উইম্বলডনে মারে-জকোভিচের বিদায়, সেমিতে ফেদেরার


Djokovic-maryএকেই বলে নক্ষত্রপতন। শুধু একটি নয়, জোড়া। অ্যান্ডি মারে এবং নোভাক জকোভিচ। টেনিস দুনিয়ার দুই অংশের রাজা বলা যায় তাদের দু’জনকে। একই দিনে উইম্বলডন থেকে বিদায় নিতে হলো দু’জনকেই। সেমিফাইনালেও উঠতে পারলেন না তারা। আগেই বিদায় নিয়েছিলেন রাফায়েল নাদাল। ফেবারিট চারের তিন মহাতারকাই বিদায় নিয়েছেন। বাকি রইল এক- রজার ফেদেরার। তিন তারকার বিদায়ে ফেদেরারের সামনে আরেকটি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের হাতছানি।
কোয়ার্টার ফাইনালেই ছিটকে যেতে হল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিটকে। বিশ্বের এক নম্বর বাছাই অ্যান্ডি মারেকে হারিয়ে অল -ইংল্যান্ড ক্লাবে অঘটন ঘটালেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ বছর বয়সী স্যাম কুয়েরি। কুয়েরির পক্ষে ফল ৩ -৬, ৬-৪, ৬-৭ (৪), ৬-১, ৬-১ সেট।
এরপর নাটকীয়ভাবে বিদায় নিতে হলো নোভাক জকোভিচকেও। তবে তার বিদায়টা দুঃখজনক। খেলে বিদায় নিলে এক কথা ছিল। বিদায় নিতে হয়েছে ইনজুরির কারণে।
চোটের জন্য টমাস বার্ডিচের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচই ছেড়ে দিতে হলো জোকারকে। প্রথম সেট ৬-৭ হেরে গিয়েছিল তিনি। দ্বিতীয় সেটেও পিছিয়েছিলেন ০-২ ব্যবধানে। আগের ম্যাচেই কাঁধের চোট ভুগিয়েছিল তাকে। তবে এদিন আর পারলেন না। ম্যাচের পর হতাশ জকোভিচ নিজেই বললেন, ‘কাঁধ নয়, আমার চোটটা কনুইয়ে। আর এটা আমাকে প্রায় দেড় বছর ধরে ভোগাচ্ছে। এ ভাবে উইম্বলডন থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে দেখে খুব খারাপ লাগছে। চেষ্টা করেছিলাম আজ চোটটা সামলে কোর্টে নামার। কিন্তু হল না।’
অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে মিলোচ রাওনিকের বিরুদ্ধে ৬-৪, ৬-২, ৭-৬ (৭) সেটে সহজেই জিতলেন তৃতীয় বাছাই রজার ফেদেরার। উইম্বলডনে নিজের শততম ম্যাচে ১ ঘন্টা ৫৮ মিনিটেই জয় পেয়েছেন রজার ফেদেরার। কানাডার মিলোচ রাওনিচকে ৬-৪, ৬-২, ৭-৬ গেমে হারিয়ে আসরের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেন ১৮টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী এ তারকা।
প্রথম দুটি সেটে ফেদেরারকে দুরন্ত দেখিয়েছিল। তার সামনে একেবারেই দাঁড়াতে পারেননি রাওনিক। তৃতীয় সেটে হল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ফেদেরারের সামনে এখন অষ্টম উইম্বলডন জেতার সুযোগ।
সেমিতে ওঠার পর তিনি বলেন, ‘খুব খুশি সেমিফাইনালে উঠে। এত বছর খেলার পরেও আমার শরীর যে এই ধকলটা নিতে পারছে, সেটা দেখেই দারুণ লাগছে। সেন্টার কোর্টে দেখলাম মেক্সিকান ওয়েভও উঠল। এ রকম দৃশ্য কিন্তু রোজ দেখা যায় না।’
বুধবার দিনের শুরুটা হয়েছিল অ্যান্ডি মারেকে দিয়ে। মোক্ষম সময়ে কোমরের চোটটা ধোঁকা দিয়ে বসে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়কে। যে ধাক্কায় উইম্বলডন অভিযান থেমে গেল গত বারের চ্যাম্পিয়নের। মারে চোটের পুরো ফায়দা তুলে মার্কিন তারকা স্যাম কুয়েরি ক্যারিয়ারে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনালে উঠে গেলেন।
