সতর্ক হোন ‘পারফিউম/সুগন্ধি’ ব্যবহারে


body espre, perfumeসুগন্ধী মাখতে আমরা সকলেই পছন্দ করি। সবারই হয়তো এক ব্র্যান্ড ভালো লাগেনা। তবে বাইরে বেরোবার আগে শরীরে একটু পারফিউম না লাগিয়ে নিলেই নয়। কিংবা একটু বডি স্প্রে!
অফিস, কোন অনুষ্ঠান কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার সময় পরিপাটি সাজগোজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশই হলো পারফিউম বা সুগন্ধি। পারফিউম শরীরে মাখার একটাই কারণ, যাতে আপনার দেহ থেকে সুগন্ধ বেড়িয়ে আসে।
কিন্তু আপনি কি জানেন যে, আপনার এই অল্প সময়ে ফিটফাট ও কেতাদুরস্ত থাকার ফলাফল প্রচন্ড বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে আপনার ভবিষ্যতকে? সম্প্রতি বেশকিছু গবেষণায় উঠে এসেছে যে সুগন্ধী বা বডি স্প্রেগুলো অদূর ভবিষ্যতে মানুষের শরীরে তৈরি করতে পারে নানারকম চর্মরোগ থেকে শুরু করে ক্যান্সার অব্দি!
কিন্তু সত্যিই কি সুগন্ধী ক্যান্সারের কারণ হতে পারে? চলুন জেনে আসি।
২০১৪ সালে ন্যাশনাল এ্যাকাডেমি অব সায়েন্স অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তে আসা হয় যে, স্টাইরিন নামের উপাদানে তৈরি যেকোন জিনিসই মানুষের শরীরের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে ( ইডব্লিইউজি )। আর এই জিনিসগুলোর ভেতরে রয়েছে এমনকিছু জিনিসের নাম যেগুলো ধোঁয়া বা গন্ধ সৃষ্টি করে। তালিকার প্রথম দিকটাতে সিগারেট থাকলেও আপনার দৈনন্দিন শরীরে ব্যবহৃত পারফিউমও কিন্তু বাদ পড়েনি। তবে গবেষকদের মতে এটাই একমাত্র ভয়ের ব্যাপার নয়। আসল ভয়টি হচ্ছে অন্য জায়গায়।
তাদের মতে, লিপ গ্লস থেকে শুরু করে, ডিটারজেন্ট, পারফিউমসহ আরো বেশকিছু দ্রব্য স্টাইরিন উত্পন্ন করে। এমনিতে হয়তো আলাদা আলাদাভাবে এরা খুব বেশি শক্তিশালী নয়। তবে একবার যদি এরা অনেকে একসাথে মিলিত হয় তাহলে ঠিক কতটা বেশি শক্তিশালী হয়ে পড়তে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।
এছাড়াও গবেষকদের মতে বেশিরভাগ নামী-দামী সুগন্ধীর উপাদানের তালিকাতেই থাকেনা এর ভেতরে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক উপাদানগুলোর নাম। ফলে সেগুলো সম্পর্কে অনঅবগতই থেকে যায় ব্যবহারকারীরা। এতে করে খুব অল্প পরিমাণে হলেও ধীরে ধীরে শুক্রাণু নষ্ট হওয়া, হরমোনের সমস্যা হওয়া থেকে শুরু হয়ে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার নামক মারাত্মক ব্যাধিটিও ( রোডেলস অরগানিক লাইফ )!
সম্প্রতি বেশকিছু সুগন্ধীকে নিয়ে পরীক্ষা চালান গবেষকেরা। আর শেষ অব্দি দেখতে পায় যে এদের প্রত্যেকটিরই ভেতরে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যেটার নাম কিনা উল্লেখই করা হয়নি লেবেলে! আর সুগন্ধীগুলো হল-
অ্যামেরিকান ইগল সেভেন্টি সেভেন, চ্যনেল কোকো, ব্রিটনি স্পেয়ার্স কিউরিয়াস, ওল্ড স্পাইস, কুইকসিলভার, কেলভিন ক্লেইন ইটার্নিটি, বাথ এন্ড বডি ওয়ার্কস জাপানিজ চেরী ব্লোসোম, হেলি বাই হেলি বেরী, হাননাহ মন্টানা সিক্রেট সেলিব্রেটি, ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ড্রিম এ্যাঞ্জেলস উইশ, এক্স বডি স্প্রে, ক্লিনিক হ্যাপি পারফিউম স্প্রে, ডলচে এন্ড গাবানা লাইট ব্লু ইত্যাদি। এদের প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ক্ষতিকারক উপাদানকে লুকিয়েছে ব্যবহারকারীদের চোখ থেকে। তবে এগুলোর ভেতরে আপনার সুগন্ধিটি নেই তারমানে এই নয় যে সেটি পুরোপুরি ভালো। কে জানে, সেটির ব্যবহারও দীর্ঘদিন পর আপনাকে করে দিতে পারে ক্যান্সারের মুখোমুখি।
এতকিছুতেও যদি আপনার বিশ্বাস না হয় তাহলে বহুল গবেষণা আর পরিসংখ্যানের পর ২০০৯ সালে প্রকাশিত টক্সিক বিউটি বুকের তথ্যটিই পড়ে দেখুন। সেখানে সুগন্ধীর নানারকম ক্ষতিকারক দিককে তুলে ধরা হয়। আর সেক্ষেত্রে সুগন্ধীর দুটি উপাদান ক্যান্সার তৈরিতে সাহায্য করে বলে জানানো হয় ( হাফিংটন পোস্ট )।
কি ভাবছেন? তাহলে কি আর সুগন্ধি ব্যবহারই করা যাবেনা? অবশ্যই করবেন। এক্ষেত্রে গবেষকরা বলেন, ব্যবহারের আগে সুগন্ধীর প্রকৃতি আর লেবেলের দিকে ভালোমতন নজর দিয়ে তবেই সেটা ব্যবহার করুন। তা না হলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়াতে পারবেন না। গবেষকরা বলেন, কেনার সময় ক্ষতি এড়াতে পারফিউমটি স্প্রে করে দেখে নেওয়া উচিত তা আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই কিনা। বিবেচনায় রাখা উচিত আপনার ত্বকের ধরনের দিকটাও। সাধারণত শুষ্ক ত্বকে পারফিউম দ্রুত মিলিয়ে যায়। তাই পারফিউমের স্থায়ীত্ব ধরে রাখতে ত্বকের আর্দ্রতার প্রতি যত্নশীল হওয়া দরকার। আবার অনেকের পারফিউমে এ্যালার্জি থাকে তাই কেনার আগেই এগুলো দেখে নিন।

