বাস ডাঙায় চলে, জলেও ভাসে


uvoychor busড্যানিউব নদীর উপর নৌকাবিহার নতুন কিছু নয়- কিন্তু হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট শহরে তাতে আরো একটি মাত্রা যোগ হয়েছে: বাসে চড়ে নৌকাবিহার! শহরের কেন্দ্র থেকে যখন যাত্রা শুরু হয়, তখন মনে হবে আর পাঁচটা বাসের মতোই। এ বাস কিন্তু ডাঙাতেও চলে, আবার জলেও চলে – অর্থাৎ একটি অ্যাম্ফিবিয়ান বা উভচর যান। ঠিক সেই কারণেই পর্যটকরা এই অভিনব সাইটসিইং টুর পছন্দ করেন, জানেন টুর গাইড রেজিনা বোডর।
একে তো জলচর বাসে চড়ার অভিজ্ঞতা, তার উপর আবার নদী থেকে বুদাপেস্ট দেখা, যা কিনা এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। মনে রাখতে হবে, ড্যানিউব নদীর এই প্যানোরামা ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে।
দেড় ঘণ্টার টুরে বাসটা প্রথমে বুদাপেস্টের প্রাচীন অংশে যা কিছু দেখবার মতো, তা ঘুরে দেখায়- ঠিক অন্যান্য টুরিস্ট বাসের মতোই- যেমন সেন্ট স্টেফানের বাসিলিকা বা গির্জা, যেখানে অন্যান্য রাজারাজড়া ও সাধুসন্তের সঙ্গে হাঙ্গেরির ফুটবলের কিংবদন্তি ফেরেঞ্চ পুস্কাসেরও সমাধি রয়েছে। শেষমেষ বাস চলে নদীর দিকে: এ বাস যে শীঘ্রই স্টিমার হয়ে যাবে, সেটা অনেক যাত্রীর কাছে ভয়ের ব্যাপার বৈকি। তাদের প্রতিক্রিয়াও তাই বলে: এক যাত্রী বলছেন, ড্যানিউবে আজ বেশ ঢেউ আছে। বাস সেই ঢেউ সামলে যেতে পারবে, নাকি ডুবে যাবে, কে বলবে।
এক হিসেবে সিটি ট্যুরের এটাই হল ক্লাইম্যাক্স, বাসটা যখন ৭০ মিটার লম্বা র‌্যাম্প ধরে জলে নামে। সঙ্গে উচ্চৈঃস্বরে আবহসংগীত, তারপর- ঝপাস! যাত্রীরা আশ্বস্ত- বাস সত্যিই জলে চলতে পারে। বাসচালক টামাস নাহোচকি মজা করে বললেন, ডাঙায় চলে ঠিক বাসের মতো- ছটা চাকা আর ইঞ্জিন, সবই আছে। আবার জলের ওপর বাসটা চলে একটা সুবিশাল জেট-স্কির মতো- তবে অতটা জোরে নয়।
অন্য চোখে : ওদিকে টুরিস্টরা একটা সম্পূর্ণ অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে বুদাপেস্টকে দেখছেন – ড্যানিউবের এই দ্বীপটির নাম রাখা হয়েছে রাজকন্যা মার্গারেটের নামে। তাঁর বাবা রাজা চতুর্থ বেলা রাজকন্যাকে এই দ্বীপের ডমিনিকান যাজকদের মঠে পাঠিয়েছিলেন যুদ্ধজয়ের পর, ঐশ্বরিক কৃপার জন্য মানত হিসেবে। মার্গারেটে এই দ্বীপেই দেহ রাখেন, মাত্র ২৮ বছর বয়সে। দ্বীপটিতে শুধু পর্যটকরাই নন, বুদাপেস্টের বাসিন্দারাও হাওয়া খেতে আসেন।
ড্যানিউবের দু’পারে রয়েছে বুদাপেস্ট শহরের বুদা আর পেস্ট, এই দু’টি অংশের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল। বুদায় দেখতে পাওয়া যাবে হাঙ্গেরির বৃহত্তম ভবন, একটি প্রাসাদদুর্গ। পেস্টের দিকের তীর জুড়ে রয়েছে ২৬৮ মিটার দৈর্ঘের সংসদ ভবন, যা লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারের অনুকরণে তৈরি করা হয়- নির্মাণের কাজ শেষ হয় ১৯০৪ সালে।
কফিহাউস : অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় হাব্সবুর্গ সাম্রাজ্যের আমল থেকে চলে আসছে বুদাপেস্টের কফিহাউসগুলোর ঐতিহ্য। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বুদাপেস্টের কোণায় কোণায় গজিয়ে উঠেছিল এ ধরনের কফি পানশালা। সেগুলো ছিল লোকজনের দেখাসাক্ষাৎ করার, আড্ডা দেবার জায়গা। তাদের মধ্যে কয়েকটি ঐতিহাসিক কফিহাউস আজও বেঁচে রয়েছে, যেমন পেস্টের পুরনো শহর এলাকার জ্যার্বো কফিহাউস, যার উদ্বোধন করা হয় ১৮৫৮ সালে।
কাফে জ্যার্বোর মার্কেটিং প্রধান আনা নিসকাচ বলেন, ‘‘বুদাপেস্টে কফিহাউসের প্রথা চলে আসছে বহুদিন ধরে। কমিউনিস্ট আমলে তা কিছুটা কমে এসেছিল, কিন্তু এখানকার মানুষজন চিরকালই কাফেতে যেতে ভালোবাসেন। কাফেতে নানা দেশের, নানা ভাষার মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে আলাপ করা যায়। ’’
ভাসন্ত বাস আবার ডাঙায় ফিরেছে, পর্যটকরা খুশি – বাড়িতে ফিরে বাসে চড়ে নৌকাবিহারের কাহিনি শোনাতে কারই বা না ভালো লাগবে!

ভিডিও

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s