প্রথম তিনটি সেটের মধ্যে দুটিতে জিতে এগিয়ে থাকলেও চতুর্থ ও পঞ্চম সেটে মারেকে ভুগিয়েছে নিতম্বের পেশির চোট। শেষ দুটি সেটে ১৩টি গেমের মধ্যে মারে জিতেছেন মাত্র একটি গেম। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘গোটা টুর্নামেন্টেই এই চোটটা আমাকে ভুগিয়েছে। এদিন আমি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। সব কিছু দিয়ার চেষ্টা করেছি। যা খেলেছি, তার জন্য গর্বিত। উইম্বলডনে হেরে যেতে খুবই খারাপ লাগে। এটা স্বাভাবিক। এবার আমার ভালো সুযোগ ছিল। এখন অবশ্যই হতাশ লাগছে।’
প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘স্যাম খুবই ভালো সার্ভিস করছিল। চতুর্থ ও পঞ্চম সেটে কোনও প্রথম সার্ভিস সে মিস করেনি। সেখানে আমি প্রথম সার্ভিসে সেই জোরটাই দিতে পারছিলাম না, যা ওকে কোনওরকম চাপে ফেলতে পারে। কাজেই সব পয়েন্টই শেষ দুটো সেটে ও নিয়ন্ত্রণ করছিল।’
মিয়ামিতে ২০১১ সালে আলেক্স বোগোমোলোভ জুনিয়র শেষ মার্কিন প্লেয়ার, যিনি হারিয়েছিলেন মারেকে। এর অর্ধযুগ পর স্যাম কোয়েরি। মারে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ায় এখন সঙ্কটে তার এক নম্বর র্যাংকিংও।
কোয়েরির মতোই জীবনে প্রথমবার উইম্বলডন সেমিফাইনালে উঠেছেন মারিন চিলিচ। প্রথম রাউন্ডে জয়ের পরে বলেছিলেন, তিনি সম্ভবত ঘাসের কোর্টে জীবনের সেরা টেনিস খেলছেন। তার ঠিক নয় দিন পরে উইম্বলডন সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলেন। ১১ বার উইম্বলডেন খেলে এই প্রথমবার। অথচ কোয়ার্টার ফাইনালে তার সামনে ছিলেন নাদালকে হারিয়ে চমকে দেওয়া জিল মুলার। তার কোচ জোনাস বর্কম্যান উইম্বলডন সেমিফাইনালে খেলেছিলেন ১৩ বারের চেষ্টায়।
শুক্রবার উইম্বলডন সেমিফাইনালে ফেদেরার মুখোমুখি হবেন টমাস বার্ডিচের। স্যাম কুয়েরি খেলবেন মারিন চিলিচের বিরুদ্ধে। গোরান ইভানিসেভিচ ও মারিও আনসিচের পরে তৃতীয় ক্রোয়েশিয়ান হিসেবে উইম্বলডন সেমিফাইনালে খেলবেন চিলিচ। বার্ডিচের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ফেদেরার বলেন, ‘বার্ডিচ আমার খুব ভাল বন্ধু। এবার তো সব নতুনদের চ্যালেঞ্জ সামনে। জানি না এই অভিজ্ঞতা কেমন হবে। তবে আমার এই স্বপ্নের দৌড় যেভাবে চলছে তাতে দারুণ খুশি।’
উইম্বলডনে নিজের ১০০তম ম্যাচে ৮৯ নম্বর জয়ের পরেও নিজের থেকে বেশি পরাজিত তারকাদের কথা তোলেন ফেদেরার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যে কোনও একজনের চোটটা লাগতে পারত। আশা করি নোভাক ঠিক আছে। ওর বড় কোনও চোট লাগেনি। অ্যান্ডি আর নোভাক ঠিক সময়ে চোট সারিয়ে আমেরিকান গ্রীষ্মের মওসুমের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে, এটাই আশা করছি।’
সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি নিশ্চিত রাফা দুরন্তভাবে ফিরে আসবে। আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম চিলিচ খুব ভাল খেলতে পারে। আমার কথাটা কিন্তু ও সত্যি করে তুলল।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s