tofaelচালের মূল্যবৃদ্ধি একটি কৃত্রিম সংকট উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বাজারে চালের অভাব নেই, দেশে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ রবিবার ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সেমিনার হলে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত বাজেট উত্তর সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আরও ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে। চাল আমদানির ওপর ১০ ভাগ হারে আমদানি শুল্ক ছিল, দেশের কৃষকদের সুরক্ষার জন্য আরো ১৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যাতে দেশের কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পান।’
অল্প সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল, আজ দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব নেই। আমরা চাল রফতানি করতে শুরু করেছি। দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমান দিন দিন কমছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও দেশে কোনও খাদ্য সংকট হবে না।’
প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এমন বাজেট পাস করা হবে না, যাতে দেশের মানুষ কষ্ট পায়। বাজেট পাস করার পর সবাই খুশি হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভ্যাট ও ট্যাক্স নিয়ে জাতীয় সংসদে এবং বাইরে আলোচনা হচ্ছে। বাজেট পাস হওয়ার পর আর কোনও আলোচনা থাকবে না। ভ্যাট এবং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে বাস্তবসম্মত হবে। জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় সংসদনেতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় তা স্পষ্ট হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পোভার্টি স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কাজল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ব্যারিস্ট্রার জাহাঙ্গীর, ড. মিহির কুমার রায় এবং ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।

Advertisements