ডাবের পানির উপকারিতা ও ক্ষতি


dab, coconutডাব আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি ফল। ফলটি কচি অবস্থায় সবুজ এবং পরিপক্ব অবস্থায় হলদেটে ভাব ধারণ করে। এই ফলটি কদর সবচেয়ে বেশি গ্রীষ্মকালে। কারণ এ সময় প্রচন্ড গরমে তৃষ্ণা মেটাতে মানুষ ডাবের পানি পান করে থাকেন। তবে আপনি কি জানেন, তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি ডাব ছয়টি রোগও নিরাময় করে থাকে।
এটি অত্যন্ত উপকারী একটি প্রাকৃতিক পানীয়। সরাসরি ডাব থেকে পাওয়া যায় বলে এতে কোনো প্রকার কৃত্রিমতার ছোঁয়া নেই। নেই কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও। বেশ কিছু কারণেই ডাবের পানি শরীরে জন্য উপকারী। তার মধ্যে অন্যতম কিছু গুণাবলী আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো। চলুন এবার তা জেনে নেওয়া যাক-
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রনে রাখে : ডাবের পানির প্রাকৃতিক মিনারেলস শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে। এতে করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য কার্ডিওভ্যসকুলার রোগের সম্ভাবনা কমে।
হজম সমস্যা দূর করে : প্রতিদিন অন্তত ১ গ্লাস ডাবের পানি পান করার ফলে বুকজ্বলা, হজম সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপার সমস্যা দূরে থাকে। খাবার হজমে সহায়তা করে হজম সংক্রান্ত সকল সমস্যা দূর করে ডাবেন পানি।
ওজন কমাতে সহায়তা করে : ওজন কমানোর জন্য ডায়েটিং করছেন? তাহলে অন্যান্য পানীয়ের মধ্যে বেছে নিন ডাবের পানি। যেকোনো চিনিযুক্ত ফলের জুসের চাইতে বেশি কার্যকরী এই ডাবের পানি। কারণ ডাবের পানিতে বিন্দুমাত্র ফ্যাট নেই।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে : রিবোফ্লেবিন, নিয়াসিন, থায়ামিন এবং পেরিডক্সিন সমৃদ্ধ ডাবের পানি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে। এছাড়া ডাবের পানির অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যকটেরিয়াল উপাদান বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ থেকেও রক্ষা করতে সহায়তা করে।
কিডনির সমস্যা দূরে রাখে : ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্যকরী মিনারেল যেমন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। এই মিনারেল সমূহ কিডনির বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং ডাবের পানি ইউরিনের কোনো সমস্যা দূর করে।
ত্বকের সুরক্ষা করে : ডাবের পানি ত্বকের জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী। নানা সমস্যা যেমন ভ্রন, মেছতা, ছোপ ছোপ দাগ, উজ্জ্বলতা হারানো, ত্বকের ইনফেকশন এইসব সমস্যা দূর করে নিয়মিত ডাবের পানি পান করার অভ্যাস। পানের পাশাপাশি ত্বকে সরাসরি ডাবের পানি ব্যবহারও অনেক উপকারী।
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে : ডাবের পানি খাবার হজমে বিশেষভাবে সহায়ক। এতে করে বদহজমের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা নিয়মিত ডাবের পানি পান করার অভ্যাসে সহজেই দূর করা সম্ভব।

ডাবের পানির কিছু অপকারিতা:
ক্যালরি বাড়ায়: যারা ওজন কমাতে চান তাদের ডাবের পানি বেশি না খাওয়াই ভাল। কারণ, ডাবের পানি শরীরে ক্যালরির মাত্রা বাড়ায়। অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয় বা ফলের রসের তুলনায় ডাবের পানিতে চিনির পরিমান কম থাকে। তবুও ডাবের পানি খেলে নিমেষে বেড়ে যায় ক্যালরি।
রক্তে শর্করা মাত্রা বাড়ায়: ডাবের পানি চিনির পরিমান কম থাকলেও কার্বহাইড্রেট ও ক্যালরি অধিক মাত্রায় থাকার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তাই ডাবের পানি প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয়। ডায়বেটিস থাকলে ডাবের পানি এড়িয়ে যাওয়াই উচিত।
রক্তাচাপ বাড়িয়ে দেয়: শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমানে থাকা সোডিয়াম রক্তাচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক ভাবেই বেশি তাদের ডাবের পানি প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয়।

তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ডাবের জল খাওয়ার কিছু বিধিনিষেধ আছে।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেই ডাবের জল খাওয়া উচিত। কিডনিতে পাথর রয়েছে বা ডায়ালিসিস চলছে, এমন রোগীদের ডাবের জল খাওয়া নিষেধ। কারণ, উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু হঠাৎ রক্তচাপ বা রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে বা ডিহাইড্রেশন হয়ে শরীর খারাপ লাগলে অত্যন্ত উপকারী ডাবের পানি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s