প্রাকৃতিক ওষুধ আমড়া বাচাবে ক্যান্সার থেকেও


amra Hog-plumআমড়া সহজলভ্য এবং দামেও সস্তা। এতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। নানা রোগের চিকিৎসায় আমড়া ও আমড়াগাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহৃত হয়। গাছের পাতা, ছাল, শিকড় ও বীজের নানা রকমের ঔষধি গুণ আছে। একে প্রাকৃতিক ওষুধও বলা হয়।
বাংলাদেশে পুষ্টিকর এই ফলটির দুটি প্রজাতির চাষ হয়। দেশি আমড়া ও বিলাতি আমড়া। তবে দেশি আমড়ার চাষ ইদানীং একেবারেই কমে গেছে। এর স্থান দখল করে নিয়েছে বিলাতি আমড়া। বিলাতি আমড়া দেশি আমড়ার মতো টক নয়। এটি খেতে টক-মিষ্টি স্বাদের। এতে শাঁস বেশি, আকারেও বড়। বিলাতি আমড়া কাঁচা খাওয়া হয়। বিলাতি ও দেশি দুই’ধরনের আমড়া থেকেই সুস্বাদু আচার, চাটনি এবং জেলি তৈরি করা যায়। তরকারি হিসেবে রান্না করেও আমড়া খাওয়া যায়।
আমড়ায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব হয়।

পুষ্টিতথ্য
আমড়ায় ৬৫ থেকে ৮৫ শতাংশ জলীয় অংশ থাকে। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ায় রয়েছে ০.৬ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম স্নেহ, ৮ থেকে ১০.৫ গ্রাম সুক্রোজ বা শর্করা, ৬.৮ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ০.৭ গ্রাম আঁশ বা ফাইবার ও ৫.৭ গ্রাম ক্যালসিয়াম। সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’, আয়রন ও নিয়াসিনও আছে অল্প পরিমাণে।

স্বাস্থ্যতথ্য
কম খাদ্যশক্তিসম্পন্ন এবং ভিটামিন ‘সি’র উৎস হওয়ায় বেশি পরিমাণে খাওয়ায় বাধা নেই।
* ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
* ডায়াবেটিস রোগে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।
* ডায়রিয়াসহ পেটের অন্যান্য পীড়া নিরাময়ে আমড়াগাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার হয়।
* আমড়াগাছের ছালে ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণ প্রতিহত করার উপাদান রয়েছে।
* গবেষণায় দেখা গেছে, এর বীজ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
* ভিটামিন ‘সি’ বেশি থাকায় সর্দি-কাশি নিরাময়ের জন্য উপকারী।
* আমড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ঔষধি গুণ
* আমড়াগাছের পাতা থেকে তৈরি চা জ্বর ও ব্যথা দূর করে।
* এটি হজমেও সাহায্য করে।
* আমড়ার পাতা ও শিকড় ঘাজনিত ক্ষত সারাতে ব্যবহার করা হয়।
* গাছের ছাল চর্মরোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
* এই গাছের ফুল হৃদরোগের চিকিৎসায় কাজে লাগে।
* আমড়ার পাতা কৃমিনাশক।

ব্যবহার
কাঁচা অথবা পাকা আমড়া ফল হিসেবে খাওয়া যায়। এ ছাড়া আমড়া দিয়ে আচার ও জেলি তৈরি করেও খাওয়া যেতে পারে। অনেকে আমড়ার জুস তৈরি করে তার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। চা তৈরি করতে চাইলে আমড়াগাছের পাতা আগে ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে পরে গুঁড়া করে ব্যবহার করতে হবে। আমড়াগাছের পাতা সিদ্ধ করে তরল অংশটুকু লোশন ও প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সতর্কতা :
গর্ভবতী নারীদের আমড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এতে গর্ভনিরোধক উপাদান রয়েছে।

Advertisements
This entry was posted in Computer (কম্পিউটার), Helth (স্বাস্থ). Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s