অদ্ভুত চোর


thef, thip chor‘দিনে আমি রিকশা চালাই। এ সময় চুরি করি না। কিন্তু রাতে ঘুম আসে না। মন চায় চুরি করতে। চুরি করা অভ্যাস হয়ে গেছে।’ অকপটে কথাগুলো বললেন রবি (ছদ্মনাম)। তাঁর নেশা চুরি করা। বিভিন্ন সময়ে অন্তত ২২ বার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে অকপটে চুরির কথা স্বীকারও করেছেন তিনি। ভালো হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও অভ্যাস ছাড়তে পারছে না এই সত্যবাদী চোর।
গত শনিবার বিকেলে সর্বশেষ পিরোজপুর শহর থেকে চোরাই মালসহ রবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় সাপলেজা ইউনিয়ন। সাধারণত রবি ঘরের সিঁধ কেটে চুরি করেন বলে এলাকাবাসী তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিঁধেল’ যুক্ত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের নবী হোসেনের বাড়িতে চুরি হয়। শনিবার বিকেলে পিরোজপুর শহরের থানা সড়কে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার সময় পুলিশ রবিকে আটক করে। আটকের পর রবির সঙ্গে থাকা মঠবাড়িয়া থেকে চুরি করা নগদ ১৩ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁকে মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় গৃহকর্তা নবী হোসেন বাদী হয়ে রবিকে আসামি করে থানায় চুরির মামলা করেন। আজ রোববার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে করাগারে পাঠায় পুলিশ।
রবি আজ প্রথম আলোকে বলেন, মাঝেমধ্যেই চুরি করেন তিনি। সাধারণত মুঠোফোন ও ঘরের হাঁড়ি-পাতিল চুরি করা তাঁর অভ্যাস। তবে সুযোগ বুঝে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও চুরি করেন। চোরাই মালসহ পুলিশ অন্তত ২২ বার গ্রেপ্তার করেছে। কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে আবার চুরি করেন।
রবি আরও বলেন, ‘তিন বছর আগে এক বিচারক ভালো হওয়ার জন্য আমাকে জামিন দিয়ে একটি রিকশা কিনে দিয়েছিলেন।’
বেশ কয়েকবার চুরি করার ফলে অনেক পুলিশ কর্মকর্তার কাছেই বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন রবি।
পিরোজপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন বলেন, ‘মঠবাড়িয়া থানায় থাকার সময়ে আমি রবিকে কয়েকবার গ্রেপ্তার করি। গত শনিবার বিকেলে থানা সড়কে ঘোরাফেরা করার সময় তাঁকে ডেকে থানায় নিয়ে যাই। এরপর রবি স্বেচ্ছায় মঠবাড়িয়ার এক বাড়িতে চুরির কথা আমাকে জানায় এবং সঙ্গে থাকা চুরি করার মালামাল দেখায়।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে রবিকে চুরির অভিযোগে দুইবার গ্রেপ্তার করার পর সে চুরির কথা স্বীকার করেছিল। আমার ২৭ বছরের চাকরির জীবনে এ ধরনের অদ্ভুত চোর আর দেখিনি।’
রবি চুরি করেন। আবার তা স্বীকারও করেন। রবির এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে কথা হয় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক হেলালউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রবি ইমপালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার (তাড়না নিয়ন্ত্রণে অপারগতা) নামের একটি মানসিক রোগে ভুগছেন। তাঁর চিকিৎসা দরকার। তাঁকে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিতে হবে।’ হেলালউদ্দিন বলেন, ‘তাঁকে কোনো শাস্তি দিয়ে রোগমুক্ত করা যাবে না। তাঁকে ওষুধও খাওয়াতে হবে।’
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি রবিকে আদালতে সোপর্দ করেছি। তাই তাঁর চিকিৎসার বিষয়টি আর আমার এখতিয়ারে নেই। এখন কারা কর্তৃপক্ষ চাইলে চিকিৎসা করতে পারে।’
পিরোজপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক শামীম ইকবাল বলেন, ‘কারাগারে রবির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s