বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ


Science gave the velocity.jpgবিংশ শতাব্দীর শেষ দিককার কথা। ধরলাম ১৯৯২-৯৩ সাল। সময়ের হিসেবে নেহাত কম নয়। আমাদের গ্রামের বাজারে হাট বসত সপ্তাহে দুই দিন। সোম আর বৃহস্পিতবার। বাবা বা দাদা বাজার থেকে ফিরলেই ব্যাগ খুলে দেখতাম কী মাছ কিনেছেন! সাধারণত: রুই, মৃগেল, ইলিশ, কালি বাউশ, চাপিলা বা কাচকি, অর্থাৎ যে মাছগুলো সচারচর ধরতে পাওয়া যায় না সেগুলোই কিনতেন।তাও চাকুরীজীবী বলেই মাছটা কিনে খেতে হতো। কারণ, দুই শ্রেনীর লোককে তখন মাছ কিনতে দেখা যেত- এক. চাকুরীজীবী, দুই. বাদাইম্যা (বাপের টাকা খাওয়া অলস পুত্র)। অর্থাৎ মাছ কিনে খাওয়াটা তখন অবস্থাভেদে আভিজাত্য বা অলসতার লক্ষণ ছিল। কিন্তু এখন আর সেদিন কোথায়?
মাছ কিনে খাওয়াটাই এখন মুখ্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এখন ঘরে বেসই কেনা হয় মাছ। মোবাইলে অর্ডার দিলেই হলো। শুনেছি পুকুরে এখন বোয়াল মাছেরও চাষ হয়, ক’দিন পর হয়তো ইলশেরও হবে।
তবে প্রযুক্তি কখনই ভালবাসার স্থান দখল করতে পারেনা। যতই ফোনে, ফেসবুকে কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করবার চেষ্টা করিনা কেন তাতে আসল ভালবাসা কখনই পাওয়া যায়না। কাছের মানুষের সঙ্গে সামনা সামনি কথা বলা, জড়িয়ে ধরা এগুলো কি কখনও কোন ডিভাইস দিয়ে সম্ভব? বাবা-মা এর স্পর্শ ছাড়া কি ভালবাসা হয়? পৃথিবীর কোন প্রযুক্তিই ভালবাসার জায়গা দখল করতে পারবেনা। ভালবাসা সে যে জড়িয়ে ধরার আনন্দ, সামনা সামনি কথা বলার আনন্দ তা যতো প্রযুক্তিই আসুক না কেন সেটার আবেগ কখনো মেটাতে পারবে না। আসুন না সময় করে হলেও মাসে একবার প্রিয় মানুষগুলোর মুখোমুখি হই, তাদের জড়িয়ে ধরি।
বিশ্বকে আজ হাতের মুঠোয় এনেছে যে প্রক্রিয়া তার নাম ইন্টারনেট। তথ্য প্রযুক্তির এ ক্ষেত্রটি আজ পুরোবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।ইন্টারনেট ব্যবস্থা পৃথিবীর সকল কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে একটি যোগাযোগ জাল (Communication net)-এ আবদ্ধ করেছে।ইন্টারনেটের সাহায্যে মানুষ উন্নীত হয়েছে এমন এক স্থরে যেখানে সারাবিশ্বের সকল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী একটি সমাজে পরিণত হয়েছে।তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে এর মাধ্যমে।মানুষের সময় ও দূরত্বকে কমিয়ে এনেছে ইন্টারনেট।
ইন্টারনেটই প্রযুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সবক্ষেত্রে যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিক রয়েছে। সবকিছুর মতো প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটেরও রয়েছে কিছু খারাপ দিক। অভিভাবকদের দায়িত্ব ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে শিশু- কিশোরকে রক্ষা করা। এ প্রসঙ্গে কিশোর বয়সীদের থেরাপিস্ট এবং শিক্ষক জো ল্যাংফোর্ড বলেছেন, কোনো দায়িত্ববান অভিভাবকই গাড়ির চাবি সন্তানের হাতে দিয়ে গাড়ি চালানো শিখতে বলবেন না। আমাদের ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও এটি করা উচিত নয়। গাড়ির মতো এক্ষেত্রেও আমাদের দায়িত্বশীল এবং বিচক্ষণ হতে হবে, তাদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার পরিপক্বতা, দায়িত্বশীলতা এবং ভালো বিচারক্ষমতা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদের তাদের সঙ্গে থাকতে হবে। সেই সােথ নিজের প্রযুক্তিপণ্য সচেতনভাবে ব্যবহার করুন। যেমন- স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ইত্যাদি ব্যবহারে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। শিশুদের পাশে কখনো খারাপ সাইটগুলোতে প্রবেশ করবেন না।
বেচে থাকুক ভালবাসা সবার মাঝে চিরকাল এই কামনাই করি

 

 

 

Advertisements
This entry was posted in Artikel/Data (প্রবন্ধ). Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s