কীভাবে ব্যবহার করবেন পারফিউম- কিছু পারফিউম আছে যা শরীরে মাখার কিছুক্ষণের মধ্যেই এর গন্ধ উবে যায়। এক্ষেত্রে সকলেই দোষ দেন পারফিউমকেই। অনেকেই আবার মনে করেন দামি পারফিউম হলেই বোধ হয় ঘ্রাণ বেশিক্ষণ থাকে। আসলে এই কথার কোনো ভিত্তি নেই। দামি পারফিউমের সঙ্গে দেহে সুগন্ধ ধরে রাখার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। আসলে শরীরে গন্ধ টিকিয়ে রাখা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কিভাবে পারফিউম ব্যবহার করলেন তার উপর। একটু কৌশল করে পারফিউম ব্যবহারে দেখবেন, দীর্ঘক্ষণ সুগন্ধে ঘিরে থাকবেন আপনিও।

পারফিউমের উপকরণ দেখে কিনুন পারফিউমের সুঘ্রাণ অনেকাংশে ধরে রাখে পারফিউমে ব্যবহৃত বিশেষ ধরণের তেল। এক্ষেত্রে পারফিউম এক্সপার্টরা জানান, নিজের পছন্দের পারফিউমের বোতলটি হাতে নিয়ে দেখুন। যদি এর উপকরণে তেলের মাত্রা বেশি থেকে থাকে তাহলে মাত্র ২/১ স্প্রেতেই আপনার দেহে সুগন্ধ থাকবে সারাদিন। আর যদি পারফিউমে পানি ও অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে কিছুক্ষণ পরই এর সুঘ্রাণ উবে যাবে।

পারফেক্ট পারফিউম চেনার উপায় পারফিউমের গায়ে ‘eau de parfum’ লেখা দেখে কিনুন এবং ‘eau de toilette’ লেখা পারফিউম এড়িয়ে চলুন।

চুলে ও কাপড়ে পারফিউমের ব্যবহার পারফিউমের সুঘ্রাণ অনেকটা সময় আপনার দেহে থাকবে যদি আপনি পারফিউম সঠিকভাবে ব্যবহার করেন। চুল এবং কাপড়ে পারফিউম ব্যবহার করলে অনেকটা সময় পারফিউমের সুঘ্রাণ ধরে রাখতে পারবেন। ত্বকে পারফিউম স্প্রে করলে তা কিছুক্ষণ পরেই উবে যাবে।

পারফিউম ঠাণ্ডা ও অন্ধকার স্থানে রাখুন পারফিউম কেমিক্যাল দ্বারা তৈরি। সুতরাং এটি খুবই স্বাভাবিক যে পারফিউম আলো এবং তাপে অক্সিডাইজ হয়ে যেতে পারে। অক্সিডাইজ হয়ে যাওয়া পারফিউমের ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যায় এবং তা দেহে বেশিক্ষণ থাকেও না। তাই যদি অনেকটা সময় দেহে পছন্দের পারফিউমের সুঘ্রাণ ধরে রাখতে চান তাহলে পারফিউমের বোতল রাখুন ঠাণ্ডা ও অন্ধকার স্থানে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s