virat-kohli-&-sarfraz-ahmed.jpgআইসিসির কোন আসরে এক দশক পর ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবারই প্রথম। ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে বাংলাদেশের দেয়া লক্ষ্য ৯ উইকেট হাতে রেখেই টপকে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। এশিয়ার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দলের শিরোপার লড়াই কাল রোববার, ওভালে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পুরো আসরেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালের মঞ্চে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত।অন্যদিকে আন্ডারডগ তকমা নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করা পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেলেও ঘুরে দাঁড়ায়। এশিয়ার আরেক দল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে। সেমিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চমক দিয়েই ফাইনালে ওঠে পাকিস্তান।
ফুটবলে যেমন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা একটি ফাইনালের অপেক্ষায় থাকে পুরো বিশ্ব। ক্রিকেটে ঠিক তেমনই কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে একটিবার ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হোক- এটা চান সব ক্রিকেটভক্ত, দর্শক সমর্থক। কিন্তু দু’দলের দীর্ঘ ক্রিকেট ঐতিহ্যে অনেক মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা রয়েছে। একটিবারের মত ওয়ানডে ক্রিকেটের কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপা লড়াই করতে দেখা যায়নি চির প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশকে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। এরপর বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারতও। আর তাতেই প্রথমবারেরমত একটি ফাইনালে শিরোপা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে দুই চিরশত্রু ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের সব রঙ, রূপ, রস, গন্ধ মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে যেন এই একটি ফাইনালকে ঘিরে।
কাল লন্ডনের কেনিংটন ওভালে হবে স্বপ্নের এ ফাইনাল। এর আগে ভারত-পাকিস্তান একবার স্বপ্নের ফাইনাল হয়েছিল। সেটা টি- টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়ে, সেবার ভারতের কাছে ৫ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল টান টান উত্তেজনায় ভরা। একই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে একবার মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। ম্যাচটি টাই হয়ে গিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বোল আউটে জিতেছিল ভারতই। এছাড়া আইসিসি বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে দেখা হয়নি দু’দেশের। এমনিতে আইসিসি ইভেন্ট মানেই ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব। ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৬ বার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরেছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছে ৫ বার। হার প্রতিবারই। শুধু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে (এবারের আগে) ৪ ম্যাচ খেলে ২টি করে জয়-পরাজয় রয়েছে। শুধু আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট কেনো, এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৩টি আসরে ভারত এবং পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছে ১১বার। ৫ বার করে দু’দলেরই জয় রয়েছে। বাকি ১টা ফলশূন্য। এই ১১ বারের মধ্যে একবারও ফাইনালে দেখা হয়নি দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর। এমনিতে ক্রিকেটে সব টুর্নামেন্ট ও সিরিজ বিবেচনায় দু’দল মুখোমুখি হয়েছে মোট ১২৯টি। এর মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ৭২টি। ভারত ৫৩টি। আর ৪টি হলো ড্র। এবারের টুর্নামেন্টেও শুরুতে দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল একবার। এজবাস্টনের বার্মিংহ্যামের এই মাঠেই পাকিস্তানকে ডি/এল মেথডে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ছে ভারত। ওই ম্যাচের পরই ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উঠে যায় স্বপ্নের ফাইনালে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে হারিয়ে ভারতও উঠে গেলো ফাইনালে। রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্ক নিয়ে ২০০৭ সালের পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে দেখা যায়নি ক্রিকেটপাগল এ দুই দেশকে। যদিও ২০০৯-১০ মৌসুমে সীমিত ওভারের এক সিরিজ খেলতে ভারত সফরে যায় পাকিস্তান দল। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সফল অলরাউন্ডার ৭৩ বছর বয়সী আসিফ ইকবাল বলেন, এটা এশেজের মতো। তবে ইতিহাস, পটভূমি, রাজনীতি দেখে আমার কাছে এটাকে এশেজের চেয়ে বড় মনে হয়। পাক-ভারত ম্যাচকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা থাকে দু’দলের সমর্থকদের মাঝে। আর এ ম্যাচে আলাদা আবেগ ভর করে দু’দলের খেলেয়াড়দেরও। ভারতের সাবেক ওপেনিং ব্যাটসম্যান আকাশ চোপড়া বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার আগে ভারতের ক্রিকেটাররা এখন চাপ বোধ করে না। আর দেশ হিসেবেও চিত্র বদলেছে। একটা সময় ছিল পাকিস্তানকে হারানোটা ছিল জীবন-মৃত্যুর প্রশ্নে জাতি হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা।

Advertisements