Pakistan-Champion (icc-2017)পাকিস্তান ক্রিকেট দল মানেই অনুমান-অসম্ভব কিছু একটা। এই দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে অনেক সময়ই বোকা বনে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তানের সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি মানুষকে কথা বলতে দেখা যায়নি। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বড় হারের পর তো আরও নয়। কিন্তু সেই পাকিস্তানই সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিল! জিতে নিল শিরোপা!

সব কৃতিত্ব দলকেই দিলেন সরফরাজ

sarforaj ahmed.jpg

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান বাজেভাবে হেরে গিয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে। সেই দলই এরপর খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। টানা ৩ ম্যাচ জিতে জায়গা করে নেয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। আর ফাইনালে তো দলটি রীতিমতো কচুকাটা করেছে সেই ভারতকেই। রোববার ওভালে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ের উৎসব করেছে পাকিস্তান। আর এমন সোনায় মোড়ানো সাফল্য অর্জনের কৃতিত্বটা কাউকে আলাদা করে নয়, পুরো দলকেই দিয়েছেন দলটির অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে হারটি বাদ দিলে সব ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে পাকিস্তান। ব্যাটিংয়ে নবাগত ফখর জামান আলো ছড়িয়েছেন। ফাইনালে হাঁকিয়েছেন অসাধারণ সেঞ্চুরি। ১১৪ রানের ইনিংসে পেয়েছেন ফাইনালের ম্যাচ সেরার পুরস্কার। বোলিংয়ে তোপ দাগিয়েছেন আরেক তরুণ হাসান আলি। ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী তো বটেই। আর চোট কাটিয়ে ফাইনালে ফিরে ভারতের টপ-অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ আমির। একাই রোহিত-কোহলি-শিখরকে সাজঘরে পাঠিয়ে পাকিস্তানের জয়ের পথ তৈরি করে তো তিনিই দিয়েছেন!
এই তিন ক্রিকেটারকে নিয়ে গর্বের শেষ নেই পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজের। তবে শিরোপা জিততে মাঠে এগারোজনকেই তো সেরাটা ঢেলে দিতে হয়েছে। তাই পুরো দলকে অভিনন্দন জানিয়ে ম্যাচশেষে সরফরাজ বলেছেন, ‘ফখর অসাধারণ খেলোয়াড়। দলে ওর প্রভাবটা পড়েছে বেশ। তার প্রথম আইসিসি টুর্নামেন্ট, আর সে খেলেছে চ্যাম্পিয়নের মতো। ভবিষ্যতে সে বড় কিছু হবে। আমাদের বোলাররা খুব ভালো বল করেছে। আমির, হাসান, শাদাব, জুনাইদ সবাই! শিরোপা জেতাটা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলবে নিঃসন্দেহে। তবে আমাদের দলটা তরুণ। আর শিরোপা জেতার কৃতিত্বটা দলের সবার।’
টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো না হলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর সবসময় বিশ্বাস রেখেছিলেন সরফরাজ। মনের কোণে লালন করেছিলেন শিরোপার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করে বাধভাঙা উল্লাসে জানিয়েছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি ছেলেদের বলেছিলাম, টুর্নামেন্টটা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এরপর আমরা ভালো খেলেছি আর শিরোপাই জিতে গেছি!’

কারণ খুঁজছেন কোহলিও :

Virat Khole.jpg

 চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হার। সেটাও আইসিসির টুর্নামেন্টের ফাইনালে। পাকিস্তানের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিটা খুইয়েছে ভারত। তবে এ নিয়ে বাড়তি কোনো দুঃখ নেই বলে দাবি করলেন বিরাট কোহলি। বরং, এ হারকে আরেকটি সাধারণ হার হিসেবেই দেখছেন ভারত অধিনায়ক।
পাকিস্তানের দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ের সামনে দ্বিতীয় দল হয়ে ছিল ভারত। ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে রীতিমতো খাবি খেয়েছে ভারত। অন্তত পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন কোহলিও, ‘পাকিস্তানকে অভিনন্দন, দারুণ এক টুর্নামেন্ট কাটাল ওরা। যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে ওদের প্রতিভা বোঝা যায়। আবারও প্রমাণ করেছে, নিজেদের দিনে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অঘটন ঘটাতে পারে ওরা। আমাদের জন্য এটি হতাশার, তবু হাসতে পারছি, কারণ ভালো খেলেই ফাইনালে এসেছি। ওদের কৃতিত্ব দিতে হচ্ছে, আমাদের প্রতিটি বিভাগে হারিয়ে দিয়েছে। খেলায় এটাই হয়।’
ফখর জামানের এক ইনিংসই কি ছিটকে দিয়েছিল ভারতকে? তাঁর ইনিংসে পাকিস্তান রানের পাহাড়ে চড়েছিল। সেই চাপ নিয়ে ব্যাটিং করতে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বিধ্বংসী এক স্পেলের মুখে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা। অথচ জামান আউট হতে পারতেন শুরুতেই। জসপ্রীত বুমরার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েও নো বল হওয়ায় বেঁচে যান। পরে ১১৪ রানের ইনিংসে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিতিয়েছেন এই ওপেনার। ভারতীয় সমর্থকদের আক্ষেপ আছে এ নিয়ে।
কোহলি অবশ্য এটিকে খুব বড় করে দেখলেন না, ‘হ্যাঁ, ক্রিকেটে ছোট ছোট ঘটনাই বড় হয়ে ওঠে। তবে ফাইনাল হলেও একটা ম্যাচই তো হেরেছি। আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে হবে।’
অথচ ফাইনালে ভারতকে এগিয়ে রাখছিল সবাই। পাকিস্তানকে কি তবে হালকাভাবে নেওয়াতেই হেরে গেল ভারত? কোহলি নিজে কারণ খুঁজছেন এমন ব্যর্থতার। তবে সেই কারণের তালিকায় পাকিস্তানকে হালকা করে নেওয়ার কোনো আলামত পাননি, ‘আমরা কাউকেই হালকাভাবে নিইনি। কিন্তু ওরা আমাদের চেয়ে বেশি তীব্রতা ও আবেগ নিয়ে খেলেছে। বোলিংয়ে আমরা আরও বেশ কয়েকটি উইকেট তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারতাম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি কিন্তু বোলিংয়েও ওরা আক্রমণাত্মক ছিল। হার্দিক ছাড়া আমাদের কেউ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কে কী পুরস্কার পেলেন : আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের পর্দা নামলো আজ। ফাইনাল ম্যাচে ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিল পাকিস্তান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে শিরোপা ঘরে তুললো তারা। আজকের ম্যাচে সেঞ্চুরি করায় প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানি ওপেনার ফখর জামান। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৩টি উইকেট শিকার করায় গোল্ডেন বল ও প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার পেয়েছেন পাকিস্তানি পেসার হাসান আলী।আর টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩৩৮ রান করায় গোল্ডে ব্যাট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। তাহলে এক নজরে দেখে নেয়া যাক কে কী পুরস্কার পেলেন।

চ্যাম্পিয়ন: পাকিস্তান

রানার আপ: ভারত

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ফখর জামান (পাকিস্তান)

গোল্ডেন ব্যাট: শিখর ধাওয়ান (ভারত)

গোল্ডেন বল: হাসান আলী (পাকিস্তান)

প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: হাসান আলী (পাকিস্তান)

Advertisements