ভারত খুলে দিল গজলডোবা, বন্যায় ভাসছে উত্তরাঞ্চল


tistaগত পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে ফুলেফেঁপে উঠছে তিস্তা ও যমুনাসহ উত্তরাঞ্চলের সব নদ-নদী। এর মধ্যে ভারত গজলডোবা ব্যারাজের ৫৪টি স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় বন্যায় ভাসছে দেশের উত্তরাঞ্চল। সাথে যোগ হয়েছে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির ঢল। এতে পানি বেড়ে ভয়াল রুপ ধারণ করেছে নদীগুলো। বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ভাসছে তীরবর্তী এলাকার লাখ লাখ মানুষ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফের বন্যাকবলিত হওয়ায় কষ্টের যেন শেষ নেই উত্তরাঞ্চলের বানভাসী মানুষের। ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তা কিংবা বাঁধে অবস্থান করছে অসংখ্য পরিবার। আঞ্চলিক পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বলছে আগামী কয়েকদিনে পানি আরও বাড়তে পারে। গতকাল রোববার সকালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অব্যাহত রয়েছে পানি বৃদ্ধি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি সূত্র জানায়, ভারত তার গজলডোবা ব্যারাজের ৫৪টি স্লুইসগেট খুলে দিয়েছে। গজলডোবা ব্যারাজের উজানে ভারতের দো-মোহিনী পয়েন্টে কয়েক দিন ধরে অবিরাম বর্ষণ হচ্ছিল। সেই সঙ্গে নামে পাহাড়ি ঢল। চাপ সামলাতে গজলডোবার সবকটি গেট খুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, দিনাজপুর, রংপুর ও নওগাঁ জেলা এখন ভাসছে বন্যার পানিতে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ পরিবার। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে এসব এলাকায়। সিরাজগঞ্জে ভাঙনের কবলে পড়ে যমুনায় বিলীন হয়েছে ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চৌহালী বাঁধের ৪০ মিটার। যে বাঁধটি এই ১৩ বার ভাঙনের কবলে পড়ল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে সরকার।

নীলফামারী : নীলফামারীর সৈয়দপুরের খড়খড়িয়া নদীর বাঁ তীরে পশ্চিম পাটোয়ারীপাড়া এবং বসুনিয়া এলাকায় শহররক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে আশপাশের মানুষ। অনেকে গরু-ছাগল ও বাড়ির আসবাব নিয়ে দিগি¦দিক পালাতে থাকে। ওই এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে সৈয়দপুর উপজেলা সদরের কুন্দল, পাটোয়ারীপাড়া, নয়াবাজার, সুড়কিমিল, কাজীপাড়া, হাতিখানা, নতুন বাবুপাড়া, মিস্তিরিপাড়া এবং বাঁশবাড়ি মহল্লা প্লাবিত হয়। এসব এলাকার কোথাও কোথাও কোমরপানি। সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও যেকোনো সময় বন্যার পানি ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট লোকজন। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বজলুর রশীদ জানান, বন্যার ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কাশিরাম ও খাতামধুপুর ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান, সিংঙ্গীমারী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রেললাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। গতকাল রোববার সকালে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের সব (৪৪টি) গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তিস্তা ব্যারেজ রক্ষার বাইপাস সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করছে।

কুড়িগ্রাম : একইভাবে ধলাই ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ায় ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রামের সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল রোববার সকালে ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১১২ সেমির ও চিলমারি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২৫ সেমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বেড়ে কুড়িগ্রামের ৫০টি ইউনিয়নের ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ৪১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের চরাঞ্চলের বেশকিছু ঘরবাড়িতে দ্বিতীয় দফা পানি ঢুকেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদরের যাত্রাপুর, আঠারঘড়িয়া, বারোঘড়িয়া, হেমেরকুঠি, জগমোহনের চর, চর জয়কুমরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ধরলার ভাঙনে বাংটুর ঘাট, হেমেরকুঠি, সারোডোব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে।

গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গতকাল রোববার সকাল ৬টায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯ সেমি ও ঘাঘট নদীর পানি শহররক্ষা বাঁধ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮ সেমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নদ-নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে কয়েকদিন থেকে গাইবান্ধার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। আগামী কয়েকদিনেও নদ-নদীগুলোতে ব্যাপক পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯ সেমির উপরে, ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৮ সেমির উপরে, করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে ৫০ সেমির নিচে ও তিস্তা নদীর পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ২৫ সেমির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের ফুলছড়ি পয়েন্টের রেকর্ড কিপার (পানি পরিমাপক) মো. আজিজার রহমান বলেন, সকাল ছয়টায় ফুলছড়ি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৯ সেমি রেকর্ড করা হয়।

সিরাজগঞ্জ : অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেমির উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীতে পানি বেড়েই চলেছে। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ করতোয়া, গুমানী, হুরাসাগর, ফুলজোড় নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন করে আবারও বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের ডাটা এ্যান্ট্রি অপারেটর আবুল কালাম আজাদ জানান, গত শনিবার সকাল থেকে গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় (সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা হার্ড পয়েন্ট এলাকায়) যমুনা নদীর পানি ৩৪ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৪ সেমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, ভারতের আসামে বন্যা হওয়ার কারণে যমুনার পানি আরও ৪-৫ দিন বাড়বে। এতে দ্বিতীয় দফায় সিরাজগঞ্জে ফের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের টঙ্গন, সেনুয়া ও শুক নদীসহ আঞ্চলিক নদীগুলোতে গতকাল রোববার সকাল থেকে পানি বিপৎসীমার ৪০ মিলিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির এ অব্যাহত বৃদ্ধিতে জেলার প্রায় ১ হাজার গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

