‘মাল্টিটাস্কিং’ নিয়ে কিছু কথা


multi-tasking-over-worked.jpg‘মাল্টিটাস্কিং’ বলতে সাধারণত একসঙ্গে কয়েকটি কাজ করার বিষয়টি বোঝায়। জীবনে কিছু সময় আসে, যখন একযোগে একাধিক কাজ জরুরি হয়ে ওঠে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ফেসবুক চ্যাট, হাতে রান্নার খুন্তি – এমন দৃশ্য তেমন বিরল নয়৷ কিন্তু এমন ‘মাল্টিটাস্কিং’ নাকি স্মৃতিভাণ্ডারের জন্য মোটেই ভালো নয়৷
অনেক গবেষণা অবশ্য বলছে, মাল্টিটাস্কিং আসলে কার্যকর কোনো পদ্ধতি নয়, বরং এতে অনেক সময় কাজের বারোটা বাজে। স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি।
অনেক কাজ একসাথে করার সময় আসলে আমাদের মস্তিষ্ক এক কাজ থেকে আরেক কাজে লাফিয়ে বেড়ায়। এর ফলে বাস্তবে আমাদের কার্যক্ষমতা কমে আসছে। শুধু তাই নয়, মাল্টিটাস্কিং করতে গিয়ে বাড়ছে আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের পরিমাণ। এতে ধোঁয়াটে হয়ে পড়ছে আমাদের চিন্তাধারা।
এরপর মাল্টিটাস্কিং করতে হলে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত

যখন মাল্টিটাস্কিংয়ে ব্যস্ত
একই দিনে কয়েকটি বিষয় নিয়ে ভাবা যেতে পারে। এতেই অনেকে ভাবছেন, তিনি মাল্টিটাস্কিং করছেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, সে সময়ে হয়তো ব্যক্তি দুটি কাজ একযোগে করছিল না, বরং একটি রেখে আরেকটি করছিল।
নিউরোসায়েন্টিস্ট আর্ল মিলার জানান, আসলে খুব দ্রুত একটি কাজ থেকে চিন্তা অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এটি এত দ্রুত হতে পারে যে মনে হবে, দুটি কাজ একসঙ্গে চলছে। কিন্তু মস্তিষ্ক এটি পারে না কেন? কারণ যে দুটি কাজ চলছে, তার পেছনে মস্তিষ্কের একই অংশ হয়তো ব্যস্ত রয়েছে। যদি ই-মেইল লিখতে লিখতে ফোনে কথা বলতে হয়, তাহলে বোঝা যাবে এটি কতটা কঠিন বিষয়।

মাল্টিটাস্কিংয়ে সক্ষম ২ শতাংশ
বিজ্ঞানীদের চোখে এরা ‘সুপারটাস্কার’। অর্থাৎ অনেকটা সুপারম্যানের মতো। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশের এমন বিস্ময়কর গুণ থাকতে পারে। তাই অল্পতেই কেউ নিজেকে এই কাতারে ফেললে ভুল করতে পারে।

নারীরা এগিয়ে
বিএমসি সাইকোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাল্টিটাস্কিংয়ের মতো জটিল ক্ষমতা পুরুষদের চেয়ে নারীদের বেশি। কিন্তু কেন? বলা হচ্ছে, এর পেছনে প্রাচীন সমাজব্যবস্থার অবদান রয়েছে। তখন নারীরা বাচ্চাদের দেখাশোনার পাশাপাশি ঘরের কাজ করত। একাধিক কাজের দেখভাল তাদের হাতেই ছিল।

বয়সের সঙ্গে কমতে থাকে
গবেষণায় দেখে গেছে, বিশের কোঠায় এ গুণ বিকশিত হতে পারে। আর ষাটের কোঠায় তা হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এ ছাড়া এমনিতেও বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে আসে। কাজেই একই সময়ে একাধিক কাজের ক্ষমতা চলে যাওয়া স্বাভাবিক।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s