অপশনটিতে ক্লিক করুন, ব্যাস আপনি দেখতে পেয়ে যাবেন।
এইচটিটিপি (HTTP) এবং এইচটিএমএল (HTML) হলো ঐ সিস্টেম যার উপর নির্ভর হয়ে দ্যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কাজ করে।এইচটিটিপি হলো একটি সাধারন উপায়—যার মাধ্যমে কম্পিউটার গুলো একে অন্যের কাছে ওয়েবপেজ চেয়েঅনুরোধ করে এবং এইচটিএমএল হলো সেই ওয়েবপেজ যা সকল কম্পিউটার পড়তে পারে

Advertisements