জামালপুর : জামালপুরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বেড়ে গতকাল রোববার সকাল থেকে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৪ সেমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার উলিয়া, পার্থশী, চিনাডুলী, কুলকান্দি, সাপধরী, চুকাইবাড়ি, নোয়ারপাড়া, দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ, চিকাজানী এবং মেলান্দহের মাহমুদপুর ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১১টি বিদ্যালয়।

দিনাজপুর : দুদিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দিনাজপুরের প্রধান নদীগুলো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত দুদিনে ৪৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে বেশি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে মাহুতপাড়ায় বাঁধ ভেঙে একটি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন গতকাল রোববার সকালে জানান, পুনর্ভবা ও আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার করতোয়া, ঢেপা, ছোট যমুনাসহ অন্যান্য নদীর চিত্রও একই। বেশকিছু এলাকায় পানি ঢুকে প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের লোকজন গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
এদিকে দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ৪৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ১০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, অবিরাম বৃষ্টিতে দিনাজপুরে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমির আমন চারা ও বেশকিছু পুকুর ডুবে গেছে। এতে মৎস্যচাষিদের বেশ ক্ষতি হয়েছে। পাউবো জানায়, বাংলাদেশের উজানের তিনটি অববাহিকায় (গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা) মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় গত তিন দিন থেকে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে এই অববাহিকার নদীগুলোর ভারতীয় অংশে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রংপুর : কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা ও ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি অস্বভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বন্যা। জেলার গঙ্গাচড়া, পীরগাছা, কাউনিয়া ও বদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা, ডুবে গেছে রোপনকৃত আমনখেতসহ বিভিন্ন ফসল। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মানুষজন। প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্নেয়া, আলমবিদিতর, লক্ষ্মীটারী, কোলকোন্দ, লোহানী, গজঘন্টাসহ সদর ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা, শংকরদহ, চর ইশোরকুল, গান্নারপাড়, গোল্লারপাড়, চর মটুকপুর, চিলাখাল, বিনবিনা, হাজিপাড়াসহ অর্ধশত গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানিবন্দি লোকজন তাদের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পানির নিচে ডুবে গেছে সদ্য রোপণ করা জমির আমন ধানের খেতসহ সবজি ও মরিচ খেত। লোকজন ও পশু-পাখি নিয়ে অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষজন বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে পড়েছেন। এছাড়া বদরগঞ্জে শহররক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন লোকজন। স্থানীয়রা কালাগাছ ও বালুর বস্তা দিয়ে ফাটল ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, গত ৩ দিনে ৩৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নওগাঁ : নওগাঁর মান্দার আত্রাই নদীর উভয় তীরে বেড়িবাঁধের দুই স্থান ভেঙে প্রায় দুইশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় ১০০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। উপজেলার নূরুল্ল্যাহবাদ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রোববার আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৮০ সেমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় নূরুল্ল্যাবাদ গ্রামে আত্রাই নদীর বাম তীরে এবং দুপুর ১২টায় নূরুল্ল্যাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামে আত্রাই নদীর ডান তীর ভেঙে যায়। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আত্রাই নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে সকাল থেকে ওই দুই এলাকা হুমকির মুখে পড়ে। একপর্যায়ে পানির চাপে তা ভেঙে যায়। এতে দুইটি এলাকার প্রায় দুইশ পরিবার পানিবন্দি এবং প্রায় ১০০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে জেলার ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১২০ সেমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং মান্দার জোতবাজারে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৮০ সেমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, মূল বাঁধ এখনও অক্ষত আছে। কোথাও কোনো ভাঙার ঘটনা ঘটেনি। কোথাও কোনো সমস্যা না হয় এ জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলেও জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ : বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে সুনামগঞ্জে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ছে মানুষজন; বিশেষ করে উপজেলার শতাধিক গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ এবং তাহিরপুর উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষ। তলিয়ে গেছে সাড়ে চার হাজার হেক্টর রোপা আমন। গতকাল রোববারও জেলার আটটি উপজেলার ১ হাজার ২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষা হয়নি। একই সঙ্গে জেলার ৩১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গতকাল পাঠদান বন্ধ ছিল। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৩ সেমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় বন্যার্ত ব্যক্তিদের জন্য ১৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

বড় আকারের বন্যার আশঙ্কা

bristi map

দ্য ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের (ইসিএমডব্লিউএফ) আগামী ১০ দিনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস।

আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয় (ইউএনআরসিও) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ গবেষণা কেন্দ্রের (জেআরসি) বৈশ্বিক বন্যা সতর্কতা পদ্ধতির (গ্লো-এফএএস) বিশ্লেষণ করে এই সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অঞ্চলগুলোতে ১১ আগস্ট শুক্রবার থেকে পানি বাড়ছে এবং ১৯ আগস্ট পর্যন্ত এই পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হবে। গত ২০০ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাসে ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার উজানে বন্যার মাত্রা সবচেয়ে ভয়াবহ হবে।
দ্য ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের (ইসিএমডব্লিউএফ) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে হিমালয়ের দক্ষিণাঞ্চলে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে করে ব্রহ্মপুত্রের ভারত ও বাংলাদেশ অংশে পানি বাড়বে।
জেআরসির বৈশ্বিক বন্যা সতর্কতা পদ্ধতির (গ্লো-এফএএস) গত ১০ আগস্টের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পুরো অববাহিকা এবং গঙ্গার ভাটিতে গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। আর ব্রহ্মপুত্রের উজানে গত ২০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে।

Advertisements

About Emani

I am a professional Graphic designers create visual concepts, by hand or using computer software, to communicate ideas that inspire, inform, or captivate consumers. I can develop overall layout and production design for advertisements, brochures, magazines, and corporate reports.
This entry was posted in News (খবর). Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s